মামলা তুলে নেয়ার আশ্বাসে শিক্ষার্থীদের অনশন প্রত্যাহার

জাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৭, ২৩:০৩

‘আমাদেরকে সাত দিন সময় দিন। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। অনশনকারী ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সেই আশ্বাসের মর্যাদা দিতে চেষ্টা করব।’ উপ- উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমির হোসেনের এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরণ অনশন প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষার্থীরা।

টানা তিনদিন অনশনের পর আজ রাত সাড়ে আটটায় প্রশাসনের উদ্ধতন কর্তাব্যক্তিরাসহ শিক্ষক সমিতির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মামলা প্রত্যাহারের আশ^াস দিলে অনশন পালনকারী আট শিক্ষার্থী পানি পানের মাধ্যমে তাদের অনশন ভাঙেন। উপ-উপাচার্য এ সময় নিজ হাতে পানি পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান।

গত ২৬ মে ভোরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরোদ্ধে উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর, শিক্ষকদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে প্রশাসনের দায়ের করা মাামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার দুপুরের পর থেকে অনশনে যান দুই শিক্ষার্থী। পরে তাদের সঙ্গে অন্যরা যুক্ত হন।
আমির হোসেন বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা না খেয়ে থাকবে এটা তো আমাদের কাছে ভালো লাগে না। আমরা উপাচার্যের সাথে আলোচনা করে এখানে এসেছি। আবার আলোচনা করব। আমাদের উপর আস্থা রাখুন। আগামী সাত দিনের মধ্যে আমারা মামলার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করব। 

অনশনকারী ইংরেজি বিভাগের ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সর্দার জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা আমাদের যে আশ্বা স দিয়েছেন আমি আশা করব তারা তা বাস্তবায়ন করবেন। আমাদের যাতে আর এভাবে অনশনে বসতে না হয়। 

জাবি শাখা ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পদক সুস্মিতা মরিয়ম বলেন, প্রশাসন যদি তাদের কথা না রাখে তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে বাধ্য হব। 
এর আগে সোমবার পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কৌশিক সাহার নেতৃত্বে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের শিকদার জুলকারনাইন, সাংবাদিকতা বিভাগের শেখ আদনান ফাহাদ, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আনোয়ার খসরু পারভেজসহ শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল শহীদ মিনারে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শুনে উপাচার্যের সাথে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দেন।

পরে অধ্যাপক কৌশিক বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি, তাদের কথা শুনেছি। এখন আমরা উপাচার্যের সাথে কথা বলবো, তাকে বুঝিয়ে একটি সমাধানের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করবো।”

এদিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাধ্যক্ষ কমিটির আলোচনা চলার মধ্যেই আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের একটি দল উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর, শিক্ষকদের ওপর হামলার  প্রতিবাদ এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে মৌন মিছিল করেছে শিক্ষকরা।

এ মিছিলে সামনের সাড়িতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শিক্ষক লাঞ্ছনা ও উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুরের ঘটনায় ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্য রাশেদা আখতার। 
অনশনকারী শিক্ষার্থীরা হলেন, ইংরেজি বিভাগের ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সর্দার জাহিদুল ইসলাম ও তাহমিনা জাহান তুলি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী পূজা বিশ্বাস, আইন ও বিচার বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী খান মুনতাসির আরমান, দর্শন বিভাগের ৪৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ রুদ্র, বাংলা বিভাগের ৪২ আবর্তনের নাইমুল ইসলাম মিশো, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৫ আবর্তনের রাতুল খালিদ, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৫ আবর্তনের শিক্ষার্থী তাসনোভা তাজিন ইভা। 

(ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/প্রতিনিধি/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত