সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট কোল পরলোকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| আপডেট : ১৭ জুন ২০১৭, ০৯:৪৭ | প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৭, ০৮:২২

দুই জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের স্থপতি সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট কোল মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। জার্মানের বিল্ড পত্রিকার বরাত দিয়ে শুক্রবার বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। কোল ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পরযন্ত ১৬ বছর জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন।

‘আমরা যদি সুযোগের সদ্ব্যবহার না করি, জার্মানি ও ইউরোপের ঐক্য হতে না দেই, জার্মান ইউরোপীয় এবং ইউরোপীয় জার্মান হওয়ার পথে না এগোই, তাহলে তা হবে এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আমাদের চরম ব্যর্থতা।’ কথাগুলো বলেছিলেন হেলমুট কোল।

১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর হেলমুট কোলের রাজনৈতিক জীবন তার শিখরে পৌঁছায়, সফল হয় তার সারা জীবনের স্বপ্ন৷ দুই জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাফল্যের পেছনে বিশাল অবদান ছিল হেলমুট কোলের। কিন্তু অন্যদিকে খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের চাঁদা কেলেঙ্কারির কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে তার প্রস্থান সেই গৌরবের ওপর কিছুটা কালো ছায়া ফেলেছিল।

১৯৮২ সালের ১ অক্টোবর হেলমুট কোল প্রথমবার চ্যান্সেলর হন৷ ১৬ বছর ধরে এই পদে অধিষ্টিত ছিলেন, অন্য যে কোনো চ্যান্সেলরের চেয়ে বেশি৷ তার রাজনৈতিক জীবনের পরম মুহূর্ত ছিল বার্লিন প্রাকারের পতন এবং জার্মানির পুনর্মিলনে৷

জার্মান ও ইউরোপীয় ঐক্যের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিল কোলের। ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক আরও জোরদার করা থেকে শুরু করে অভিন্ন মুদ্রা ‘ইউরো’ চালু করার প্রক্রিয়া প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন৷

মানুষ হিসেবেও কোলের এই দৃঢ় চিত্ত নানাভাবে সবার নজর কেড়েছে৷ তবে শেষ পর্যন্ত সেই অনড় অবস্থানের কারণেই তাকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হয়৷ দলের বে-আইনি গোপন তহবিলে কারা চাঁদা দিয়েছে, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে তিনি অস্বীকার করেছিলেন৷ তাদের পরিচয় গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি তার কাছে সেদিন অনেক বেশি জরুরি ছিল৷

জার্মানির লুডভিগ্সহাফেনে রোমান ক্যাথলিক পরিবারে হেলমুট কোলের জন্ম ১৯৩০ সালের ৩ এপ্রিল। বাবা হান্স কোল আর মা সেসিলি-র তৃতীয় সন্তান ছিলেন তিনি৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার বড়ভাই যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করলেও, কোল কোনো যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেননি।

২০০৮ সালে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার পর থেকে কোল হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন কোল। তিনি ১৯৩০ সালের ৩ এপ্রিল রক্ষণশীল একটি ক্যাথলিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

কোলের শাসনামলেই বার্লিন দেয়াল ভেঙে দুই জার্মানি এক হয়ে যায়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিঁতেরার সঙ্গে তিনি ইউরো মুদ্রা প্রবর্তনে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ২০ শতকে দীর্ঘতম সময় জার্মানের চ্যান্সেলর ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/১৭জুন/জেবি/জেএস)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত