কুবির শিক্ষক মাহবুবের ছুটি প্রত্যাহার

কুবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৭, ২০:১৯ | প্রকাশিত : ২১ আগস্ট ২০১৭, ১৭:৪৪

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ এনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের প্রভাষক মাহবুবুল হক ভূঁইয়া তারেককে দেয়া এক মাসের বাধ্যতামূলক ছুটি প্রত্যাহার করেছে প্রশাসন।

আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার মুজিবুর রহমান মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক অফিস স্মারকে এ কথা জানা যায়।

তাতে বলা হয়, গত ১৭ আগস্ট জারিকৃত অফিস আদেশে মাহবুবুল হককে ২০ আগস্ট থেকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর‌্যন্ত এক মাসের বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির দাবি ও উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওই অফিস আদেশ কর্তৃপক্ষের আদেশে প্রত্যাহার করা হলো্।

ছুটি প্রত্যাহার করা হলেও শোক দিবসে ওই শিক্ষক ক্লাস নিয়েছিলেন কি না তা নিরূপণের জন্য যে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল সেটি এখনো বহাল রয়েছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘এই তদন্ত কমিটি প্রত্যাহারের জন্য আমরা উপাচার্যকে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাহার করেননি। শিক্ষক সমিতির নেতারা অলোচনায় বসেছি পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য।’ (সন্ধ্যা ৬টা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত)।

এ ব্যাপারে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক  মো. আলী আশরাফের মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং শিক্ষক সমিতি সকাল থেকেই মাহবুবুল হকের ছুটি প্রত্যারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে। গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার‌্যকে অবরোধ করেছিলেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। তারা ওই ছুটির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তাকে তার অফিসের করিডোরে দীর্ঘ সময় আটকে রেখেছিলেন।

এ ছাড়া মাহবুবুল হকের বাধ্যতামূলক ছুটি নিয়ে বিপুল সমালোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে।

এমনকি ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চেয়ে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে ১২ ঘণ্টার সময় দিয়ে আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন শিক্ষক মাহবুবুল হক ক্লাস নিয়েছেন এমন অভিযোগ তোলে সরকারি দলের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ। তারা ওই শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং টানা দুই দিন বিশ^বিদ্যালয়ে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়।   

ছুটি প্রত্যাহারের খবরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছুটি প্রত্যাহার করেছে। আমরা আবার আন্দোলনে যাব কি না তা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিব।’

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ক্লাস নেয়ার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন শিক্ষক মাহবুবুল হক। তিনি তার ফেসবুক পেজে জানান, শোক দিবসে সকালের কর্মসূচি শেষে নিজ বিভাগে আসার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী কয়েকটি টপিকসের ব্যাপারে জানতে চাইলে তাদের একটি কক্ষে নিয়ে তিনি তা বুঝিয়ে দেন।

তিনি আরো জানান, ওই শিক্ষার্থীদের এখন পরীক্ষা চলছে। তাই ক্লাস নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

(ঢাকাটাইমস/২১আগস্ট/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষা এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর