সরকারি অনুমতি ছাড়া মানবদেহে অঙ্গ সংযোজন নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৭, ১৬:২২ | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৭, ১৩:৪৪

হাসপাতালগুলোতে মানবদেহে অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজন করতে সরকারের অনুমতির বাধ্যবাধকতা আরোপ হচ্ছে। পাশাপাশি নিকটাত্মীয় ছাড়া কারও কাছ থেকে অঙ্গ নেয়া যাবে না। এই ধরনের বিধান রেখে একটি আইনের খড়সায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এখন আইনটি পাসের জন্য সংসদে তোলা হবে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমতি দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ শামীম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গত কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে কিডনি সংযোজন নিয়ে তোলপাড় হয়েছে দেশে। গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে অল্প টাকার বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে কিডনি নেয়ার একাধিক প্রতিবেদন এসেছে গণমাধ্যমে। পরে কিডনিদাতারা দুর্দশায় পড়লেও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। এই প্রেক্ষিতে এই আইনটি করা হচ্ছে। এর শিরোনাম করা হয়েছে ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন, ২০১৭'।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ শামীম বলেন, ‘আইনে অঙ্গ -প্রত্যঙ্গ বলতে কিডনি, হৃদপিণ্ড, চোখ, ফুসফুস, টিস্যু, যকৃত, অন্ত্র, অস্থি ও অস্থিমজ্জাকে বোঝাবে। ’ তিনি বলেন, ‘কোনো হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ছাড়া মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না।’

তবে যেসব সরকারি হাসাপাতালে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে সেসব হাসপাতালের অনুমোদন নেওয়ার দরকার নেই বলেও আইনে বলা হয়েছে। যাদের অনুমতি নেই তারা এই আইন কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে অনুমতির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারবে।

 

যারা অঙ্গ দান করতে পারবে

এই আইন অনুযায়ী বাবা-মা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী, রক্তের সম্পর্কিত চাচা-চাচি, মামা-মামি, নাতি-নাতনি, মাতাতো, খালাতো, চাচাতো, ফুফাতো ভাই-বোনদের কাছ থেকে অঙ্গ নেয়া যাবে।তবে চোখ ও বোনমেরুর ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় হওয়ার দরকার নেই। এক্ষেত্রে যেকেউ স্বেচ্ছায় অঙ্গ দান করতে পারবেন।

আশরাফ শামীম  বলেন, আগের আইনে নিকটাত্মীয় হিসেবে পুত্র, কন্যা, পিতা, মাতা, ভাই, বোন ও রক্তসম্পর্কিত আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা ও স্বামী ও স্ত্রী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও গ্রহণ করতে পারতেন। চিকিৎসা সেবার উৎকর্ষ সাধনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিদ্যমান চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে এ আইন করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী জীবিত ব্যক্তির জীবনধারণে কোনও ধরনের সমস্যা না হলে তিনি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন। মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইনানুগ উত্তরাধিকারীর লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে অঙ্গ নেওয়া যাবে।

মৃত ব্যক্তির ঘোষণার জন্য একটি কমিটি থাকবে, কমিটিতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের একজন মেডিসিন, একজন নিউরোলজিস্ট, একজন অ্যানেসথেসিয়া বিষয়ক অধ্যাপক থাকবেন। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করবেন।

আইন অনুযায়ী দাতা মৃত হলে তার বয়স দুই বছরের বেশি ও ৬৫ বছরের কম হতে হবে। তবে চোখ ও অস্থিমজ্জার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। আর দাতা জীবিত হলে ১৮ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি হওয়া যাবে না।

গ্রহীতার বয়স দুই বছরের কম ও ৭০ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। তবে ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী রোগীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে কর্নিয়ার ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে না।

এগুলো দেখভালের জন্য সব হাসপাতালে একটি করে মিডিক্যাল বোর্ড থাকবে। হাসপাতালের সার্জারি  ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের একজন করে অধ্যাপক এবং হাসপাতালের পরিচালক বা একজন চিকিৎসক বোর্ডের সদস্য হবেন।

এছাড়া ১১ সদস্যের ক্যাটবেরিক জাতীয় কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটির চেয়ারম্যান হবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

মিথ্যা তথ্যে সাজা

নিকটাত্মীয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দিলে, ভুল তথ্য দিলে এবং ভয়ভীতি দেখালে দুই বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। এছাড়া এ আইনের অন্য কোনও বিধান লঙ্ঘন করতে বা লঙ্ঘনে সহায়তা করলে তিন বছরের জেল, ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। কোনও চিকিৎসক অপরাধী প্রমাণিত হলে তার নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

আগে এ আইন লঙ্ঘনকারীদের সর্বোচ্চ সাত  বছর ও সর্বনিম্ন তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ জরিমানার বিধান ছিল।

ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/এমএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত