১৮’শ স্প্লিন্টারের যন্ত্রণায় এখনো কাতরাচ্ছেন সাভারের পারভিন

ইমতিয়াজ উল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৭, ১৪:৫৬ | প্রকাশিত : ২১ আগস্ট ২০১৭, ০৮:২১

২১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ একটি দিন। ২০০৪ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সামনে অতর্কিত গ্রেনেড হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন বাংলাদেশের ১৯তম রষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান। এঘটনায় নিহত হয়েছিল ২০ জন। আহতের সংখ্যা ছিল তিন শতাধিক।

ইতিহাসের ভয়াবহ সেই হামলায় সেদিন যারা স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হয়ে বেঁচে ফিরেছিলেন তাদের একজন সাভারের তৃণমূল কর্মী মাহবুবা পারভিন। তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। গ্রেনেড হামলার ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি ও শরীরে প্রায় আঠারোশ স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা আজও তাড়া করছে তাকে। এখনো রাতে আতঙ্কে ঘুম হয় না পারভিনের। আঘাত ও রক্তাক্ত মানুষের আর্তচিৎকারে নিদ্রা থেকে লাফিয়ে উঠেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনার একান্ত তত্ত্বাবধানে এখনো তার চিকিৎসাসেবা চলছে বলে জানান পারভিন।

সাভারের শিমুলতলায় জালেশ্বর এলাকায় সিলমাস টাচ্ নামের একটি আটতলা ভবনে স্বামী বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা আবুল মাসুদ ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।

ঢাকাটাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মাহবুবা পারভিন জানান, এখন বেশিরভাগ সময় তার কাটে একাকি পত্রিকা পড়ে ও টিভি দেখে। বাকি সময় কাটান রাজনৈতিক নেতাদের সাথে তার তোলা ছবি ও রাজপথের ফ্রেমে বাঁধা আলোকচিত্রগুলো দেখে।

শারীরিক সমস্যার কারণে সংসারের কাজ খুব একটা করতে পারেন না। কাজে তাকে সাহায্য করেন স্বামী মাসুদ। গ্রেনেড হামলায় চিকিৎসা নিলেও পুরোপুরি সুস্থতা ফিরে পাননি তিনি।

আহত হওয়ার পর প্রথমে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও পরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার তিন দিন পর সঙ্গা ফিরেছিল তার। এসময় তার শরীরের বাম অংশ অবশ হয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে। দীর্ঘদিন মৃত্যুর মুখোমুখি অবস্থায় থাকার পর ফেরেন দেশে।

তখন থেকে আওয়ামী নেত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা যে পরম মমতাময়ী মায়ের মতো করে আগলে রেখেছেন। প্রতি মাসে চিকিৎসা খরচ বাবদ প্রথমে পাঁচ হাজার ও পরবর্তী সময়ে দশ হাজার টাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি এখনো পাচ্ছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দশ লাখ ও পরে আরও দুই লাখ টাকা দেয়া হয় তাকে। যে ঋণের কথা কোনোভাবেই ভুলতে পারেননি পারভিন। তবে গ্রেনেড হামলায় তার রাজনৈতিক জীবনের যে ক্ষতি হয়ে গেছে তা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয় বলেও জানান পারভিন।

বর্তমান জীবনযাপনের ব্যাপারে জানতে চাইলে মাহবুবা পারভিনের কণ্ঠরোধ হয়ে আসে। চোখ দিয়ে বইতে থাকে অবিরত অশ্রু।  তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, তার এক বেলার খাবার হচ্ছে মিছিল-মিটিং। কিন্তু এখন তার অচলাবস্থার কারণে যেতে পারেন না কোনো সভা ও মিটিংয়ে। তারপরও মিছিল-মিটিংয়ের কথা শুনলেই ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেক্ষেত্রে দলীয় কোনো সুবিধা বিশেষ করে পরিবহন সমস্যার কথা জানান তিনি। কেননা বাসে তার পক্ষে সাভার থেকে রাজধানীতে যাওয়া সম্ভব নয়।

এছাড়াও পারভিনের মনে একটি ব্যথা যেন দানা বেঁধে রয়েছে। কী সেই ব্যথা জানতে চাইলে, তার দুই ছেলে আসিফ পারভেজ ও রোশাদ জোবায়েরের কথা বলেন। তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলায় আমি সব হারিয়েছে। যা টাকা দিয়ে যে ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। তার একটাই লক্ষ্য তার সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করা। আর সেই স্বপ্ন তার পূরণের পথে। ছেলেরা গ্রাজুয়েশন শেষ করে চাকরিতে প্রবেশ করেছে। আর সবকিছু সম্ভব হয়েছে দেশনেত্রী শেখ হাসিনার জন্য।

(ঢাকাটাইমস/২১আগস্ট/আইআই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত