ঈদুল আজহায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৩২২ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:৪৮

গত ঈদুল আজহায় সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ২৭২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩২২ জন। আহত হয়েছেন ৭৫৯ জন। এর মধ্যে সড়ক-মহাসড়কে ২১৪টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৭৫৯ জন।

বুধবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে এই তথ্য। দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ঈদুল আজহার দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা ২২টি জাতীয় দৈনিক, ছয়টি আঞ্চলিক দৈনিক ও ১০টি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ পরিসংখ্যান তৈরি করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২৮ আগস্ট থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিগত ১৩ দিনে ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত ও ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময় নৌপথে ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। উল্লিখিত সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ৪৩ জন নিহত হন।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের শঙ্কা দেশের গণমাধ্যমগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করে। এতে অনেক আগেভাগে ঈদযাত্রা শুরু হয়। ফলে ঘরমুখো যাত্রা ফেরত যাত্রার চেয়ে খানিকটা স্বস্তিদায়ক ছিল। তবে ফিরতি যাত্রায় ভোগান্তি ও  সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে।’

মোজাম্মেল বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা, অব্যবস্থাপনা ও আইনের শিথিলতার কারণে বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়ক দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এতে সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেমন দীর্ঘায়িত হচ্ছে তেমনি যানজট ও জনজটের ভোগান্তি ও বাড়াচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘প্রতি বছর দুর্ঘটনার একই চিত্রে দেখা গেলেও এই ক্ষেত্রে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সংঘটিত দুর্ঘটনার দায়ভার ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।’

সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক হানিফ খোকন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে চালকদের নিয়োগপত্র দিতে হবে, চালকদের মাঝপথে বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। দূরপাল্লার বাসে দুইজন করে চালক নিয়োগ দিতে হবে।’

সড়ক নিরাপত্তা জোট-শ্রোতা সদস্য হুমায়ন কবির বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমাতে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। সারাদেশে এখনো পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। সরকারি ও বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এক্সিডেন্টে রিচার্জ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. মাহবুব আলম তালুকদার, যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতা জিয়াউল হক চৌধুরী, মো. আজিজুল হক চৌধুরী, মিলাদ উদ্দিন মুন্না প্রমূখ।

(ঢাকাটাইমস/১৩সেপ্টম্বর/জিএম/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত