হাজারীবাগ এখন যেমন

ভালো নেই মুদি, হোটেল ও কাপড় ব্যবসায়ীরা

নজরুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৭, ১০:৩৯ | প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট ২০১৭, ০৮:১৯

‘ভাইরে ট্যানারি বন্ধ করার কারণে আমাগো সব শেষ। ট্যানারি বন্ধ করণের পর অপেক্ষা করতেছি এই মাসে ব্যবসা ভালো অইব। না, এই মাসে অয় নাই তো পরের মাসে অইব। কিন্তু অইতাছে না। মনেরে আর কত মিছা বুজ দিমু।’

বলছিলেন রাজধানীর হাজারীবাগ বাজারের আল মদিনা স্টোরের মালিক মোহাম্মদ জুয়েল। আল মদিনা স্টোর হাজারীবাগ বাজারের সবচেয়ে বড় মুদি ও কনফেকশারির দোকান। এক সময় জমজমাট ব্যবসা করা এই দোকানের কর্মচারীরা একটু অবসর সময় কাটাবেন সেই সুযোগ হতো না। এখন তাঁরা সবাই অলস সময় পার করছেন। অপেক্ষা, কখন আসবে ক্রেতা। কিন্তু ক্রেতা আসে না। বিক্রিও হয় না।

মোহাম্মদ জুয়েল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ট্যানারির শ্রমিকেরা ছিল আমাগো পরিবারের মতো। হেরা চলে যাওয়ায় মনে হইতেছে আমাগো পরিবারের একটা বড় অংশ আমাগোরে ছাইড়া চইলা গেছে। হেরা যাওনে আমাগো ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ হইয়া গেছে। দোকান ছাইড়াও দিতে পারতাছি না। অনেকেই কয় হেমায়েতপুরে ব্যবসা লইয়া যাইতে, কিন্তু এইডাতো মুখের কতা নয়। কইলাম আর চইলা গেলাম।’

সরেজমিনে আরও কয়েকটি মুদি ও কনফেকশনারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হলে তারাও একই তথ্য দেন।

সরকারি উদ্যোগে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প নিয়ে যাওয়া হয় সাভারের হেমায়েতপুরে। ট্যানারির সকল কার্যক্রম এখন হেমায়েতপুরে চলছে। যার কারণে হাজারীবাগের বাড়ি ছেড়ে নতুন বাড়ি হেমায়েতপুরে তল্পিতল্পাসহ চলে গেছেন ট্যানারির শ্রমিকরা। হাজারীবাগ বাজার মূলত গড়ে উঠেছিল শ্রমিকদের কেন্দ্র করে। এই বাজার ছিল ট্যানারির শ্রমিকদের বাজার। তাদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে আড্ডা দেওয়া সবই ছিল এই বাজার ঘিরে।

সমস্যা যে শুধু মুদি কিংবা কনফেকশনারি ব্যবসায়ীদের তা নয়। ভালো নেই হোটেল ব্যবসায়ীরাও। আগের মতো বিক্রি নেই। হোটেলে বসে দুপুরের খাবার কিংবা বিকালের নাস্তায় চা, পুরি, পেঁয়াজু খাবে এমন মানুষ কোথায়?

মোকলেস হোটেলের মালিক মোকলেসুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বেচাকেনা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। বলতে পারেন আগে যেই বেচাকেনা হতো এখন তার অর্ধেক হচ্ছে। শ্রমিকেরা থাকা অবস্থায় দুপুরে লান্সের সময় জায়গা দেওয়া যাইতো না। এখন দেখেন না হোটেল খালি।’

মোকলেস হোটেল মাড়িয়ে মা বস্ত্রালয়ে কথা হয় সেলসম্যান শফিকের সঙ্গে। তাদের ব্যবসা কেমন যাচ্ছে জানতে চাইলে শফিক বলেন, ‘ব্যবসা নাই। শ্রমিকেরা যাওয়ায় সমস্যা হয়ে গেছে। কারণ আমরা যে কাপড় বিক্রি করি সেটা শ্রমিকদের মানের, ফ্ল্যাট বাসার কেউ তো আমাদের কাপড় নিবে না। তাই খারাপ যাচ্ছে।’

হাজারীবাগের স্থানীয় বাসিন্দা সফিউল আলম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘হাজারীবাগ বাজার ছিল শ্রমিকদের জন্য। খুব জমজমাট অবস্থা। ট্যানারি চলে যাওয়ায় খুব খারাপ অবস্থা। অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে গ্রামে, আবার অনেকে চাইলেও ব্যবসা ছেড়েও দিতে পারছে না। কারণ অনেকের কাছে টাকা আটকে আছে।’

হাজারীবাগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্যানারিগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১৫টি ট্যানারি এখন ফুটওয়্যার কাজ শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের আশা, অন্যরাও নতুন করে শুরু ব্যবসা পাল্টাবে বলে আশা করছেন তারা। তখন আবার হেসে উঠবে হাজারীবাগ বাজার, হেসে উঠবে ব্যবসায়ীরা।

(ঢাকাটাইমস/০৩আগস্ট/এনআই/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত