মনোনয়ন পেলে আসনটি উদ্ধার করব

মহিউদ্দিন মাহী, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৭:১৫ | প্রকাশিত : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০৮:২৬

আবু আহমেদ মন্নাফী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আছেন ৫০ বছর ধরে। বঙ্গবন্ধুর কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন্। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র সহসভাপতি। ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করেছেন রণাঙ্গনে। রাজনীতির পাশাপাশি ধর্মকর্মেও সমান মনোযোগী তিনি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলছেন, মনোনয়ন পেলে তিনি উদ্ধার করবেন তার এলাকার সংসদীয় আসনটি, যেটি এখন জাতীয় পার্টির দখলে। তার সঙ্গে কথা বলে সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন মহিউদ্দিন মাহী

আবু আহমেদ মন্নাফীর ভাষ্য, চলতি হওয়ার রাজনীতি নয়, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেন। সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, মনোনয়ন পাবেন কি পাবেন না সেটি তার চিন্তার বিষয় নয়, এটি নিয়ে চিন্তা করবেন দলের প্রধান শেখ হাসিনা। তিনি দলের জন্য কাজ করছেন, কাজ করে যাবেন।

নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে দাবি করেন আবু আহমেদ মন্নাফী। সেভাবেই দলের জন্য কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাজনীতি করেছি। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে আমি বঙ্গবন্ধুকে ভোট দিয়েছি। জীবনের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে আছি। কী পেয়েছি আর কী পেলাম না এই হিসাবে আমি করি না।’

ঢাকা-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগের এই মনোনয়নপ্রত্যাশী জানান, এ আসনে বরাবরই বিএনপি জিতে। গত মেয়র নির্বাচনে এ এলাকায় তাকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনের জন্য বলা হয় দল থেকে। দলের প্রধানকে এর প্রতিদান দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছি। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে সেই প্রতিদানও আমি দেব। কারণ এখানকার প্রতিটি অলি-গলি আর মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক।’

এই ভালোবাসা দিয়েই তিনি রাজনীতি করেন জানিয়ে মন্নাফী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি জোর আর পেশিশক্তি দিয়ে রাজনীতি হয় না। রাজনীতি করতে হয় ভালোবাসা দিয়ে। ভালোবাসা দিয়ে সব জয় করা যায়। মানুষের ভালোবাসায় আমি জনপ্রতিনিধি হয়েছি।’ তবে আল্লাহর রহমতের প্রতিও তার অনুরাগের কথা বলেন এই রাজনীতিক।

জনগণের ভালোবাসা আর আল্লাহর রহমতে আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে তার এলাকার আসনটি দলকে উপহার দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মন্নাফী বলেন, ‘আমাদের আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া। কিন্তু আমি আত্মবিশ্বাসী দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয় তাহলে এই আসনটি আমি দলকে উপহার দেব। মেয়র নির্বাচনে সেটির প্রমাণ আমি দিয়েছি।’

নেতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না কাউন্সিলর মন্নাফী, ‘আমি বিরোধের রাজনীতি করি না। আমার কারো সঙ্গে বিরোধ নেই। আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। মানুষের কল্যাণে আমি কাজ করি।’

তার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যেই ধারায় রাজনীতি চলছে তার সঙ্গে আমি তাল মিলাই না। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন ও ধারণ করি। আমি এটা বিশ্বাস করি- কোনো পরিশ্রমই বিফলে যায় না। ৫০ বছরে ধরে এই জনপদে আমার বিচরণ। এখানকার প্রতি ইঞ্চি জায়গা এবং মানুষের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এই জনপদ আমাকে বিমুখ করবে না।’

কাউন্সিলর হিসেবে এলাকার উন্নয়নে কী করেছেন? আবু আহমেদ মন্নাফীর জবাব, ‘৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি রাস্তা পিচঢালাই। কোনো রাস্তা ভাঙা নেই। এখানকার যে জলাবদ্ধতার সমস্যা, সেটিও সমাধানের চেষ্টা করছি। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে যে লাইনগুলো আছে সেগুলো আমি ঠিক করেছি। কিন্তু ওয়াসার লাইনগুলো আমার এখতিয়ারে নেই। এগুলোর কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। অনেক লাইন নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো মেরামত করা হয়নি। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’

রাজনীতিক মন্নাফী ব্যক্তিজীবনে ধর্মপরায়ণ। ইসলামের বাণী অর্থাৎ কোরআন ও হাদিসের বাণী প্রচার করেন মানুষের কাছে। তার ভাষায়, ‘আমি শুধু রাজনীতি করি না। আমি ধর্মীয় কাজও করি। আর রাজনীতির সময় রাজনীতি করি।’

দেশের ‘রাজনীতির পেশিশক্তি’র ধারা থেকে নিজেকে বাইরে রাখছেন বলে তার দাবি। ‘আমি মনে করি আল্লাহ যদি আমাকে না চায় তাহলে আমার দ্বারা কিছুই করা সম্ভব না। আমি মনে করি আল্লাহ না চাইলে আজকে আমি জনপ্রতিনিধি হতে পারতাম না। আমি যত কিছুই করি না কেন, আল্লাহ যদি আমাকে কবুল না করেন, তাহলে কিছুই সম্ভব না।’

আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা দেশরত্ন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ভোগে নয়, ত্যাগেই সুখ। আমি সেই দর্শনে বিশ্বাসী। আমিও মনে করি ভোগে ন্যায়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ নিহিত রয়েছে। মানুষকে দেয়ার মধ্যেই আনন্দ রয়েছে ভোগের মধ্যে কোনো আনন্দ নেই।’

সংগঠন এবং ইসলাম- উভয়েরই অনুশাসন মেনে চলেন এই কাউন্সিলর। তিনি বলেন, ‘আমি সংগঠনের অনুশাসন মেনে চলি। দলের প্রধানের দিক নির্দেশনা আমি অনুসরণ করি। ইসলামের অনুশাসনও আমি মেনে চলি।’

(ঢাকাটাইমস/১২আগস্ট/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত