গাইবান্ধা-৫: তৃণমূল আ.লীগে জনপ্রিয় হচ্ছেন রিপন

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ জুন ২০১৭, ১৯:০৮ | প্রকাশিত : ১৬ জুন ২০১৭, ০৮:২০

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে নির্বাচনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরিই তার প্রাথমিক লক্ষ্য। আর স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটা বড় অংশই তাকে সমর্থন দিচ্ছে।

এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। তিনি জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে এসেছিলেন। তিনি ছয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এই আসন থেকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগের একাংশের সঙ্গে ফজলে রাব্বী মিয়ার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

ফুলছুড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম সেলিম পারভেজ বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ করি এটা বলতেই লজ্জা সংকোচ করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের ভাগ্যর উন্নয়নে কাজ করছেন। সরকার ক্ষমতায় কিন্তু উপজেলার মানুষের কোন উপকার আমরা করতে পারছি না।’

কী কারণে এমনটি হচ্ছে জানতে চাইলে পারভেজ বলেন, ‘এমপি নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন। তাঁর পরিবার হয়তো এখন থেকে ধারণা করেছেন যে, ভেলু সাহেব (ফজলে রাব্বী মিয়া) আর এমপি হবেন না। এ সব কারণে তাঁর পক্ষে আমাদের দলের কেউ নেই।’

ফুলছুড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন, ‘ডেপুটি স্পিকারকে নৌকার আরেকবার দিবার কন। তাহলে নৌকা উল্টে গিয়ে পানির তল দিয়ে নিয়ে যাওয়া লাইগবে।’

সাঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আরেফিন টিটু ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ডেপুটি স্পিকার সাহেব জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। এ পরিস্থিতিতে তাকে দল থেকে পুনরায় মনোনয়ন দিলে এ আসনটি হারাতে হবে।’

ডেপুটি স্পিকারের বিরোধী নেতারা সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি রিপনকেই বেছে নিতে চাইছেন। তারা বলেন, রিপন তরুণ, মেধাবী। একারণে তরুণ ভোটারাও তাকে পছন্দ করে। এছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে তদারকি করেছেন।

ফুলছুড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম সেলিম পারভেজ বলেন, ‘এ আসনে  মাহমুদ হাসান রিপণ যোগ্য প্রার্থী। নতুন ভোটাররা তাকে ভোট দেবেন। শুধু আওয়ামী লীগ নয় অন্যান্য দলের অনেকই তাকে ভোট দেবেন।’

সাঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়ারেস আলী প্রধান বলেন, ‘মাহমুদুল হাসান রিপন ভালো ছেলে। বিভিন্ন কাজ বের করে এলাকার জন্য কাজ করে। আগামী নির্বাচনে রিপনকে মনোনয়ন দিলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’

সাঘাটা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আরেফিন টিটু বলেন, ‘রিপনের সাঘাটা-ফুলছড়িতে একটা ভালো গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তরুণ সমাজের কাছেও তাঁর ভালো একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সে মনোনয়ন ফেলে আসনটি আমরা পুনরায় ফিরে পাব।’  

গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম হিরু বলেন, ‘সাঘাটা-ফুলছুড়িতে রিপন (মাহমুদুল হাসান রিপন) ইজ রাইট পারসন। সে একজন ছাত্রনেতা ছিল। রাজপথে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিলো। এলাকায়ও তাঁর একটা ভালো অবস্থান রয়েছে।’

গাইবান্ধায় নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাদের বিরোধিতার বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যারা নিজেদের আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন তা একটা চিরকুটের মাধ্যমে হয়েছেন। তাই তাদের অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। মূল যারা আওয়ামী লীগ আছেন তারা আমার সঙ্গে। আমার পক্ষে কাজ করে।’  

গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিও তো আপনার বিরুদ্ধে?- এমন মন্তব্যের জবাবে ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘জেলা সভাপতি সাহেব জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দাঁড়িয়েছিলেন। আমিই একমাত্র তাঁর পক্ষে ছিলাম। কিন্তু যিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। এখন তাঁর ধারণা হচ্ছে আমি বিরোধিতা করছি। তাদের পায়ের তলায় মাটি না থাকায় এমন অভিযোগ করছে।’

আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান কি না, জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসকে মাহমুদ হাসান রিপনের বক্তব্য ছিল অনেকটাই পরোক্ষ। তিনি বলেন, ‘আমি এলাকার উন্নয়নের কাজ করছি। নেতা-কর্মীদের সাথে সমন্বয় ভাল আমার। যদি নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আসনটি আমি তাকে উপহার দিতে পারব বলে আশা করছি।’

ঢাকাটাইমস/১৬জুন/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত