পাবনায় প্রস্তুত দেড় লাখ গরু, স্বপ্ন দেখছেন খামারিরা

খাইরুল ইসলাম বাসিদ, পাবনা
| আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৭, ১৩:৩৫ | প্রকাশিত : ২১ আগস্ট ২০১৭, ১০:০৬

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পাবনায় প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত খামারিরা। অন্যান্য বছরের লোকসানের কথা মাথায় রেখে এবার লাভবান হওয়ার আশা খামারিদের। তাই এবার পশুপালনে ভালো লাভ পাবেন এই আশায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন অনেকেই। গরু পালনে অনেকের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। জেলায় এবার দেড় লক্ষাধিক গরু মোটাতাজাকরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পাবনার সাঁথিয়া, বেড়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, আটঘরিয়াসহ নয়টি উপজেলায় পশু পালন অনেকের আয়ের পথ খুলেছে। তাই শেষ মুহূর্তে গরুর যত্ন নিয়ে ব্যস্ত পাবনার খামারিরা।

গত বছরে ভারত থেকে গরু কম আসায় ঈদের বাজার ছিল বেশ চড়া। তাই এবারও পশু পালনে ভালো লাভ পাবেন এই আশায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন অনেকেই। গরু পালনে অনেকের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

জেলার আটঘরিয়ার গরু খামারি হাজী জুয়েল ঢাকাটাইমসকে জানান, তার খামারে ২৪টি গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে এবার। বাজার যদি ভালো থাকে তাহলে ২৪টি গরু ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

তার মতো জেলার অধিকাংশ খামারি গরু মোটাতাজাকরণ করে এবার লাভবান হবেন বলে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে।

দেবোত্তর গ্রামের খামারী সাইদুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, তার চারটি গরু রয়েছে এবার তিনি প্রায় চার লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। তিনি জানান, ছয় সাত মাস গরু লালন পালন করে কোরবানির ঈদের আগে বিক্রি করে প্রতি বছর বেশ লাভবান হন তিনি। 

জেলার একাধিক খামারি জানান, পাবনার খামারিরা অসাধু পন্থা ছেড়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ার দিকে ঝুঁকেছেন। এজন্য তারা ব্যবহার করছেন খড়, কাঁচা ঘাস, ভূষি, গমের ছাল, খৈল, খুদের ভাত, লালি গুড় সহ নানারকম সুষম খাদ্য উপাদান। এজন্য পাবনার গরু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল গফুর ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘খামারিরা কীভাবে কম সময়ে, অল্প খরচে গরু মোটাতাজাকরণ করতে পারে সে বিষয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগ খামারিদের নানাভাবে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে থাকে। এতে একদিকে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি খামারিরা লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, পাবনা জেলার ৯টি উপজেলায় সরকারি হিসাব মতে গরু মোটাতাজাকরণে মোট খামারি আছেন ২৭ হাজার ৭৫৬টি। এতে এক লাখ ৫১ হাজার ৪৫৩টি গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২১আগস্ট/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত