সাপে কাটলে কী করবেন

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট ২০১৭, ০৯:৪৯

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর ও মধ্যঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে বন্যায় শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় সাপের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। সাপের ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে বানভাসীদের। ইতোমধ্যে সাপের কামড়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সাপের কামড় মানেই মৃত্যু, আমাদের মাঝে এমন ধারণা অনেক দিন ধরেই ছিল। সাপে ছোবল মারলেই মানুষ ছুটে যেত ওঁঝা আর বেদের কাছে। কিন্তু এখন বেদে সম্প্রদায়কে তেমন দেখা যায় না। তাছাড়া মানুষও এখন অনেক সচেতন। সাপে কামড় দিলে মানুষ ছুটে যায় হাসপাতালে। অবশ্য অনেক অজপাড়াগাঁয়ে এখনো কুসংস্কার রয়ে গেছে। কামড়টি বিষাক্ত সাপের না হলে কারিশমা দেখিয়ে বাহবা কুড়ায় ওঁঝা। আর কামড়টি বিষাক্ত সাপের হলে দোষ পড়ে নিয়তির। ভুক্তভোগীকে মেনে নিতে হয় মৃত্যু। অথচ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বেঁচে যায় মূল্যবান প্রাণ।

এজন্য সাপে কাটলে প্রথমেই দেখে নিতে হবে সেটি বিষধর সাপের কামড় কি না। কারণ, বিষধর সাপের কামড়ের ক্ষত জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিষধর সাপের ওপরের দাঁতের গোড়ায় যে বিষথলি থাকে, কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই বিষ ক্ষতের মাধ্যমে রক্তনালিতে প্রবেশ করে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সাপের বিষের বিষাক্ত উপাদানসমূহ স্নায়ুকোষকে আক্রমণ করে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া প্রতিহত করে এবং পরিশেষে মানুষের মৃত্যু ঘটায়।

প্রাথমিক করণীয়

১. সাপে কাটলে রোগী প্রচুর ভয় পায়। এজন্য আক্রান্ত ব্যক্তি যেন না ঘাবড়িয়ে যায়, সেজন্য তাকে সাহস দিতে হবে। তা না হলে হার্টবিট বেড়ে যাবে। এর ফলে রক্তে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাই রোগীকে শান্ত থাকতে বলুন। এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান।

২. সাপে কাটলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাই রোগীকে ওই স্থানেই শুইয়ে দিন। রোগীর নড়াচড়া সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে, যাতে বিষ তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে না যায়।

৩. একটি লম্বা কাঠ ও কাপড়ের সাহায্যে আক্রান্ত স্থানটি বেঁধে ফেলুন। খুব বেশি শক্ত করে বাঁধবেন না, এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনভাবে বাঁধতে হবে, যেন আক্রান্ত অঙ্গ ও কাপড়ের মাঝে কষ্ট করে একটি আঙুল ঢোকানো যায়।

৪.আক্রান্ত স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলে, রক্তক্ষরণ হলে, হাত-পা অবশ হয়ে এলে ও শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

৫. সাধারণত নির্বিষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত স্থানে সামান্য ব্যথা, ফুলে যাওয়া বা অল্প ক্ষত সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবে এসব লক্ষণ থাকলেও ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়, যেকোনো রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।

৬. দংশিত স্থানটি পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে দেবেন।

৭. রোগীকে কিছু খেতে বা পান করতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে অ্যালকোহল জাতীয় পদার্থ।

৮. প্রাথমিক চিকিৎসার পর রোগীকে দ্রুত নিকটতম হাসপাতালে কিংবা স্থাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে, যেখানে অ্যান্টিভেনম সিরাম বা সর্পবিষনাশী সিরাম (যেমন হফকিনস পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনম) মজুদ রয়েছে। প্রয়োজনে রোগীকে টিটেনাস বা ধনুষ্টঙ্কারের প্রতিষেধক দিতে হবে। মনে রাখবেন, এসব চিকিৎসা শুধু হাসপাতালেই করানো সম্ভব, অন্য কোথাও নয়।

ঢাকাটাইমস/১৭আগস্ট/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত