পানি কমেছে তিস্তায়, বেড়েছে তিন নদীতে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট ২০১৭, ১৯:১৪

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, ঘাঘট ও তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও করতোয়া নদীর পানি বেড়ে জেলার পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ফলে এই উপজেলার করতোয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনেক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেসব স্থান মেরামতে কাজ করছে সেনাবাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনগণ।

ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়ার পানি বিপদসীমার উপরে ও তিস্তার পানি বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ২টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপরে, ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৫২ সেন্টিমিটার ও করতোয়া নদীর পানি কাটাখালি পয়েন্টে ৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া তিস্তা নদীর পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২০ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার ও তিস্তা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমেছে। আর করতোয়া নদীর পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

জেলা প্রশাসনের দেয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলার ৫৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। আর পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৩৭৪টি গ্রামের দুই লাখ ৮৪ হাজার ৮৬ জন মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ৯০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে ২০ হাজার ৩৫৩ জন।

জেলার সাত উপজেলার ২১ হাজার ৫৭২ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার কারণে ১ হাজার ৩৬০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ৮৭টি শিক্ষা ও ৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উঠার কারণে ১৭৪টি ও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে মোট ২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে জেলার ২৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় সাময়িক পরীক্ষা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সাত উপজেলায় গঠন করা হয়েছে ৩৭টি মেডিকেল টিম। তারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকর্তৃক পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে।

কাঁচা রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭৫ কিলোমিটার, বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেড় কিলোমিটার ও ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২টি। বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত মারা গেছে তিন শিশু। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ মেরামত কাজে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতার কাজ করছেন।

এসব বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান ঢাকাটাইমসকে মুঠোফোনে বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ, ঘাঘট ও তিস্তা নদীর পানি ধীর গতিতে কমছে। শুধু করতোয়া নদীর পানি বাড়ছে। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে মেরামত কাজ চলছে।

(ঢাকাটাইমস/১৮আগস্ট/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত