পরিকল্পনার অভাবে শিশু বাজেটের টাকা ফেরত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৭, ২১:৫৯ | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৭, ২১:৫২

বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম রোধে যেখানে সরকারি-বেসরকারি পর‌্যায়ে উদ্যোগ খুব বেশি নেই, সেখানে গত অর্থবছরের বাজেটে শিশুদের জন্য বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা ফেরত গেছে পরিকল্পনার অভাবে। এ তথ্য জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ।

সোমবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে এক সেমিনারে সংসদ সদস্য হোসনে আরা লুৎফার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা জানান মন্ত্রী।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ) আয়োজিত ‘এসডিজি’র আলোকে শিশুশ্রম নিরসনে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন চুন্নু।

এর আগে গোলটেবিলে হোসনে আরা লুৎফা তার বক্তব্যে বলেন, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শিশু বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

প্রতিমন্ত্রী চুন্নু সাংসদের বক্তব্য স্বীকার করে বলেন, প্রথমবারের মতো শিশু বাজেট হয়েছিল বলে এ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তাই তারা টাকাটা আনেননি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর ১০০ কোটি টাকা রেখেছিল, কিন্তু নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা করতে না পারলে সেখানে টাকাটা আমি আনব কীভাবে। তবে এবার আমরা ২০২১ সাল সামনে রেখে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে কর্মপরিকল্পনা করেছি।’

নিজেদের পরিকল্পনা সম্পর্কে চুন্নু বলেন, ‘আমরা টার্গেট করেছি কত লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে সেটা বের করা। এখন বলা হচ্ছে ১২ লাখ শিশু এ ধরনের কাজ করে।  আমার অফিস থেকে এরই মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করেছি। কোথায় কোথায় শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে,  কী কী কাজ করছে।’

২০২১ সাল লক্ষ রেখে কর্মপরিকল্পনা করছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বাংলাদেশকে লক্ষ্য রেখে একটি প্রকল্প করব। সেখানে বিভিন্ন এনজিও আছে। আশা করি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবে।’ এর জন্য ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা লাগবে বলে জানান তিনি।

শিশুরা কেন শ্রমে নিয়োজিত হয়, পরিবারই বা কেন তাকে কাজ করতে পাঠায় সেই বিষয়গুলো বের করার ওপর গুরুত্ব দেন সাংসদ ইসরাফিল আলম। শিশুশ্রমের পেছনে দারিদ্র্যকে প্রধান কারণ চিহ্নিত করে তিনি বলেন, দারিদ্র্য দূর না করতে পারলে শিশুশ্রম বন্ধ করা যাবে না।

বিএএসএফের চেয়ারপার্সন মো. ইমরানুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান ভূঁইয়া।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাড়ে ৩৪ লাখ শিশু বিভিন্নভাবে কাজে নিয়োজিত, যাদের বয়স ৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ১৭ লাখ শিশুর বয়স ৫-১১ বছর এবং ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের জানুযায়ি পর্যন্ত ৬৫টি শিশু গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। একই সময় ২১ জন শিশু গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও ২১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ৩০ জন শিশু গৃহকর্মী আত্মহত্যা করে। যা গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে এসেছে। ২০১৫ সালে ৯০টি শিশুকে এবং ২০১৬ সালে ১০৬টি শিশুকে চুরির অপবাদে নির্মমভাবে পিটিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে যাদের অধিকাংশই দরিদ্র শ্রমজীবী শিশু।

সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন, সাংসদ কাজী রোজি, সাংসদ শামছুল আলম দুদু, সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, সংসদ সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী, বিএএসএফের পরিচালক আব্দুস শাহেদ মোহাম্মদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, নেদারল্যান্ডভিত্তিক সংগঠন তেরে দে হোমসের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ এহসানুল হক প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/জেআর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত