খুলনায় অনিয়মের অভিযোগে বালিকা বিদ্যালয়ে অভিযান মাউশির

খুলনা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ আগস্ট ২০১৭, ১৬:২৬

অ্যাসেম্বলি না হওয়া, শিক্ষকদের সময়মতো স্কুলে না আসাসহ বিভিন্ন অভিযোগে খুলনা মহানগরীর পিটিআই মোড়ের সুলতানা হামিদ আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অভিযান চালিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) খুলনা অঞ্চলের কর্মকর্তারা।

সোমবার সকাল নয়টা থেকে খানজাহান আলী রোড লাগোয়া স্কুলটিতে অভিযান চালানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই বিদ্যালয়ে দুই সপ্তাহ ধরে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় না, শপথবাক্য পাঠ তথা অ্যাসেম্বলি করা হয় না, প্রধান শিক্ষিকা থেকে শুরু করে অধিকাংশ শিক্ষক সময়মতো স্কুলে আসেন না, পাঠদান করেন না ইত্যাদি।

অভিযানকালে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযান চলাকালে সকাল পৌনে ১০টা অবধি স্কুলে উপস্থিত ছিলেন না প্রধান শিক্ষিকা নূরুন্নাহার বেগম।

সকাল সোয়া নয়টায় প্রবেশ করেন শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক এনামুল হক। অ্যাসেম্বলি না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি কর্মকর্তাদের কাছে এ জন্য ক্ষমা চান। দুজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষিকা সময়মতো স্কুলে না আসায় অ্যাসেম্বলি হচ্ছে না। এ ছাড়া স্কুল সময়ের আধাঘন্টা পরে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত হন।  

জিজ্ঞাসাবাদে কম্পিউটার শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের ল্যাবে ১১টি কম্পিউটার-ডেক্সটপ এবং একটি ল্যাপটপ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষিকা দুটি কম্পিউটার ও মডেম ল্যাব থেকে তার কক্ষে নিয়ে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। ইউপিএসও অকেজো।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক টি এম জাকির হোসেন অভিযানকালে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শপথ পাঠ এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের কোনো বিকল্প নেই। অ্যাসেম্বলি করতেই হবে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে প্রয়োজনে শ্রেণিকক্ষেই করতে হবে।

অ্যাসেম্বলি না করার অভিযোগে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে শিক্ষক ও মনিটরিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত থানা শিক্ষা কর্মকর্তাকে শোকজ করা হবে।

খুলনা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক টি এম জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আরো ছিলেন গবেষণা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান ও মো. মাহফুজুর রহমান।

পরে নগরীর ইকবাল নগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গেটের বিপরীতে শিক্ষাকুটির নামের একটি কোচিং সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে চারটি কক্ষে ইকবাল নগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পোশাক পরা চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণির ৯৪ জনসহ শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়। এ সময় ওই শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা করে স্কুল সময়ে কোচিং করানোর কারণ জানতে চেয়ে তাদের অভিভাবকদের শোকজ করার নির্দেশ দেন অধ্যাপক টি এম জাকির।

কোচিং সেন্টারের পরিচালক সুকুমার হালদার জানান, তিনি প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত তৃতীয় থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোচিং করান। তবে স্কুল সময়ে কোচিং খোলা না রাখার নির্দেশনা তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন।

সোমবার স্কুল সময়ে শিক্ষাকুটির নামের কোচিং সেন্টারে ৯৪ জন শিক্ষার্থীকে পাওয়ার সত্যতা ঢাকাটাইমসকে নিশ্চিত করেন ইকবাল নগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার সরকার। তিনি জানান, স্কুল সময়ে কোচিং করানোর কারণ জানতে চেয়ে তাদের অভিভাবকদের নোটিশ দেওয়া হবে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে ওই শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২১আগস্ট/এসডি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত