শিবিরবিরোধী ‘অভিযানে’ ছাত্রলীগ

​মহিউদ্দিন মাহী, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০৮:৩৭ | প্রকাশিত : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০৮:০৩

সিলেটে ‘শিবিরের’ হামলায় ছাত্রলীগ কর্মীর হাত কাটা যাওয়ার পর জামায়াতের ছাত্র সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের পেলেই ‘ধোলাই’ করতে স্থানীয় নেতা-কর্মীদেরকে নির্দেশনা দিয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। আর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিবির কর্মী সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন ঢাকাটাইমসকে বলেছেন, ‘আমরা ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মী শিবিরের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। স্বাধীনতাবিরোধী এই শক্তিকে দেশের মাটিতে জায়গা দেয়া হবে না। এটি আমাদের সংগঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত।’

হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত কেন নিলেন, জানতে চাইলে জাকির বলেন, ‘সিলেট ছাত্রলীগের এক কর্মীর উপর শিবিরের নির্মম হামলার পর আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে সেখানেই গণধোলাই দেয়া হবে।’

গত ৭ আগস্ট সিলেটের জালালাবাদে দুর্বৃত্তের হামলায় ছাত্রলীগের দুই কর্মী মারাত্মক আহত হন। এদের মধ্যে কুপিয়ে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলার পর মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী সিলেট সদর উপজেলার পীরপুর টুকেরবাজারের শাহীন আহমদের হাত কেটে ফেলতে হয়।

শাহীনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাকির বলেন, ‘তার একহাত কেটে ফেলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন।’ এই ঘটনা প্রচার হওয়ার পর পর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ছাত্রলীগ। লক্ষ্মীপুরের ত্রিমোহনী এলাকায় শিবিরের দুই কর্মীকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা।

পর দিন রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে শিবিরের ১২ নেতা-কর্মীকে বেদম পিটুনি দেয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।

আর ৯ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সমাবেশে শিবিরের বিরুদ্ধে ‘অ্যাটাকে’ যেতে নির্দেশ দেন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

তাদের এই নির্দেশনার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সন্দেহে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেদিন ক্যাম্পাসে শিবিরবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল শেষে গণিত নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে এবং  ইংরেজি বিভাগের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সামাজিক বন বিভাগে পেটান হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শিবির নামধারী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নাশকতার চেষ্টা করবে তাদের বিষয়ে ছাত্রলীগ কঠোর অবস্থান নেবে।’

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম কলেজে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র গিয়াস উদ্দিনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক মাহমুদুল করিম বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম কলেজে শিবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিল। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগের কর্মীর সাথে গিয়াস উদ্দিনের বাগবিতণ্ডা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিবিরের কার্যকরী সদস্য বলে স্বীকার করেন গিয়াস উদ্দিন। পরে তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।’

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের কর্মী সন্দেহে মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ নামে একজনকে পিটিয়ে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০ থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিবির সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এদের মধ্যে মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ নামে ওই ছাত্রকে শিবির কর্মী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/১২আগস্ট/এমএম/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত