বন্যায় ফরিদপুরে ৪৯ স্কুল বন্ধ

ফরিদপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট ২০১৭, ১৯:১৪

গত কয়েক দিনে ধারাবাহিকভাবে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ফরিদপুরের তিনটি উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শনিবার পদ্মার পানি বিপদসীমার ১০৬ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।

এদিকে জেলার তিনটি উপজেলায় পানিবন্দি ও নদী ভাঙনকবলিতদের মাঝে সরকারি সহায়তা হিসেবে ১২০ মে.টন চাল ও ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নগদ দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৬৬টি গ্রামের ২৫ হাজার ৬০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া ওই সকল এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনডিসি মো. পারভেজ মল্লিক জানান, পানিতে তলিয়ে গেলে ১০২টি কাঁচা ও পাকা সড়ক। পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ফরিদপুর সদরের ১০টি, চরভদ্রাসনে ১৭ এবং সদরপুরে ২২টিসহ মোট ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বাড়েনি- আবার কমেওনি।

শুক্রবার ও শনিবার বিকালে জেলার ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম এবং সদরপুর উপজেলার দূর্গম চরাঞ্চল দিয়ারানারিকেল বাড়িয়ার পানিবন্দি ও ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া।

ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জি এম আব্দুত রউফ জানান, ফরিদপুরে পানি বৃদ্ধির ফলে তিনটি উপজেলায় ১৭১ হেক্টর ধান ও ৫৮ হেক্টর সবজিসহ মোট ২২৯ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। যার অধিকাংশও নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে তিনি জানান।

সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেকুজ্জমান মিলন পাল জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে শহরতলীর সিএনন্ডবি ঘাট এলাকার পতিতা পল্লীটি অধিকাংশই তলিয়ে গেছে। সেখানকার বাসিন্দরা এখন মানবিক জীবন যাপন করছে।

সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান জানান, নর্থচ্যানেল ইউনিয়নটি পদ্মা নদীবেষ্টিত, এই কারণে চার দিক দিয়েই পানি প্রবেশ করেছে। ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত ৬টি স্কুলে পানি প্রবেশ করায় সেগুলো সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পানিতে ফসলি জমি নিমজ্জিত হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, নদের তীব্র ভাঙনে ইউনিয়নের গিয়াসউদ্দিন ফকির কান্দি, হাজারী হাজির কান্দি, আদেল উদ্দিন মোল্যার কান্দিসহ ৭৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

চরভদ্রাসন সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাদ খান জানান, পদ্মার পাড় এলাকা বিশেষ করে বেড়িবাঁধের বাইরের মাথাভাঙ্গা গ্রাম, হাজীডাঙ্গী, সেকের ডাঙ্গী, বালিয়া ডাঙ্গী, ফাজিলখার ডাঙ্গী, এমপি ডাঙ্গী ও টিলারচর গ্রামের অন্তত ৩শ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং প্রায় দেড়শ একর ধানী জমি পানিতে ডুবে গেছে।

ফরিদপুর সদর ইউএনও প্রভাংশু সোম মহান জানান, শুক্রবার ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ও নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের বিভিন্ন পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই পানিবন্দি ও ভাঙন কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া জানান, ফরিদপুরের তিন উপজেলার ৪৯টি স্কুল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানি কমে যাওয়ার পর শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ঘাটতি পূরণে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যেই চরভদ্রাসন ও সদরপুরের ভাঙনকবলিত ও পানিবন্দি মানুষের মাঝে সরকারি সহায়তা দেয়া শুরু হয়েছে। গত কদিনে জেলায় ১২০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেয়া আছে সর্বদা সতর্ক থাকতে।

(ঢাকাটাইমস/১৯আগস্ট/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত