শীতলক্ষ্যায় লক্করঝক্কর দিয়ে চলছে ফেরি পারাপার

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৭, ১২:৫৫

রূপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদে চলাচলরত দুটি ফেরি যানবাহন চালক ও যাত্রীদের কাছে ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। ফেরি দুটির মধ্যে একটি বছর জুড়েই থাকে বিকল। অন্যটি চলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এছাড়া অদক্ষ চালকের কারণে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ফেরি দুটি দিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবে ফেরি কর্তৃপক্ষ বলছে, নানা সমস্যা আর সঙ্কটের কারণেই তাদের এ দূরবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে রূপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদের দুপাড়ের সঙ্গে সহজে সেতুবন্ধনের জন্য ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। ঐ সময় প্রাথমিক অবস্থায় একটি ফেরি দেওয়া হলেও পরে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ার ফলে ৯৯ সালের শেষের দিকে আরও একটি ফেরি বাড়ানো হয়। কিন্তু দুই যুগের বেশি সময়েও ফেরি দুটির লোক দেখানো মেরামত ছাড়া আর কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়নি। যার ফলে জরাজীর্ণ ও ঝূঁকিপূর্ণ ফেরিতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে ফেরি দিয়ে পারাপার হচ্ছে ছোট-বড় সব যানবাহন। অদক্ষ চালক দিয়ে ফেরি চলাচলের কারণে প্রায় সময় ঘটে দুর্ঘটনা। ক্ষতি হচ্ছে যানবাহনের। দুটি ফেরির মধ্যে একটি বছর জুড়েই থাকে বিকল। অন্যটিও চলে লক্করঝক্কর অবস্থায়। এটির ইঞ্জিনও প্রায় সময় বিকল হয়ে যায়। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। দেশের উত্তর-পুর্বাঞ্চলের প্রায় ১৭টি জেলার যানবাহন ও যাত্রীরা এ ফেরি দিয়ে চলাচল করে।

ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্রগ্রাম সড়ক যোগে আসা প্রায় ১৭টি জেলার  যাত্রীরা মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে ফেরি যোগে পারাপার হয়ে এয়ারপোর্টসহ রাজধানীতে প্রবেশ করছে। সিলেট, কুমিল্লা, দাউদকান্দি, চাঁদপুর, মতলব, নোয়াখালী, ফেনি, চট্রগাম, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, আশুগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ ১৭ জেলার যাত্রীরা এ রুট ব্যবহার করে থাকেন। ভুলতা ফ্লাইওভারের কাজ চলাচলের কারণে অনেক যানবাহন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে না গিয়ে এ ফেরি ব্যবহার করছে অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানীতে প্রবেশ পথ হিসেবে যাত্রীরা শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে ফেরি যোগে চলাচল করে থাকেন। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এ পথ দিয়ে। এ কারণেই সড়ক ও জনপদ বিভাগ মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ফেরিগুলো প্রতি বছর ইজারা দেয়া হয় বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ফেরি দুটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সড়ক ও জনপদ বিভাগের। চলতি বছর ৫৭ লাখ ৭২ হাজার পাঁচশ টাকায় ইজারা পায় সুমন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফেরির এ নাজুক অবস্থার কারণে ফেরির দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদের দুই পারের রাস্তার প্রস্থ কম হওয়ায় রাস্তাটি দিয়ে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করতে সমস্যা হয়। বিভিন্ন সমস্যার কারণে ফেরি দিয়ে এসব যানবাহন সময় মতো পারাপার করতে না পারায় বেশির ভাগ সময়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে ও পল্টুনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। স্টিলের সিটগুলো খসে পড়ছে। পল্টুনের তলায় পানি প্রবেশ করে ডুবে যাওয়ারও আশঙ্কা। মেশিন দিয়ে সেচেও পানি কমাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বর্ষায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাস্তার সঙ্গে লাগানো গ্যাংঅয়ে বেশির ভাগ অংশ ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া অংশ ও ভাঙ্গা স্থান দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন।

দুটি ফেরির মধ্যে একটি ফেরি প্রায় ২৮ বছর আগের, অপরটিও একই সময়ের। ইঞ্জিন ও ফেরির বডি মেরামত করে এখন পর্যন্ত চালানো হচ্ছে ওই দুটি ফেরি। ওই ফেরিতে ইঞ্জিন পাল্টানো হলেও কোনো কাজে আসছে না। যানবাহন নিয়ে ফেরি ছাড়লে সময় মতো তীরে না পৌছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রবল স্রোতে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। পড়ে অপর ফেরির সহযোগিতা নিয়ে টেনে আনতে হয়।

অপর যে ফেরিটি রয়েছে, সেটির তলার অংশ জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। বেশ কয়েক স্থান দিয়ে পানি ঢুকে। অতিরিক্ত পানি ঢুকে ফেরি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা হয় অনেক সময়। যাত্রীরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন। এসব বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্তৃপক্ষ গড়িমশি করছে বলে অভিযোগ যানবাহন চালকদের।

অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল মজিদ, নুর হোসেন ও আব্দুল আলীম ফেরি দুটির ইঞ্চিন পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন। তাদেরকে দিয়ে ফেরির চালক হিসেবে ব্যবহার করছে সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষ। 

ভোগান্তির শিকার বেশ কয়েকজন যানবাহন চালক বলেন, সরকারি নিয়মানুযায়ী ফেরির ভাড়া দিচ্ছি, আমরা ভোগান্তির শিকার হব কেন?

তারাব পৌরসভার মেয়র মিসেস হাসিনা গাজী বলেন, ফেরির পরিস্থিতি খুব খারাপ। লক্করঝক্কর ফেরি বন্ধ করে দ্রুত নতুন ফেরি দেয়ার দাবি জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইসলাম বলেন, ফেরির সমস্যার বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদের মেকানিকেল বিভাগের (ফেরি) নির্বাহী প্রকৌশলী সুভাস বাবু বলেন, সমস্যাগুলো অতি শিগগিরই সমাধান করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/প্রতিনিধি/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত