‘আপনি এসেছেন লুটতরাজ করতে, জনপ্রতিনিধিত্ব করতে না’

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৭, ১০:০৫ | প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট ২০১৭, ২২:১২

আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ বলেছেন, ‘আমি সমাবেশ করতে আসলে বিদ্যুৎ থাকে না। যেখানে বাংলাদেশে কোথাও বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই। কোথাও লোডশেডিং হয় না। বর্তমানে বিদ্যুতে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর আমার সমাবেশ শুরু হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতেই বুঝা যায়- আপনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। আপনি এসেছেন লুটতরাজ করতে- জনপ্রতিনিধিত্ব করতে না। জনপ্রতিনিধিত্ব করতে গেলে রাজনীতি করতে হয়। রাজনীতি শিখতে হয়। স্লোগান দিতে হয়। মিছিল করতে হয়। মিটিং করতে হয়। পুলিশের নির্যাতন সহ্য করতে হয়। ডিজিএফআইয়ের নির্যাতন সহ্য করতে হয়। তাহলেই রাজনৈতিক নেতা হওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার দুপরে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ২য় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ বলেন, ’৭৫-এর পর থেকে বারবার কারাবরণ করেছি। হুলিয়া মাথায় নিয়ে দেশ থেকে দেশান্তরে ঘুরে বেরিয়েছি। আর আপনি কি করেছেন? ডাংগুলি খেলেছেন।

ঘিওর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন-জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজান হোসেন খাঁন জকি, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আব্দুল খালেক বিএসসি, দৌলতপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুদেব সাহা, দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচারবিষয়ক সম্পাদক ভিপি ফরহাদ, ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওহিদুর রহমান টুটুল, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জিয়াসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

শোক সভায় এস এম জাহিদ উপস্থিত শতশত মানুষের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, মন্দিরের পুরোহিতকে দিয়ে কি মসজিদের ইমামতি হয়। তখন উপস্থিত মানুষ ‘না’ উত্তর দিলে তিনিও তাদের সাথে একমত পোষণ করেন।

এ সময় তিনি মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে উদ্দেশ্যে করে বলেন, অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়ে রাজনীতি হয় না। শুধুমাত্র ডাংগুলি খেলা যায়। আজকে এখানে শোক সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই শোক সভায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যখন শোকার্ত মানুষগুলো মিছিল নিয়ে এখানে আসছিলেন, তখন দুর্জয় তার লোকজন দিয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছিলেন। তিনি কিসের প্রতিনিধি। ঘুদারা ঘাটে নৌকা থাকে। নৌকার মাঝি যখন নৌকা নিয়ে নদী পার করেন। তিনি কি জানেন তার নৌকায় চোর, ডাকাত কে কে আছেন। জানেন না। অনেকগুলো ভাল মানুষের মাঝে দু-একটা চোর নৌকায় উঠে যায়। যা আমরা বিগত চার বছরে দেখে আসছি।

যুবলীগের এই নেতা বলেন, এই অবহেলিত পশ্চিম মানিকগঞ্জে একটি রাস্তা নাই, একজন দুঃস্থ মাতা গর্ভপতি মানুষ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়ার মত ব্যবস্থা নাই।

এই এলাকার কুস্তা এলাকায় সম্প্রতি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয় করে একটি রাস্তা করা হয়েছে। কাজের মান এতটাই খারাপ ছিল, যে একমাস যেতে না যেতে নদীতে চলে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই রাস্তা তৈরিতে ২ লাখ টাকাও খরচ হয় নাই। এই কাজ বাবদ ৭৬ লাখ টাকা ওই জনপ্রতিনিধিসহ তার লোকজন দুর্নীতির মাধ্যমে লোটপাট করে খেয়ে ফেলছে।

জাহিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে তাদের মধ্যে যেমন খন্দকার মোশতাক ছিল। যারা নাকি জনপ্রতিনিধির নাম নিয়ে জনগণের অর্থ আত্মসাত করে তারা খন্দকার মোশতাক আর মীর জাফর আলী বংশধর হতে পরে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লোক হতে পারে না।

জাহিদ বলেন, রাজকার, বিএনপি, জামায়াত ধরে এনে আওয়ামী লীগ করাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ পৈত্রিক দল নয়। আওয়ামী লীগ জনগণের দল। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন। জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ‘দলে অনুপ্রবেশকারী থাকতে পারবে না।’ আমাদের এতটাই দৈন্যতা আসেনি যে, অন্যদল থেকে লোক নিয়ে সংগঠন ভারি করতে হবে।

কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, পশ্চিম মানিকগঞ্জের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। আপনারা এবং আপনার পরিবারের সদস্যরা তখন কোথায় ছিলেন। আপনার দাদা ছিল পিস কমিটির সদস্য। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যদি ভাল কাজ করতেন, সুযোগ পেয়েছিলেন জীবন সুধরানের। এলাকায় কাজ করেননি। জনগণের অর্থ ভোগ করেছেন। ভুয়া প্রকল্প করে শেখ হাসিনা সরকারের প্রদত্ত কোটি কোটি টাকা মেরে খেয়েছেন। আবারো নৌকার স্বপ্ন দেখেন! শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মেয়ে। হয়তো ভুল-ভ্রান্তিতে সুযোগ পেয়েছিলেন, আর না। এই আসন থেকে অনেক যোগ্য ব্যক্তি প্রার্থী হবে। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন থাকলে এই আসন থেকে আমিও প্রার্থী হব।

জাহিদ আরো বলেন, সারাজীবন ঢাকাতে রাজনীতি করেছি। আমার নির্বাচনী যে অঞ্চল সেখানে মাত্র ৪টি ওয়ার্ড। সকালে বেরুলে বিকালের মধ্যে ইলেকশনের কাজ হয়ে যায়। আর এখানে তিনটি উপজেলায় ২২টি ইউনিয়ন  রয়েছে। এখানে আসার একটি মাত্র কারণ। আমি মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। আমি পশ্চিম মানিকগঞ্জের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। এখানকার বঞ্চিত মানুষদের জন্য কিছু করতে চাই। এই এলাকার উন্নয়ন করতে চাই।

কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, আজ এখান থেকে আমার নেত্রীর কাছে পৌঁছে যাবে আমি মনোনয়ন চাই। আমি মনোনয়ন চাই, পশ্চিম মানিকগঞ্জের দুঃখী মানুষের জন্য। আমি মনোনয়ন চাই, পশ্চিম  মানিকগঞ্জের উন্নয়নের জন্য। আমি মনোনয়ন চাই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আমি মনোনয়ন চাই, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। আমি মনোনয়ন চাই, দুর্নীতিকে চিরতরে কবর দেয়ার জন্য। আমি মনোনয়ন চাই, জঙ্গিবাদকে ধংস করার জন্য।

এ সময় এস এম জাহিদ ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যাদের নিয়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিলেন। তারাই আবার জিয়াউর রহমানকে বলির পাঠা বানিয়ে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে খুন করে। এরপর রাজনৈতিক মেরুকরণ হয়। লাখো জনতার ডাকে জননেত্রী বিদেশ থেকে দেশে আসেন। বঙ্গকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের হাল ধরেন।

তিনি বলেন, দলকে টিকিয়ে রাখতে অনেক কষ্ট করেছি। কিছু পাওয়ার জন্য নয়, ভোগের জন্য নয়। শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের লোকজন আমাকে ধরে নিয়ে অনেক অমানসিক নির্যাতন করেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্চুতি ঘটাতে পারেনি।

শোক সভা শেষে প্রয়াত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

(ঢাকাটাইমস/১৭আগস্ট/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত