সিরাজগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে বানভাসীরা

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট ২০১৭, ২৩:০৩

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ছয় সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা। সিরাজগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ এখন দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি, ওষুধ ও তীব্র গো-খাদ্য সঙ্কট।

পানিবন্দি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ গবাদি পশু ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে ওয়াপদা বাঁধে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন দূরের কোনো আত্মীয়ের বাড়ি বা নিরাপদ স্থানে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবন রক্ষা করতে পারলেও গবাদি পশুর আশ্রয় ও খাবার সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বেড়ে গেছে খর, খৈল, ভূষিসহ অন্যান্য খাবারের দাম।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, সামনে কোরবানির ঈদ। গবাদি পশুগুলোকে খাবার দিতে না পারলে বাঁচানো যাবে না। শুকনো জ্বালানি কাঠের অভাবে গৃহিনীরা পড়েছেন বিপাকে। খোলা আকাশের নিচে খড়কুটা দিয়ে কোনোমতে রান্নার কাজ করছেন।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সারাদিন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়।  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা পয়েন্টে যমুনার পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে জেলার কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী ৪৮টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়েছে প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

শুভগাছা টুটুলের মোড় এলাকার এক বাসিন্দা জানান, বসতবাড়িতে একেবারে তলিয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে গলাপানি। কোনো জিনিসপত্র বের করতে পারি নাই। কয়েকটি টিন খুলে এনে ওয়াপধা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি।

সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, জেলা বন্যা কবলিত পাঁচটি উপজেলার ৪৮টি ইউনিয়নের প্রায় তিনশ গ্রামের ৫০ হাজারেরও বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ মানুষই পাউবোর বাঁধ, উচুঁ রাস্তাঘাট ও স্থানীয় স্কুল-কলেজের আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছেন। প্রায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ি পুরোপুরি এবং এক হাজার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সব ধরেনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ১৬৬টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের জন্য শুকনো খাবার, মোমবাতি, দেয়াশলাই প্যাকেট ইতোমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৭আগস্ট/প্রতিনিধি/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত