বগুড়া-২ আসনে আলোচনায় মান্নাও

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে
 | প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৭, ০৮:২০

বগুড়ার অন্যান্য আসনের মতো বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনেও নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আসছে ঈদকে ঘিরে তারা ভোটারদের খোঁজখবর নিচ্ছেন, কুশল বিনিময় করছেন। পোস্টার-ফেস্টুনের মাধ্যমে ঈদ শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে।

এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের পাশাপাশি আলোচনায় আছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করলেও তিনি এখানকার সন্তান। আগামী নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে লড়তে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। দলীয় নিবন্ধন না থাকলেও এই আসনে জামায়াতের বেশ প্রভাব রয়েছে। যেকোনো প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী লড়তে পারেন এই আসন থেকে।

বগুড়া-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরীফুল ইসলাম জিন্নাহ। তিনি এবারো দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় তেমন কাজ হয়নি বলে অভিযোগ আছে জনসাধারণের মধ্যে। ফলে সাধারণ মানুষ এবার অন্য প্রার্থী খুঁজবেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও জরিপে তিনিই এগিয়ে আছেন।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী আটজন

এই আসনে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আটজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।  এই প্রার্থীদের বেশির ভাগই বলেছেন কেন্দ্রীয় সমর্থন পেলে নির্বাচন করবেন, না পেলে করবেন।  আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক, সেক্রেটারি মোস্তাফিজার রহমান, পৌরমেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক, সাবেক মন্ত্রী মোজাফফর হোসেন, বিএমএ জেলা সেক্রেটারি ডা. রেজাউল আহসান জুয়েল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকরাম হেসেন, জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি আব্দুল করিম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ফকির।

এসব প্রার্থীর মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হকের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হিন্দুদের শ্মশান দখল, হাটবাজারের জায়গা দখল, খাস জলমল দখলসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিল অপরিশোধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। কেন্দ্রীয় সাপোর্ট তার পক্ষে গেলে ভোটের চিত্র বিপক্ষে যেতে পারে বলে আশঙ্কা খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। যদিও মনোনয়ন পেলে জিততে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন তিনি। 

ভোটের মাঠে সেই দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে সেক্রেটারি মোস্তাফিজার রহমান। তার একটা ক্লিন ইমেজ আছে। তিনি ঢাকাটাইমসকে জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত তার পক্ষে গেলে তিনি নির্বাচন করবেন। মনোনয়ন পেলে তিনি জয়ী হবেন এমন আশাও করছেন তিনি।

এদিকে পৌরমেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক জনপ্রিয়তায় সবচে এগিয়ে। তিনি তৃণমূলের কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এবং তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ান। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার প্রতি ঝোঁক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তৌহিদুর রহমান মানিক ঢাকাটাইমসকে জানান, নির্বাচনের জন্য আমি মাঠে অনেক আগে থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। রাত-দিন বিবেচনা না করে যেকোনো মানুষের সমস্যায় তাদের পাশে দাঁড়াই। সাধারণ মানুষ আমাকে যেকোনো সময় ডাকলে কাছে পায়। আমাকে তারা ভালোবাসে। দলীয় সমর্থন পেলে তিনি জয়ী হবেন বলে আশা করেন।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা

বিএনপির দলীয় ইউনিটি দুর্বল হলেও ভোটের মাঠে পাঁচ প্রার্থীর আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব থাকলেও এখন সেই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছেন এসব নেতা। নিয়মিত কর্মীদের খোঁজখবর রাখছেন। দলের বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্থিত হচ্ছেন। রমজানে ইফতার মাহফিলকে প্রচারের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আছেন সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট একেএম হাফিজুর রহমান, বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলম, শিক্ষাবিদ মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক পৌর মেয়র মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাল সেলিম. এম আর ইসলাম স্বাধীন।

সাবেক এমপি হাফিজুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ধানের শীষের টিকিট তিনিই পাবেন। সেই অনুযায়ী মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার মতে সুষ্ঠু ভোট হলে জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।’

আছেন মাহমুদুর রহমান মান্নাও

এদিকে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নাও এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। তিনি বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলে এই আসনে ছাড় পাবেন বলে শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকবে না।

মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকাটাইমসকে জানান, তিনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তাকে শিবগঞ্জের মানুষ নির্বাচনে চায় বলে জানান।

মান্না জানান, আসছে নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে তিনি যে আসন থেকেই নির্বাচন করুক জনগণ তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।

আলোচনায় জামায়াতও

দলীয় নিবন্ধন বাতিল হলেও এই আসনে আলোচনায় আছে জামায়াতে ইসলামী। শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নসর মো. আলমগীর হোসাইন জামায়াত নেতা। তিনি যেকোনো প্রতীক নিয়ে লড়তে পারেন এই আসনে।

বগুড়ার রাজনীতিতে জামায়াত বরাবরই ফ্যাক্ট হিসেবে কাজ করে। মাঠে তাদের দলীয় কার্যক্রম না থাকলেও নেতাদের দাবি তারা যথেষ্ট সংগঠিত। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যেকোনো প্রতীক নিয়ে ভোটে বিজয়ী হতে পারবেন বলে জানান জামায়াতের একাধিক নেতা।

(ঢাকাটাইমস/১৫জুন/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত