হলি আর্টিজানে অস্ত্র সরবরাহকারী সোহেল আবার রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৭, ১৭:৫৭
ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলশান হলি আর্টিজানে হামলায় অস্ত্র সরবরাহকারী নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার আব্দুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজের (২৫) আবার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

পুনরায় আট দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির সোহেলকে আদালতে হাজির করে আবার রিমান্ডের আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গুলশানে জঙ্গি হামলা মামলার পরিকল্পনাকারীদের একজন সোহেল মাহফুজ। তিনি নব্য জেএমবির শুরা সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে সে নব্য জেএমবির সদস্য সংগ্রহ ও মোটিভেট করে আসছিল। এই আসামি তামিম চৌধুরী, মারজান, বাসরুজ্জামান চকলেটসহ অন্যান্যদের সাথে মিলে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া তিনি হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহ করাসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুরুত্ব তথ্য দিয়েছেন। আরও তথ্য উদ্ধারের জন্য তাকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এর আগে গত ৮ জুলাই ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মোবারকপুর ইউনিয়নের পুষকিনি গ্রামের একটি আমবাগানের টংঘর থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) দাবি।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের দাবি সোহেল নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার এবং জেএমবির ভারত শাখার প্রধান। তিনি গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলেন। তিন বছর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণেরে তিনি সন্দেহভাজন সেখানে তার নাম ছিল নসরুল্লাহ। 

সোহেল মাহফুজ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সাদিপুর কাবলিপাড়ার রেজাউল করিমের ছেলে। তিনি শাহাদাত, নসরুল্লাহ, রিমনসহ একাধিক নামে পরিচিত। এক হাত না থাকায় তিনি ‘হাতকাটা সোহেল’ নামেও পরিচিত।

সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলামের দাবি, হলি আর্টিজান হামলার পরিকল্পনা প্রণয়নে সোহেল মাহফুজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। গুলশান হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র-বিস্ফোরক ছোট মিজান বা অন্য কেউ বহন করেছিল। কিন্তু এগুলো আনা হয়েছে মাহফুজের পরিচালনায়। ২০০৫ সালে নওগাঁর আত্রাই এলাকায় বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে  বোমা বানাতে গিয়ে সোহেলের এক হাত উড়ে গিয়েছিল।

হলি অর্টিজান মামলায় নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান ও জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী কারাগারে রয়েছেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এর আগে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের ওপর গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। গ্রেনেড হামলায় ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন নিহত হন। যৌথ বাহিনী পরে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। অভিযানে ছয় জঙ্গির সবাই নিহত হন।

(ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত