বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত, আটক ১

বরিশাল ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট ২০১৭, ০৮:৪২

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তৌহিদ নামে এক ব্যক্তিকে সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ৩ টায় পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

রাত ১২টার দিকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত বরিশালের জাগুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ সরদারকে জরুরিভাবে পঞ্চম তলার অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয় অস্ত্রোপচার করার জন্য। এসময় রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনদের অপারেশন থিয়েটারের সামনে ভিড় না করে তাদের দূরে অবস্থান করতে বলা হয়। কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত করে চলছিল। কিছু সময় বাদে অপারেশন থিয়েটারে থাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে যায় এবং সেখানে আগে থেকে তাদের রাখা ব্যাগ ও মোবাইল সেট দেখতে না পেয়ে সার্জারি বিভাগের রেজিস্টার ডা. সাইফুল আজমকে বলেন। এর দায়ভার তার ওপরে বর্তায় বিধায় চিকিৎসক সাইফুল রোগীর স্বজনদের মোবাইল ও ব্যাগ খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জানান এবং তাদের অপারেশন থিয়েটার এলাকা ত্যাগ করতে পুনরায় অনুরোধ জানান। কিন্তু এরমধ্যে রোগীর স্বজনরা তাদের চোর বলা হয়েছে বলে দাবি করেন এবং ওই চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার কিছু সময়ের মধ্যেই একদল যুবক (ইন্টার্ন ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী) এসে রোগীর স্বজনদের খুঁজতে থাকে। এসময় তৌহিদ ও শামীম নামে রোগীর দুই স্বজনকে ওই যুবকরা ধরে মারধর করে এবং পঞ্চম তলার সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। এতে পঞ্চম তলায় রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে পুলিশের ওপর চড়াও হয় বিক্ষুদ্ধ চিকিৎসকরা। পরবর্তীতে সিনিয়র চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নেতাদের সসঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস্ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. রাজু আহমেদ জানান, চিকিৎসক লাঞ্ছিতের খবর পেয়ে সাধারণ ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে আসেন। পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটারে থাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মালামাল খোয়া যাওয়ার খবরে তাদের সহপাঠীরাও আসেন। এসময় পুরো বিষয়টি শুনে উপস্থিত সবাই ক্ষুদ্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে যায়। পরে তৌহিদ নামে এক স্বজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে শামীম নামে এক স্বজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই পালিয়ে গেছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন জানান, সরকারি কাজে বাধা ও চিকিৎসক লাঞ্ছনার ঘটনায় চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তারা রোগীর এক স্বজনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। পুরো বিষয়টি আরো পর্যালোচনা করে উভয় পক্ষের অভিযোগ শুনে আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/৮আগস্ট/প্রতিনিধি/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত