কেমন আছে কল্যাণপুরের সেই পোড়াবস্তি?

কাজী রফিকুল ইসলাম
 | প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট ২০১৭, ০৮:১১

আলোচিত কল্যাণপুরের পোড়াবস্তি কয়েকবারই উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় বর্তমানে উচ্ছেদের কোনো গন্ধ নেই। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি শেষবারের মত পুড়ে ছিল এখানকার বস্তিঘর। পুড়ে যাওয়া বস্তিঘর আবারো নির্মাণ করেছেন বস্তিতে বসবাসকারীরা। এখন কেমন আছেন তারা?

প্রায় তিন হাজার দুইশত পরিবারের বসবাস কল্যাণপুর পোড়া বস্তিতে। পুড়ে যাওয়া ঘরের ছাই সরিয়ে আবারো ঘর তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। কিন্তু এখনও চরম সমস্যায় দিন কাটাচ্ছে এখানকার মানুষ। বৃষ্টি হলেই সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। বস্তির পাশের ঝিলটি পরিণত হয়েছে নর্দমায়। আশপাশের তিনটি এলাকার সুয়ারেজের পানি এখানে পরে। বৃষ্টি হলে ঝিলের পানির উচ্চতা বেড়ে পৌঁছে যায় বস্তির ঘরে। মৌসুমি বৃষ্টি তাদের জন্য বয়ে এনেছে অসহায়ত্ব। এমনটাই জানালেন, বস্তির বাসিন্দা জাকির।

জাকির ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমগো দেখবো ক্যাডা? হ্যারা তো পারে না আবার আগুন দ্যায়। বৃষ্টি অইলে ঘরে পানি ওডে। দ্যাহেন, খালডায় ময়লার অবাব নাই। ক্যাডা দ্যাখব!’

২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি এই বস্তিতে আগুনে কয়েকশ ঘর পুড়ে যায়। সে সময়ই অভিযোগ উঠে, বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করে সেখানে ইমারত তৈরির জন্য এই আগুন লাগানো হয় ইচ্ছে করে।

কল্যাণপুরে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বেদখল জমি উদ্ধারে এই বস্তির একটি অংশে এর আগের দিন উচ্ছেদ অভিযান চালায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সে সময় বস্তিবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

বস্তির এক-চতুর্থাংশ উচ্ছেদের পর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞায় দুপুরে ওই অভিযান বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই বস্তির অন্য মাথায় বেলতলী মাঠ এলাকার আট নম্বর বস্তিতে আগুন লাগে। তবে এর পর থেকে গত দেড় বছর ধরেই বস্তি উচ্ছেদে আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

তবে বস্তিবাসীদের মন থেকে আগুনের সেই স্মৃতি এখনও মুছে যায়নি। সম্প্রতি, ‘ওয়ার্ল্ড ভিসন’ অগ্নিনির্বাপণ ও প্রতিরোধের উদ্যোগ নিয়েছে। বস্তির প্রতি নির্দিষ্ট দূরত্বে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া এখানে বসবাসকারী তরুণদের নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দমকলকর্মী।

কল্যাণপুর পোড়াবস্তির সহ-সভাপতি মো. মল্লিক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের এখানে তিন হাজার দুইশর বেশি পরিবার থাকে। রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তা ভেঙে ওয়াসা পানির লাইনে কাজ করছে। তারপর তাদের রাস্তা ঠিক করে দেয়ার কথা। কিন্তু দেখেন রাস্তার অবস্থা! খালের পানি নিয়া আছি বিপদে। খালে ময়লার অভাব নাই। খালটা পরিষ্কার করলে কিন্তু ঘরগুলোতে পানি ওঠে না। ওয়ার্ল্ড ভিশন আগুন নিভানোর ব্যবস্থা করবে। এলাকার লোকজনরে তারা ট্রেনিং দিতেছে। এটা আমাদের জন্য খুব ভালই হবে।’

পুরো বস্তিজুড়েই রয়েছে পয়:নিষ্কাশনের সমস্যা। বিভিন্ন বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে পাকা শৌচাগার। সুয়ারেজের পাইপ ফাটা, কোথাওবা ময়লা জমা। ফলে, সৃষ্টি হয়েছে নোংরা পানির জলাবদ্ধতা।

ঢাকাটাইমস/১৮আগস্ট/কারই/কেএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত