ঢাকা-১

আ.লীগে প্রার্থিতার লড়াইয়ে মান্নান-সালমান-তরুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:৩২ | প্রকাশিত : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৮:০১

রাজধানীর শহরতলী এলাকা দোহার-নবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ নির্বাচনীয় আসন। জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এ সংসদীয় আসনটি গত সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কাছে হারায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে আগামী নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া ক্ষমতাসীন দলটি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন তৎকালীন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালমা ইসলামের কাছে তিনি পরাজিত হলে আসনটি হাতছাড়া হয় আওয়ামী লীগের। এর আগে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আবদুল মান্নানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আবদুল মান্নান খান। বিএনপি ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় তিনি স্থান পেয়েছিলেন মন্ত্রিসভায়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বর্তমানে দলের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য।

এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকেট পেয়েছিলেন ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। কিন্তু বিএনপি প্রার্থী নাজমুল হুদার কাছে পরাজিত হন দোহারের এই সন্তান। সালমান এফ রহমান আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আরো আছেন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ। এ ছাড়া আলোচনায় আছেন ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে জানতে তার ব্যক্তিগত নম্বরে কল যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনের মাধ্যমে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল মান্নান খান। এর আগে তিনি দলটির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। একসময়ের ছাত্র ইউনিয়নের নেতা আবদুল মান্নান খান এবারও ঢাকা-১ আসন থেকে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ জন্য নিয়মিতই এলাকায় যাচ্ছেন। সেখানে দলীয় কর্মসূচিতে যোগদানের পাশাপাশি গণসংযোগ করছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পরে দলের সভাপতির বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পান দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তিনি নিয়মিত দোহার-নবাবগঞ্জে ছুটে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও গণসংযোগ করছেন।

নবাবগঞ্জের বাসিন্দা পনিরুজ্জামান তরুণ নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ, কর্মিসভা করে চলেছেন। স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার ব্যাপক পরিচিত রয়েছে। এ ছাড়া তিনি আওয়ামী কেন্দ্রীয় কমিটির উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আশা করছেন এখানে যোগ্য প্রার্থী পেলে তারা আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। তাদের ভাষ্য, ‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় রয়েছে বলে দেশের তৃণমূল পর্যায়েও উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বিগত জাতীয় নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। যোগ্য প্রার্থী দিলে আগামীতে আবার আমরা বিজয়ী হব।’

নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকই আছেন। কিন্তু যার সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সম্পর্ক আছে; যিনি সৎ ও যোগ্য এমন প্রার্থীকে দল মনোনয়ন দেবে।’

নির্বাচনের জন্য দল যাকে যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্যই কাজ করবেন বলে জানান আবদুল মান্নান খান। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘নেত্রী আমাকে যেই দায়িত্ব দেন আমি সেই অনুযায়ীই কাজ করব। আর দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ করে মনোনয়ন বোর্ড। যাকেই প্রার্থী করা হবে আমি তার জন্য কাজ করব।’

ঢাকাটাইমস/৮সেপ্টেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত