শরীয়তপুরে পদ্মায় ভাঙন: শতাধিক বাড়িঘর বিলীন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৭, ০৯:৪৬ | প্রকাশিত : ০৯ জুলাই ২০১৭, ০৮:২৫

বর্ষার শুরুতেই এবারও শুরু হয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন। পদ্মায় গত কয়েক দিনের ভাঙনে স্কুল, মসজিদ এবং শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরেকটি মসজিদ, দুইটি বাজার ও একটি লঞ্চঘাট। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীতে বাঁধ নির্মাণ কাজের প্রকল্প কমিশনের অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের বর্ষায় পদ্মায় ভাঙনে শরীয়তপুরের মানচিত্র থেকে হাড়িয়ে যায় শত বছরের স্মৃতি। ভাঙনে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার শতাধিক স্থাপনা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এ ছাড়াও চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাঁচটি মসজিদ এবং শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ওই সময় স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো এর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এ বছর আবারও শুরু হয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর, নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ও মোক্তারের চরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন। গত কয়েকদিনের ভাঙনে জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের ইউসুফ বেপারী কান্দির গ্রামের কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়ি, ইয়াকুব বেপারী কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পদ্মার তীরবর্তী গ্রামগুলোর প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। কাজিয়ারচর গ্রামে এক বছর আগে কয়েককোটি টাকা ব্যায়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করলেও ব্রিজটির চারদিকে মাটি নদীগর্ভে চলে গেছে। ব্রিজটিও যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বর্তমানে ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর কালু বেপারী কান্দি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কলমিরচর কাইয়ুম খার বাজার, নড়িয়া উপজেলার ওয়াপদা বাজার, সাধুর বাজার লঞ্চঘাটসহ এই দুই উপজেলার শত শত ঘরবাড়ি, হাজার হাজার একর ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ রাস্তা ঘাট ও পাকা স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই পদ্মার ভাঙনে সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ভাঙনরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখন কার্যকর হয়নি। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের দাবি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন প্রতিরোধ করা হোক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজন নিজেদের ঘরবাড়ি, আসবাপত্র, গবাদী পশু ও গাছ পালা কেটে অন্যত্র সড়িয়ে নিচ্ছেন। তাদের চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বাপ দাদার ভিটে মাটি। সর্বস্ব হারিয়ে অনেক পরিবার এখন অসহায়। ক্ষতিগ্রস্থরা অনেকেই আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও, সর্বহারা অনেক পরিবার এখনো কোথায় আশ্রয় নেবেন তা নিজেরাও জানেন না। এদের মধ্যে অনেকেই অর্থের অভাবে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এছাড়া ইয়াকুব মাদবর কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় ওই বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীরা পাশের আরেকটি ঝুঁকিতে থাকা বিদ্যালয়ে ক্লাস চালছে। এ সব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো সরকারি ভাবে এখনো পর্যন্ত কোনো সাহায্য পায়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের কালু বেপারী কান্দির মোশারফ বলেন, এ বছর পদ্মার ভাঙনে আমাদের এলাকার অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি ও মসজিদ বিলীন হয়ে গেছে।

নড়িয়া উপজেলার কলমিরচর গ্রামের শারমিন জানান, প্রতি বছর বর্ষা এলেই পদ্মার ভাঙন শুরু হয়। গত বছরের বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙনে এক হাজারের বেশি পরিবার, স্কুল কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা বিলীন হয়ে গেছে। এবারও পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে।

এছাড়া, ওয়াপদা বাজার ও সাধুর বাজার লঞ্চঘাটসহ অনেক ঘরবাড়ি পদ্মার ভাঙনের মুখে রয়েছে। এগুলো যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। আমরা সরকারের কাছে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাই।

জাজিরার কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন বেপারী বলেন, এই ইউনিয়নের গত ১০ দিনের ভাঙনে শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়েছে। তাদের ভিটেমাটিসহ সব কিছু হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আমার নিজের বাড়িটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সরকারি ভাবে এখন কোনো সাহায্য দেয়া হয়নি।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্ধ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রজেক্ট প্রোফাইল জমা দেওয়া হয়েছে। পাস করা হলে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঢাকাটাইমস/৯জুলাই/প্রতিনিধি/জেডএ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত