অধ্যাপক আফতাব হত্যার তদন্তেই ১০ বছর

আশিক আহমেদ,ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৭, ১৬:০৭ | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৭, ১১:৩১

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আবাসিক কোয়ার্টারে ঢুকে অধ্যাপক আফতাব আহমাদকে হত্যার ঘটনায় কূল কিনারা করতে পারছে না পুলিশ। এক দশকেও তদন্ত শেষ করতে পারেনি তারা। ফলে এর আদৌ বিচার হবে কি না, এ নিয়ে সংশয় কাটছে না।

আফতাব আহমেদ বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বই লিখতে তিনি জোট সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাও নিয়েছিলেন বলে সে সময় প্রচার ছিল। তবে পরে কোনো কারণে সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয় এবং তিনি বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনে সরকারের সমালোচনাও করেন। এই প্রেক্ষিতেই এক দিন তিনি খুন হন।

২০০৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে আটটার দিকে ফুলার রোডে বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ার্টারের চতুর্থ তলায় নিজ বাসায় অধ্যাপক আফতাবকে গুলি করা হয়। সেদিন কলবেলের শব্দে গৃহকর্মী দরজা খুলে দিলে জিন্স প্যান্ট ও মাথায় ক্যাপ পরা একজন দ্রুত ভেতরে ঢুকে তাঁকে তিনটি গুলি করে পালিয়ে যান। তাঁর এক সহযোগী ছিলেন সিঁড়ির নিচে। তিন দিন পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধ্যাপক আফতাব মারা যান। তাঁর স্ত্রী নুরজাহান আফতাব শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার বাদী নূরজাহান আফতাব এরই মধ্যে মারা গেছেন। তার স্বজন, সহকর্মী বা বিভাগের (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) শিক্ষার্থীরাও এই মামলা নিয়ে আর সোচ্চার নন।

ইতিমধ্যে এই মামলার ১১ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন। কিন্তু কেউ এর কূল কিনারা করতে পারেননি।

এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয় ভারতে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার অপেক্ষায় আছে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি সূত্র বলছে, ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল হাসান ইমনের জবানবন্দির ভিত্তিতে তাদের সন্দেহ, হাওয়া ভবনের অর্থায়নে তানভীরুল লোকজন দিয়ে এই খুন করিয়েছেন। তবে ইমনের ওই জবানবন্দি গত ১০ বছরেও যাচাই করা হয়নি, জবানবন্দিতে নাম আসা সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি।

এই হত্যার কয়েক দিন পর ভারত থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো ফ্যাক্স বার্তায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয়ের নামে হত্যার দায় স্বীকার করা হয়। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিতও হয়। তবে এভাবে দায় স্বীকারের ঘটনায় মানুষের মনে সন্দেহ বাড়ে।

সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেও রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। অবশ্য ভারত থেকে ফেরত আনা শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ২০০৮ সালে এ হত্যার ঘটনায় নিজেকে না জড়িয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ইমন বলেছেন, তিনি ভারতে অবস্থানকালে তানভীরুলের সহযোগী কাঁকন ও ল্যাংড়া তাজগীর তাঁকে বলেছিলেন, তানভীরুল ও তাঁর লোক আবলান, রফিক, এতিম বেলাল, খোকন ও মাহবুব এই হত্যায় জড়িত।  আবলান, রফিক ও এতিম বেলাল বাসায় গিয়ে আফতাবকে গুলি করেন।

তদন্ত নিয়ে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইমনের জবানবন্দিতে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে তানভীরুল এখনো ভারতে পলাতক। খোকন ২০০৬ সালে রমনায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন, আবলান ২০০৮ সালের নভেম্বরে মোহাম্মদপুরে খুন হন। রফিক, এতিম বেলাল ও মাহাবুবের পুরো ঠিকানা পাওয়া যায়নি। ২০০৮ সালের আগেই সোয়েব সাইফ এবং আরও দুই সন্দেহভাজন হুমায়ুন কবীর মুন্না ও সালেহ আহম্মদ সুজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাঁরা এ বিষয়ে তেমন কিছু বলেননি। তাঁরা বর্তমানে জামিনে।

মামলার নথিতে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন সময় বাদী নূরজাহান আফতাবের দেওয়া বক্তব্যও রয়েছে। বাদি বলেছেন, তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে সন্দেহ করেন না। তবে ড. আফতাব বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টক শোতে অংশ নিতেন এবং দেশের বিভিন্ন বিষয়ের প্রত্যক্ষ সমালোচনা করতেন। হত্যার কিছুদিন আগে তিনি একটি নাগরিক সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন, তাতেও কিছু রাজনৈতিক নেতা ক্ষুব্ধ হতে পারেন।

মামলাটির বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার ঢাকাটাইমসকে বলেন, প্রায় দুইমাস মাস আগে তিনি মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান। এরপর কিছু তথ্য জানার জন্য বাদিপক্ষের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন মনে করেন। তবে চেষ্টা করেও কাউকে পাননি।

বাদী নূরজাহান আফতাব দুই বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকে তিনি যোগাযোগের জন্য পরিবারের কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না। তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, এখন তানভীরুল ইসলাম জয়কে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলে এই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে। আর যদি তানভীরুল ইসলাম জয়কে গ্রেপ্তার করা না যায় তাহলে এই মামলায় অভিযোগ পত্র দেয়া কষ্টকর হবে।

ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/এএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত