কক্সবাজারে পাহাড় কাটা চলছেই, ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার
 | প্রকাশিত : ১৪ জুন ২০১৭, ১২:৩৬

কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে কয়েক হাজার পরিবার। পাহাড় ধসে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও পাহাড় কাটা ও নতুন বসতি স্থাপনের কাজ চলছে সমান্তরালে।

জেলা সদর ছাড়াও রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী এসব এলাকায় পাহাড়ের ঢালুতে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ। এসব এলাকায় লোকজন বৃক্ষহীন পাহাড়, সরকারি খাস জায়গা দখল করে বসবাস করছে দীর্ঘ সময় ধরে।

গত দুই দিনে ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাহাড় ধসে এই প্রাণহানির খবরে ভাবিয়ে তুলেছে কক্সবাজার জেলাবাসীকে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরতদের মাঝে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

তবে প্রাণহানি ঠেকাতে পাহাড়ি এলাকা বা পাহাড়ের পাদদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে পাহাড়ি এলাকায় শুরু করে দেয়া হয়েছে সচেতনতামূলক মাইকিং।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী আবদুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে এবং পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। যদি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকে তাহলে বুধবার প্রশাসনের উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাসরতদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হবে।’

এলাকায় গিয়ে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে-যখনই ভারী বর্ষণ হয় বা বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে যাত্রা তখন মাইকিং করা হয়, ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। এতে করে কিছু কিছু লোক সরে আসলেও বেশিরভাগ লোক সরে আসতে চায় না।

বন বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় প্রায় ১০ হাজার একরের বেশি বনভূমি অবৈধ দখলে করে লোকজন বসবাস করছেন। আর ওই বসবাসকারিরা বর্ষা মৌসুমে নির্বিচারে পাহাড় কাটা শুরু করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় নানা কৌশলে চলছে পাহাড় কাটা। শহরের ঘোনার পাড়া, মোহাজের পাড়া, বৈদ্যঘোনা, বইল্ল্যাপাড়া, জাদি পাহাড়, খাজা মঞ্জিল এলাকা, বাদশাঘোনা, ফাতেরঘোনা, ইসলামপুর, হালিমা পাড়া, লাইট হাউজ পাড়া, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এলাকা, দক্ষিণ ঘোনারপাড়া, রহমানিয়া মাদ্রাসা এলাকা, পাহাড়তলী, বাঁচা মিয়ারঘোনা, হাশেমিয়া মাদ্রাসার পেছনে, সাহিত্যিকা পল্লী, বিজিবি ক্যাম্পের পিছনে, লারপাড়া, সদর উপজেলা কার্যালয়ের পিছনে, পাওয়ার হাউস, লিংকরোড, কলাতলী বাইপাস সড়কের দুই পাশের বিশাল পাহাড়ি এলাকা, হিমছড়িসহ জেলা শহরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়কাটা চলছে।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, গত মে মাসেও একাধিক অভিযান চালিয়ে পাঁচটির বেশি ট্রাকসহ পাহাড় কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায় পাহাড় কাটা চলে। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

এই কর্মকর্তা বলেন, শহরের একাধিক পাহাড় কেটে ঘর-বাড়ি তৈরির দায়ে গত কয়েক মাসে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় শতাধিক দখলদারের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা করা হয়েছে। অন্য দখলদারদেরও তালিকা তৈরি হচ্ছে।

ঢাকাটাইমস/১৪জুন/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত