বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল, আতঙ্কে সিরাজগঞ্জবাসী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট ২০১৭, ২২:৫৭

সিরাজগঞ্জ শহরের রানীগ্রাম শিমুলতলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে হঠাৎ করে ফাটল দেখা দেয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে শহরবাসীর মাঝে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই ফাটল মেরামতে তাৎক্ষণিক কাজ শুরু করে দিলেও সংশয় কাটছে না মানুষের।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ব্রহ্মপূত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের রানীগ্রাম শিমুলতলা অংশে এ ফাটল দেখা দেয়। এদিকে একই স্থানে বুধবার বিকেলেও বাঁধ ফুটো হয়ে দক্ষিণ পাশ দিয়ে পানি চুয়ে চুয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। দিনভর কাজ করে সন্ধ্যার আগে ওই ফুটো বন্ধ করে পাউবো। এদিকে বাঁধটির নিরাপত্তায় এর দুই প্রান্তে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  

এ ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকাটিকে নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখানে বালির বস্তা দিয়ে কাজ শুরু করেছে পাউবো। ফাটলের খবর শুনে শহরের বিভিন্ন মহল্লার শত শত আতঙ্কিত মানুষ ঘটনাস্থলে এসে ভিড় জমান। তারা দ্রুত বাঁধটি মেরামত করে সিরাজগঞ্জ শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার দাবি জানান।


সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রনজিত কুমার সরকার জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি ট্রাক ওই বাঁধের ওপর দিয়ে পার হওয়ার রানীগ্রামের শিমুলতলা এলাকায় দেবে যায় এবং ফাটল দেখা দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাৎক্ষণিক ফাটল সংস্কারে কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তিনি জানান, ইদুরের গর্তের কারণে বাঁধের ওই অংশে লিকেজ হয়েছে। তবে এ নিয়ে শহরবাসীর আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই।

রানীগ্রাম মহল্লার হায়দার আলী সেখ, মনিরুজ্জামান, ফটিক আলী শেখ, আব্দুল মজিদ, ইয়াছিন আলী জানান, রানীগ্রামের বাঁধটির পশ্চিমাংশে পানিতে টইটুম্বর করছে। মাত্র একফুট নিচে আছে বানের পানি। ওই বাঁধটি সামান্য ধসে গেলেই বন্যার পানি রানীগ্রাম, নতুন ভাঙ্গাবাড়ী, জানপুর, পুরাতন ভাঙ্গাবাড়ি, বাহিরগোলা হয়ে সিরাজগঞ্জ শহরের এসএস রোড, মুজিব সড়ক ও ইবি রোড তলিয়ে যাবে। পুরো শহর বন্যা কবলিত হয়ে পড়বে। এসব কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা বলেন, হঠাৎ করেই শিমুলতলা স্থান দিয়ে একটি ট্রাক চলে যাওয়া ফাটল দেখা দিয়েছি বলে শুনেছি। এ বিষয়ে আমরা এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে সার্বক্ষণিক বাঁধটির ওপর কড়া নজর রাখছি। এ খবরে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক কলম সৈনিকের সম্পাদ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ জানান, ১৯৮৮ ও ২০০৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় পুরো সিরাজগঞ্জ শহর তলিয়ে গিয়েছিল। শহরের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় বেশ কয়েক বছর আশঙ্কামুক্ত ছিল সিরাজগঞ্জ শহরবাসী। কিন্তু রানীগ্রাম বাঁধটি ভেঙে গেলে ৮৮ কিংবা ২০০৭ এর চেয়েও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়বে সিরাজগঞ্জবাসী। এ জন্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহবান জানান।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, গত ১২ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে এখন বিপদসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি কমছে। এ জন্য রানীগ্রাম বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই।

(ঢাকাটাইমস/১৭আগস্ট/প্রতিনিধি/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত