সংসদকে বিচার বিভাগের প্রতিপক্ষ করার প্রস্তাব: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২২:৪১ | প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২১:৫৫

জাতীয় সংসদকে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সংসদে প্রস্তাব তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম।

রাজধানী রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভাটি আয়োজন করে বিএনপি।

সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে (বুধবার) সংসদ একটি প্রস্তাব আনা হচ্ছে। এটা সুনির্দিষ্টভাবে পার্লামেন্টকে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো। আমরা এর ঘোরতর নিন্দা জানাচ্ছি।’

ফখরুল বলেন, ‘এভাবে বিচার বিভাগকে হেয় প্রতিপন্ন করে, প্রধান বিচারপতিকে হেয় প্রতিপন্ন করে, বিচারপতিদের হেয় প্রতিপন্ন করে আজকে রাষ্ট্রের মূলভিত্তিকে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রাষ্ট্রকে তারা (সরকার) সত্যিকারভাবে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে রাখতে চায় না। তারা চায় পুরোপুরিভাবে একটা পরনির্ভরশীল দুর্বল জাতি হিসেবে রাখতে।’

বুধবার রাতে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারায় আলোচনায় অংশ নিয়ে তোফায়েল এসব কথা বলেন। সন্ধ্যায় এ বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাংসদ মইনুদ্দীন খান বাদল। প্রস্তাবটি হলো: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় বাতিল এবং রায়ে জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির দেওয়া অসাংবিধানিক, আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ বাতিল করার জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক’।

আলোচনায় মির্জা ফখরুল রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় রিলিফ টিমকে কক্সবাজারের উখিয়ায় যেতে বাধার দেয়া অভিযোগ তুলে এই ঘটনায় সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। তারা যে বলছেন তারা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটা শুধু আইওয়াশ বলে প্রমাণিত হচ্ছে।’

 প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা ধিক্কার দেই আপনাদের, ঘৃণা প্রকাশ করি যে, আপনারা ত্রাণের মতো মহৎ কাজ পর্যন্ত করতে দেন না। আমার প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারের কাছে। আপনি যে গতকাল (মঙ্গলবার) কক্সবাজারে উখিয়ায় গিয়ে ওই রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিলেন। পত্র-পত্রিকায় বিভিন্নভাবে লেখা হলো প্রধানমন্ত্রী কাঁদলেন, কাঁদালেন। আজকে ক্ষুধার্ত রোহিঙ্গাদের মুখে একবেলা খাবার তুলে দিতে দিলেন না কেন?’
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) টেলিভিশনে দেখছি বেশিরভাগ রোহিঙ্গা অভুক্ত। একটামাত্র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দেখছি তারা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। সরকার চিকিৎসা কেন্দ্র খুলেছে কিনা আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কোনো ছাউনি তৈরি হয়েছে কিনা তার নিচে তারা বাস করছে। আমরা দেখেছি উন্মুক্ত আকাশের নিচে তারা বৃষ্টি বাদলের মধ্যে দুঃস্থ-দূর্বল শিশুদের নিয়ে অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।’ অবিলম্বে কেন্দ্রীয় ত্রান টিমকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যাওয়ার দাবিও জানান তিনি।

ফখরুল আরো বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর এসেছে আমাদের দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে কক্সবাজারে কেন্দ্রীয় রিলিফ টিমকে উখিয়াতে প্রশাসন যেতে দিচ্ছে না, পুলিশ ট্রাক আটকিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কক্সবাজারে আমাদের বিএনপি অফিস পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আমাদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অফিস ঘরে আটকা পড়েন। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে অবিলম্বে বিএনপির রিলিফ টিমকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সেখানে যেতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এই সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। আসলে তারা রোহিঙ্গাদের পে দাঁড়াননি। যদি দাঁড়াতেন তাহলে তারা আজকে বিএনপির রিলিফ টিমকে উখিয়ায় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে বাধা দিতেন না।

দলের প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, আমিনুল হক, এবিএম মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মো: মুনির হোসেন, আমিরুল ইসলাম খান আলীম সহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস /১৩সেপ্টেম্বর /বিইউ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত