যেমন আছেন হাসিনাকে বাঁচাতে প্রাণ দেয়া মাহবুবের বাবা-মা

এস এম আকরাম, কুষ্টিয়া
| আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৭, ১৫:০৩ | প্রকাশিত : ২১ আগস্ট ২০১৭, ১৪:২০

১৩ বছর আগে নিজের জীবন দিয়ে প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়েছেন কুষ্টিয়ার মাহবুবুর রশিদ। সন্তান হারানোর বেদনায় কাতর তার বাবা-মায়ের গর্বেরও শেষ নেই। অন্যের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়ার মতো সাহস কজনারই হয়?

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিলেন কুষ্টিয়ার খোকসার মাহবুবুর রশিদ। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট দুর্বৃত্তদের ছোড়া ও গ্রেনেড থেকে নেত্রীকে রক্ষায় যে কজন মানববর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের একজন ছিলেন এই মাহবুব।

গ্রেনেড হামলা করেও শেখ হাসিনার মৃত্যু নিশ্চিত করতে না পারায় পরে গুলি করে হামলাকারীরা। সেই গুলি আর শেখ হাসিনার মধ্যে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মাহবুব। নিজের বুকে আঘাত নিয়ে নেত্রীকে বাঁচিয়ে রাখেন তিনি।

প্রতি বছর এই দিনটি আসলে কষ্টের সাগরে ভাসে মাহবুবের বাবা-মা। তাদের দুই জনই এখন বার্ধক্যে। ১৩ বছর হয়ে গেলো, ছেলের হত্যার বিচার দেখতে পারলেন না। জীবনের বাকি সময় আর পারবেন কি না, এ নিয়ে এখন সংশয় দানা বেঁধেছে মনে।

মাহবুবের বাবা হারুন অর রশিদের আজকের দিনটি শুরু হয় ফজরের নামাজের পর মোনাজাত করে ছেলের খুনিদের বিচার আর দুই নাতির মঙ্গল কামনা করে।

শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসার জয়ন্তিহাজরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামে নিজ বাড়িতে কথা হয় হারুন অর রশিদের সাথে। ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার বিচার না হওয়ার আক্ষেপের কথাগুলো বেরিয়ে আসছিল তার মুখ দিয়ে।

হারুন জানান, ফুলবাড়ি স্কুলের পাশে তার ছেলের কবর স্থানের সমাধি স্থলটি সম্প্রতি পাকা করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এখন সেখানেই অবসর সময় কাটান তিনি। কিন্তু রাস্তা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে সেখানে নিয়মিত যেতে পারছেন না।

কথা হয় গ্রেনেড হামলার বিচার নিয়েও। বলেন, ‘ইতিহাসের নিকৃষ্টতম হামলা এটি। কিন্তু বিচার হচ্ছে না।’

মামলাটির দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখেই মরতে চান বলে জানান মাহবুবের বাবা।

তবে শত কষ্ট ও হতাশার মধ্যেও নিহত ছেলেকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত এই বাবা। শেখ হাসিনাকে ঘাতকদের বুলেট থেকে রক্ষায় তার ছেলের জীবন উৎসর্গ করার ঘটনাটি এখনো গর্বের সাথে উচ্চারণ করেন হারুন অর রশিদ।

মাহাবুবের মা হাসিনা বেগম তার মেয়ে আবিদাকে নিয়ে যতটুকু দুঃশ্চিন্তা করেন তার থেকে বেশি ভাবনা তার দুই নাতি ও পুত্রবধূর (মাহবুবের স্ত্রী) ভবিষৎ নিয়ে।

এক সময়ের বিড়ি তৈরির কারিগর পিতা হারুন অর রশিদের দ্বিতীয় ছেলে ছিলেন মাহবুব। বাড়ির পাশের ফুলবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার লেখা পড়ার হাতে খড়ি। পাশের উপজেলা পাংশার বাহাদুরপুর শহীদ খবির উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এসএসসি পাস করেন। পরে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন।

চাকরি পাওয়া পর পাঁচ বোনের তিন বোনকে বিয়ে দেন মাহবুব। ছোটদের লেখা পড়ার খরচও চালাতেন তিনি। পরে ২০০০ সালের দিকে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে ইস্তফা নেয়ার পর শেখ হাসিনার গাড়িচালক হিসেবে যোগ দেন মাহবুব। বিশ্বস্ততা অর্জন করায় অল্প সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর দায়িত্ব পান তিনি।

কুষ্টিয়া ৪  (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ জানান, মাহবুবের লাশ গ্রহণ থেকে শুরু করে সমাধি পর্যন্ত তার টাকায় নির্মিত হয়েছে। অবশ্য সমাধির গায়ে লাগানো ফলকে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের নাম লেখা রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলেও জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা বানু জানান, মাহবুবের সমাধিস্থল ও কবর স্থানের উন্নয়নের জন্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ভাই বোনদের চাকরি, বৃদ্ধ বাবার নামে আজীবন ভিজিডি কার্ড ও বয়স্ক ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে। 

ঢাকাটাইমস/২১আগস্ট/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত