প্রবল স্রোতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১২ জুলাই ২০১৭, ২২:৫৩

পদ্মা-যমুনার অব্যাহত পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ফেরি-লঞ্চ চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। স্রোতের বিপরীতে ফেরি চলাচলে স্বাভাবিক সময়ের চাইতে তিনগুণ বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে।  এতে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কম হওয়ায় ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীতে বাতাস ও ঝড়-বৃষ্টিতে সৃষ্ট ঢেউ ও স্রোতের তীব্রতা কমে এলে ফেরি সার্ভিস স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা।

বুধবার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস-কোচ আটকে পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকেপড়া যানবাহনের যাত্রীসাধারণ, পরিবহন শ্রমিক ও ঘাট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের উপ-ব্যবস্থাপক মো. সফিুকল জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রটের ১৭টির মধ্যে নয়টি রো-রো, পাঁচটি ইউটিলিটি ও তিনটি কে-টাইপ ফেরি যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে দুটি রো রো ফেরি বিকল হয়ে আছে। এর মধ্যে আমানত শাহ নামের ফেরিটি মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে। পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামত কাজ চলছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান নামের ফেরিটির। পাশাপাশি গত রবিবার শাপলা-শালুক নামের একটি ইউটিলিটি ফেরি এই রুট থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে

তিনি আরও বলেন, পদ্মা-যমুনার অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের তীব্রতা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। স্রোতের বিপরীতে ফেরি চলাচলে স্বাভাবিক সময়ের চাইতে তিনগুণ বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে।  এতে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কম হওয়ায় ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীতে বাতাসে ও ঝড়-বৃষ্টিতে সৃষ্ট ঢেউ ও স্রোতের তীব্রতা কমে এলে ফেরি সার্ভিস স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ রুটে চলাচলকারী রো-রো ফেরি গোলাম মাওলা’র ইঞ্জিন অফিসার মো. আমজাদ হোসেন জানান, নদীতে প্রবল স্রোত ও ঢেউ এড়িয়ে প্রায় ৩/৪কিলোমিটার পথ ঘুরে ফেরি চালানোর স্বাভাবিক সময় থেকে বর্তমান অবস্থায় তিনগুণ সময় ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া পানি বৃদ্ধির  কারণে উভয় ঘাটের পন্টুনগুলো লো-লেভেল থেকে ওয়াটার লেভেলে ওঠা-নামা করায় ফেরিতে যানবাহন লোড-আনলোডে বিঘœ ঘটছে।

গত ৩/৪দিন যাবৎ পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে অব্যাহতভাবে পানি বাড়ছে। সে সঙ্গে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের বিভিন্ন ঘাট পন্টুনের পকেটপথ তলিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিদিন কোনো না কোনো ঘাট বন্ধ থাকছে।

দৌলতদিয়ায় চারটি ফেরিঘাটের সবই অনেক পুরনো। এ কারণে ফেরির সামান্য ধাক্কায় পন্টুনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে দীর্ঘ সময় জুড়ে বিভিন্ন ঘাট প্রায়ই বন্ধ থাকছে। পরে জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে পন্টুনগুলো সচল করা হয়।

গত মঙ্গলবার সকালে চলাচলকারী এক ফেরির ধাক্কায় দৌলতদিয়ার ২ নম্বর ঘাট পন্টুনের ফিংগার ভেঙে যায়। এতে পন্টুন অকেজো হয়ে পড়লে ফেরিঘাটটি বন্ধ ঘোষণা করে বিআইডাব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। নদীতে তীব্র ঘূর্ণায়মান স্্েরাতের কারণে গতকাল বুধবার  বিকেল ৫টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ২ নম্বর ঘাটটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

ফেরি পারের অপেক্ষায় দৌরতদিয়া ঘাটে আটকে থাকা রাজধানীগামী পণ্যবাহী ট্রাক চালক মোকছেদ আলী জানান, গত দুদিন যাবৎ পারের অপেক্ষায় রয়েছি। রোড খরচ বাবদ মালিকের দেওয়া নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকা প্রায় শেষের দিকে। জানি না আর কত সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে। বেনাপোল থেকে অপর ট্রাক চালক আছের উদ্দিনের একই দশা। আষাঢ়ের অব্যাহত বৃষ্টি তাদের দুর্ভোগ আরো এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১২জুলাই/প্রতিনিধি/ইসে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত