ভৈরবে ‘অভিভাবকহীন’ রাস্তার করুণ চিত্র

রাজীবুল হাসান, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ০১ আগস্ট ২০১৭, ০৮:২৮

ভৈরবে জিল্লুর রহমান সড়ক রক্ষা বাঁধ রাস্তা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এতে পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

নদীবন্দর খ্যাত ভৈরব বাজারে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হাজারও মানুষ যাতায়াতসহ  অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবত ভাঙাচোরা ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মানুষ ও  যানবাহন চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তাটি।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান জীবিত থাকাকালে ভৈরব বন্দরনগর হিসাবে বিবেচনা করে এই রাস্তাটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে শহরে মালামাল নিয়ে যানবাহন প্রবেশের প্রধান রাস্তা এই সড়কটি। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের হাজার হাজার  মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে থাকে। কিন্তু বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে রাস্তারটির এখন করুণ অবস্থা।

রাস্তাটি মেরামত নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই। কারণ রাস্তাটির মালিকানা নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। আর অভিভাবকহীন থাকায় রাস্তাটি কে মেরামত করবে এই জটিলতায় মেরামত করা হচ্ছেনা।

২০১২  সালের ১৬ জুন ৭০০ মিটারে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের নামে নামকরণ করে ভৈরব বাজার নদীর পাড়ে বাগানবাড়ী এলাকায় নুতনভাবে রাস্তাটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলে সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন।

আগে এই রাস্তাটিতে রেলওয়ে মালগুদামের রেললাইন ছিল। রেলওয়ে ওয়াগনে মালামাল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়াই রেল কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি অকেজো ঘোষণা করে রেললাইন তুলে নেয়। পরে জিল্লুর রহমান পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভৈরব শহর রক্ষা বাধের কাজের সাথে রাস্তাটি অন্তর্ভুভুক্ত করা হয় এটি।

তখন  মজবুত করে পিচঢালাইয়ের মাধ্যমে রাস্তাটি করা হলেও পরে রেল কর্তৃপক্ষ নুতন রেলসেতু করতে গিয়ে রাস্তাটির স্থান পরিবর্তন কিছুটা পশ্চিমে নিয়ে যায়। এতে করে রাস্তাটি ভাঙতে থাকে এবং সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

গত তিন বছরে এই রাস্তাটিতে ২০ থেকে ২৫ টি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে  ট্রাক,  ট্রাক্টর, অটোরিকশা প্রাইভেট কারসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

ভৈরব পৌর মেয়র ফখরুল আলম আক্কাছ জানান, এই সড়কটি মালিক পৌরসভা নয়। রেলওয়ের ভূমিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সড়কটি নির্মাণ করেছে। কাজেই রেলওয়ের অনুমোদন ছাড়া পৌরসভা সড়কটি মেরামত করতে পারে না। এছাড়া বিশাল রাস্তাটি মেরামত করতে অনেক টাকা বাজেট প্রয়োজন যা পৌরসভার তহবিল থেকে রাস্তা মেরামত করা সম্ভব নয়।

ভৈরব রেলওয়ে সহকারী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘সড়কটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেনি, তাই রাস্তার কথা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জানা নেই। তবে রাস্তাটি যখন রেলওয়ের ভূমিতে হয়ে গেছে তখন পৌরসভা রাস্তাটি মেরামত করতে পারে। কারণ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রাস্তা মেরামতে বাধা দেবে না।

ঢাকাটাইমস/০১আগস্ট/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত