ষোড়শ সংশোধনী বাতিল

রায় বাতিলের জন্য আইনি পদক্ষেপের প্রস্তাব সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:৩৪ | প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:২০
ফাইল ছবি।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং এর কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা চলছে।

বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারায় এ বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাংসদ মইনুদ্দীন খান বাদল।

প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সংসদের অভিমত এই যে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় বাতিল এবং রায়ে জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির দেওয়া অসাংবিধানিক, আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ বাতিল করার জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।’

প্রস্তাব উপস্থাপনকালে বাদল বলেন, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার তার পর্যাবেক্ষণে অনেক অপ্রাসঙ্গিক ও অবাঞ্ছিত বিষয়ে পাশাপাশি, জাতীয় সংসদ সদস্যদের অপরিপক্ক আখ্যায়িত করেছেন। এ বিষয়টি এমনভাবে এসেছে এ নিয়ে আলোচনা-গুঞ্জন চলছে, তা সমীচীন নয়। আমরা বিশ্বাস করি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চাদর, তা সৃষ্টি হয়েছে সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের সমন্বয়ে। যাতে সংবাদপত্র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।’

সাংসদ বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ শুধুমাত্র কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে। জনগণ পরম অভিব্যক্তি রূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। অন্য কোনো আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্য হয় তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্য ও অসঙ্গতিপূর্ণ ততখানি বাতিল হইবে।’

বাদল বলেন, ‘আমি বিস্বাস করি অনেকেই যখন ব্যক্তি ও সংগঠনের জন্য নির্ধারিত লক্ষণ রেখা অতিক্রম করেন তখন সমাজ ও রাষ্ট্রে সংকট অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। এই সংসদ ব্যাপক আলোচনার নিরিখে বর্তমান অবস্থার অবসান চায়। যাতে করে অশুভ ও গণবিরোধী শক্তি ঘোলাজলে মাছ শিকারের প্রচেষ্টা গুলিয়ে যায়।’

প্রস্তাবের পর সাংসদ বাদল এই বিষয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করছেন। তার বক্তব্যের মধ্যেই মাগরিবের নামাজের বিরতি হয়।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেছে আপিল বিভাগ। এর ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত হয়। ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রতিস্থাপিত করেছিল জাতীয় সংসদ। ওই সংবিধানের ৯৬ ধারা অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে বিচারপতিদের অপসারণ করতে পারতো সংসদ।

গত ১ আগস্ট এই মামলার যে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে, তাতে শাসনব্যবস্থা, সংসদ নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে নানা মন্তব্য এসেছে। ওই রায় এবং পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা, এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেছেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বঙ্গবন্ধুকে ‘খাটো করা হয়েছে’ অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা।

রবিবার দশম সংসদের সপ্তদশ অধিবেশন শুরুর দিন সাংসদ তাহজীব উল আলম সিদ্দিকী বহুল আলোচিত এই রায় নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনা শুরু করতে চাইলে তাকে থামিয়ে দিয়ে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া নোটিস দিতে বলেন।

এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারায় এ বিষয়ে আলোচনার কথা বলেন। সংসদের সংক্ষিপ্ত এই অধিবেশন আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৩সেপ্টেম্বর/জেবি/মোআ

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত