ছুটির দিনে জমজমাট ঈদবাজার

সৈয়দ অদিত ও নজরুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৯ জুন ২০১৭, ২১:০৯ | প্রকাশিত : ০৯ জুন ২০১৭, ২০:৪৩

নিজের বা প্রিয়জনের জন্য নতুন পোশাক বিশেষ করে ঈদুল ফিতরে না হলে চলে? ঈদের আগে বিপনিবিতানগুলোতে তাই ঢু দিচ্ছে মানুষ। সাপ্তাহিক ছুটির দিন বলে শুক্রবার এই ভিড় অন্যান্য দিনের তুলনায় ছিল উপচেপড়া। কেনাবেচাও চলছে দেদারসে।

বিক্রেতারা জানান, রোজার প্রায় অর্ধেক এরই মধ্যে চলে গেছে। মাসের শুরুতে বেতন হাতে পাওয়ায় মানুষের হাতে বেশ টাকা পয়সাও আছে। তাই কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। তবে সামনের সপ্তাহে বোনাসের টাকা হাতে পেলে শুরু হবে আসল কেনাকাটা।

বসুন্ধরা সিটির চিত্র

রোজার শুরু থেকেই রাজধানীর কারওয়ানবাজার, পান্থপথ এলাকায় ছুটির দিনগুলোতে ব্যাপক যানজট তৈরি হচ্ছে। মূলত বসুন্ধরা সিটিতে আসা ক্রেতাদের চাপেই এই অবস্থা। শুক্রবার ক্রেতাদের ভিড়ের পাশাপাশি যানজট ছিল আরও বেশি।

বসুন্ধরা সিটিতে ঢুকলে নামিদামি ব্র্যান্ড ছাড়াও দেশি-বিদেশি পোশাক পাওয়া যায় বলে এখানে ভিড় বেশি। এখানে আড়ং, দেশি দশ, ইয়োলো, স্মার্টটেক্সসহ বেশ কয়েকটি দোকানে ক্রেতার ভিড়ের কারণে ঢুকাই কঠিন হয়ে পড়ে বিকালের দিকে।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবে, এমন সময় কোথায়?। কারো হাতে যে সময় নেই! কেউ ব্যস্ত টাকা গোনায়, কেউ ব্যস্ত দর কষাকষিতে, কেউ ক্রেতার কেনা পণ্য প্যাকিং নিয়ে, আবার কেউবা নতুন ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে ব্যস্ত।

অনেক ব্যস্ততার মাঝে কিছুটা সময়ের জন্য কথা বলতে রাজি হন মাইসা ওয়ার্ল্ডের ইনচার্জ কাজল। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘প্রথম রমজান থেকে দশ রমজান পর্যন্ত বিক্রি খুব একটা হয়নি। দোকানদারদের অসহায়ের মতো ক্রেতার আশায় বসে থাকতে হয়েছে। আজকে থেকে আল্লার রহমতে খুব বিক্রি হচ্ছে।’

শুক্রবার বন্ধের দিন হওয়াতে বিক্রি বেড়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কাজল বলেন, ‘রমজানের প্রথম শুক্রবারে এত বিক্রি হয়নি। আশা করি আজ থেকে ঈদের বিক্রির ধারাবাহিকতা শুরু হয়ে গেছে।’

বসুন্ধরায় মেয়েদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে ফ্লোরটাচ গাউন বা ব্রাইডাল গাউন, সারারা, ক্যাপ গাউন, নরমাল পার্টি গাউন, লং গাউন বুটিকস্, লং কামিজসহ বিভিন্ন নামের চোখধাঁধানো পোশাক। যার মধ্যে ব্রাইডাল গাউন ও সারারা পোশাকের প্রতি মনোযোগ বেশি দিচ্ছেন তরুণীরা।

সানজিদা কুমকুম ও তাজকিরা দুই বন্ধু মিলে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন বসুন্ধরা সিটিতে। দুজনই ব্রাইডাল গাউন কিনেছেন। কেন গাউন কিলনেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তাজকিরা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা দুই বন্ধুই ঈদে ম্যাচিং করে পোশাক কিনি। এবারও তাই করলাম। গাউনটা দেখতে সুন্দর এবং পরলে আমাদের মানাবে বেশ। ঈদের পর অনেক বিয়ের অনুষ্ঠান থাকে তাই ব্রাইডাল গাউন কিনলাম, ঈদ ও পার্টি দুটাতেই পরা যাবে। ’

‘বোম্বে গাউন’ এটাকে আবার কেউ বলছেন ফ্লোর টাচ গাউন, আবার কেউ কেউ বলছেন ‘ব্রাইডাল গাউন’। এ পোশাকটি মূলত পাশ্চাত্য ঢঙের। তবে ডিজাইনে কিছুটা পরিবর্তন ও পোশাকের সামনের দিকে জমকালো কারুকাজ দিয়ে একে ভারতীয় ঘরানার করা হয়েছে।

আর বলিউড গাউনের বড় বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- লম্বা ঝুল। অতিরিক্ত ঝুলের কারণে পোশাকের নিচের দিকের অনেকংশ মাটিতে ছড়িয়ে থাকে। এ কারণেই এর আরেক নাম ‘ফ্লোর টাচ গাউন’।

এ গাউন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার  টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বোম্বে গাউনের মূল ডিজাইন হচ্ছে, এটি হাতাকাটা বা স্লিভলেস। গলা থেকে কিছুটা নিচে জমকালো জড়ি ও স্টোনের কাজ। গাউনের নিচের দিকে নানা রংয়ের শিফন বা জর্জেট কাপড়ের কাটপিস জুড়ে দেয়া। বিভিন্ন দোকান ঘুরে কিছু গাউনের নিচে সেলাই করা আবার কিছু গাউনের নিচে পাড় লাগানো ফ্যাশন দেখা গেছে।

ঈদে প্রধান কেনাকাটার আকর্ষণ থাকে পরিবারের ছোট বাচ্চাদের ঘিরে। মেয়ে বাচ্চাদের পোশাক অনেকটা তরুণীদের পোশাকের ঢংয়ে বানানো হয়েছে। বাচ্চাদের ক্রেজ গাউন, পিকু, আর ফ্রগ ঘিরে।

মাইসা তার খালামনিকে ফোন করে জানিয়েছে, ঈদে তার জন্য যেন পিকু ড্রেস কিনে দেন। তাইতো খালা তন্নি কয়েক দোকান ঘুরে তাঁর বোনের মেয়ের জন্য লাল রঙয়ের তিন হাজার টাকার পিকু কিনেন।

তন্নি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমার বোনের মেয়েটা টিভিতে দেখেছে পিকু ড্রেস, এর জন্য তার পিকু ড্রেস লাগবে। তাইতো ফোন দিলেই বলে খালামনি আমার জন্য পিকু ড্রেস নিয়া আইসো।’ 

ছেলে বাচ্চাদের ক্রেজ পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, পলো-শার্টকে ঘিরে। পাঞ্জাবির মধ্যে আড়ং ও দেশি দশের দশটি ব্র্যান্ডের সুতির পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে।

নিউমার্কেটের চিত্র

দুপুর থেকেই ভিড় বাড়তে শুরু করে রাজধানীর নিউমার্কেটে। বিকাল গড়তে না গড়তেই বাড়তে শুরু করে ক্রেতা সমাগম। বিশেষ করে শাড়ি, থ্রি-পিসের দোকানে তুলনামূলক ভাবে আনাগোনা বেশি দেখা গেছে। অলঙ্কারের দোকানেও ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

তবে নিউমার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী আকবর আলী ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘আজকে থেইকা বেচা বিক্রি ভালো কইরা শুরু হওনের কথা। কিন্তু সকাল থেইকা অহন (দুপুর) পর্যন্ত হাজার দশেক টেকাও বেচবার পারি নাই। কাস্টমার আহে আর কাপড় দেইখা যায়গা। গত কয়েক বছরেও এত কম কাস্টমার দেহি নাই। অহন এমন অবস্থা হইসে লসে পইড়া ৬০০ টাকার মাল ৫০০ টাকায় বেচন লাগতাসে।’

কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হানিফ রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এখনো পুরোপুরিভাবে কেনাকাটা শুরু করিনি। এখনও তো বেশ খানিকটা সময় রয়েছে কেনাকাটা করার মত। তবে গতবারের তুলনায় এবার বিক্রেতারা পোশাক পরিচ্ছেদের দাম বেশি চাচ্ছে।’

মেয়েদের পোশাকের দোকানে ভিড় বেশি

এছাড়াও রাজধানীর চাঁদনি চক ও গাউসিয়া বিপণি বিতান ঘুরে দেখা গেছে, ১০ রমজানের পর ভিড় বেড়ে গেছে ক্রেতাদের। আর ক্রেতাদের এমন পদচারণায় খুশি বিক্রেতারাও। তবে ঈদ উৎসব উদযাপন উপলক্ষে প্রথম দিকে নারী ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা থ্রি-পিস, কামিজ ও শাড়ির বেচাবিক্রি এবার কিছুটা কম বলে জানালেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী।

বিক্রেতারা জানান, এবারও ভারতীয় বিভিন্ন সিরিয়ালের নাম বলে সেই সব সিরিয়ালের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পরনের পোশাক কিনতে চাইছেন। এর মধ্যে দীপ জ্বেলে যাই, ছদ্মবেশী, সেই ছেলেটা ভেলভেলেটা, জড়োয়ার ঝুমকো অন্যতম। উল্লেখ্য, এসব সিরিয়াল ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে বিরতিহীনভাবে প্রচারিত হয় আর এর প্রধান দর্শক প্রায় সব বয়সী নারী।

চাঁদনি চক মার্কেটের শাড়ি ও থ্রি-পিস ব্যবসায়ী এনামুল হক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এখনো পুরোদমে বেঁচাকেনা শুরু হয়নি। ১৫ রোজার পর থেকে ভিড় বাট্টা আরও বাড়বে। তবে কেনার মত ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম বলে জানান তিনি।’

এবারে ছেলেদের পাঞ্জাবির প্রধান আকর্ষণ সুলতান, বাহুবলী, সুলেমান ইত্যাদি। আর এই পাঞ্জাবিগুলো আসে ভারত থেকে। দাম চার হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে এখন পর্যন্ত বাহুবলী পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। দেখতেও সুন্দর। তবে ছবি তুলতে গেলে তিনি জানালেন এই দোকানে ছবি তোলা নিষেধ।

জমে উঠেছে জিন্সের প্যান্টের বাজার। জিন্সে এবার নতুন কোনো স্টাইল আসেনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নিউমার্কেট ও চাঁদনি চক মার্কেটের পাঞ্জাবি বিক্রেতারা জানান, আগামী দু্ই থেকে তিনদিনের মধ্যে ছেলেদের কেনাকাটা শুরু করবে। 

(ঢাকাটাইমস/০৯জুন/এসও/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত