যাপন

টাকই স্টাইল

তানিয়া আক্তার
 | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৬:৪১

টেকো মাথায় চুলের আবাদ। এই বিজ্ঞাপনের দিন বুঝি শেষ হয়ে এলো। কারণ মাথা ভর্তি চুল আছে, এমন অনেকেই আজকাল মাথা কামিয়ে নিচ্ছেন। এটাই তাদের স্টাইল। তাদের ফ্যাশন। তাই চুল দিয়ে আর টাক ঢাকা নয়। চেহারার আদল বুঝে মাথা কামাই করলে টাকই আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলবে। এক্ষেত্রে আমাদের দেশে সবার সামনে থাকছেন ব্র্যান্ড ও মিডিয়া আইকন সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন।

টেকো মাথা কাদের জন্য? জানতে চাইলে শাওন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যে টাক হতে চায়, প্রথমেই নজর দিতে হবে স্টাইলটি তার ব্যক্তিত্ব ও পেশার সঙ্গে মানাচ্ছে কি না। এই লুকটা আসলে সবার জন্য নয়। চেহারার আদল, শারীরিক গঠনের ওপর নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে হেয়ার ড্রেসার যথার্থ পরামর্শ দিতে পারেন। নিয়মিত যতœ, পোশাক পরিধানে রুচিবোধ, উপযুক্ত রং নির্বাচন এবং মানানসই অ্যাক্সেসরিজ এই লুকটার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে।’

মাথা কামানোর উপায়
শেভ করে যদি টাক করেন তাহলে কিছু কিছু লোমের ও লোমকূপের উপস্থিতির কারণে মাথার ত্বকে রুক্ষ ভাব আসতে পারে। তাই নরম, মোলায়েম টাকের জন্য গরম জলের স্টিম খুব উপকারী। তবে শেভ করেই টাক বানান বা স্বাভাবিকভাবেই টাক পড়লেও উজ্জ্বল টাকের জন্য কিন্তু পরিচ্ছন্নতা জরুরি। ইলেকট্রিক ক্লিপারের সাহায্যে অবাঞ্ছিত চুল উঠিয়ে নিতে হবে। সবশেষে নিখুঁত ও চকচকে টাক পেতে ধারালো ব্লেড দিয়ে পুরো মাথার ত্বক সচেতনভাবে শেভ করে নিতে হবে। নিজে না পারলে স্যালুন বা পার্লারে গিয়ে পছন্দমতো টাক বানিয়ে নিন।

ফ্যাশন-কথন
এই লুকে ফ্যাশটাই মুখ্য। তাই ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক নির্বাচন করতে হবে। আর যে পোশাকই হোক না কেন কলারহীন পোশাক এড়িয়ে চলাই ভালো। সেক্ষেত্রে ভি-নেক ব্যবহার করা যেতে পারে। গায়ের রঙ উজ্জ্বল হলে একটু গাঢ় রঙের পোশাক আর গাঢ় গায়ের রঙে রঙিন পোশাক মানিয়ে যায়। অফিশিয়াল কিংবা ক্যাজুয়াল পোশাকেও এই লুক মানায়। সেক্ষেত্রে পোশাকের সঠিক কাটছাঁট আর প্যাটার্ন নির্বাচন করতে হবে। টাই পরতে চাইলে পোশাকের ভিন্ন রঙ নির্বাচন করতে হবে। ব্যক্তিত্ববান দেখাবে ব্লেজারেও। পোশাকের পাশাপাশি সানগ্লাস, হ্যাট কিংবা ঘড়ি হতে পারে এক একটা সিগনেচার অ্যাক্সেসরিজ। সানগ্লাস অবশ্যই মুখের মানানসই হতে হবে। রোদ থেকে বাচতেই নয় ফ্যাশনেও হ্যাট বা টুপিও হতে পারে অন্যতম অ্যাক্সেসরিস। হাতের ঘড়িটি অবশ্যই ভালো ব্র্যান্ডের বা জমকালো হওয়া চাই। ঘড়ি না চাইলে ব্রেসলেট পরা যায়। আঙুলের ফাঁকে পছন্দসই আংটি ব্যবহারও বেশ মানাবে। একটু ফ্যান্সি লুক চাইলে কানে রিং কিংবা ট্যাটু আঁকিয়ে নিলে পুরো লুকটাই ঝলমল করবে ।

যত্ন নিন
টাক কিন্তু খুব সংবেদনশীল। চুল ছাড়া মাথা মুখের ত্বকের মতোই সংবেদনশীল। তাই ন্যাড়া হওয়ার আগে নিয়মিত যত্ন সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। হলিউড বা বলিউডের অনেক তারকাকেই এই লুকে দেখা যায়। তারা কিন্তু মাথার ত্বকের যত্ন সম্পর্কে অনেক সচেতন।


নিয়মিত শেভিং: সুন্দর ও সুস্থ টাক পেতে হলে নিয়মিত শেভ করা প্রয়োজন। চুলের বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে কতবার শেভ করতে হবে। যদি চুল দ্রুত বাড়ে সপ্তাহ অন্তর দুবার শেভ করতে হবে। কারণ এই লুকে গজানো ছোট ছোট চুল ফ্যাশনের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে শেভ করার আগে ভালোভাবে মাথা ভিজিয়ে তারপর শেভ করতে হবে।

শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার: অবাক হওয়ার মতো হলেও টেকো মাথায়ও শ্যাম্পু করতে হয়। কারণ শ্যাম্পুর কাজ হলো মাথায় জমে থাকা ময়লা ও তৈলাক্ত ভাব দূর করা। ফলে মাথার ত্বক সুস্থ থাকে। তাছাড়া শ্যাম্পু করার সময় ম্যাসাজ করার ফলে রক্ত চলাচলও স্বাভাবিক হয়। শ্যাম্পু না করলে প্রতিদিনের তেল ও ময়লা জমে টাক রুক্ষ হয়ে যায়। শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় টাকের চামড়া উঠে সাদা, খসখসে দেখাতে পারে। তাই নিয়মিত টাক পরিষ্কার রাখা জরুরি। তবে সাবান বা লিকুইড বডি সোপের ব্যবহার করলে টাক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। কারণ মাথার ত্বক আর শরীরের ত্বকের পার্থক্য রয়েছে। আর শেভ করা মাথায় অবশিষ্ট লোমকূপের জন্য কন্ডিশনার জরুরি। তাই নিয়মিত শ্যাম্পু করুন ও ভালো ময়েশ্চারাইজিং কন্ডিশনার লাগাতে হবে।

রোদে সুরক্ষা: মাথার ত্বক খুব সেনসেটিভ। রোদে পুড়ে মাথার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। আবার রোদের কারণে ঘেমে চুলকানিও হতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগেই এসপিএফ ৪০ যুক্ত হালকা সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিতে হবে। এরপরও ছাতা ব্যবহার করাটা জরুরি। আর ঘাম মুছতে সঙ্গে রাখুন টিস্যু বা পরিষ্কার রুমাল।

আর্দ্রতা: গরমে শরীরের আর্দ্রতা ঠিক রাখতে হবে। পরিমিত পানি পানের অভ্যাস করতে হবে। ঘরে থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিলে মাথার ত্বক নরম থাকে। প্রতিবার শেভ করার পর মাথা শুকিয়ে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

স্কাল্প ম্যাসাজ: স্টাইলটাই যদি ধরে রাখতে চান, তবে যতœশীল হতে হবে মাথার স্ক্যাল্প নিয়ে। প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন মাখলে স্কাল্প ও স্টাইল দুটোই ভালো থাকবে। তাই হেড ম্যাসাজ নেওয়া জরুরি। এতে রিল্যাক্সড লাগবে। টাক ম্যাসাজ করলে স্ট্রেসতো অবশ্যই কমে। নিজের ১০ আঙুলের মাথা দিয়ে হালকা চাপ দিতে দিতে সারা মাথা ম্যাসাজ করুন। কপাল থেকে শুরু করে ব্রহ্মতালুতে পৌঁছান, সেখান থেকে ম্যাসাজ করতে করতে আস্তে আস্তে ঘাড়ের কাছে নেমে আসুন। আরাম যেমন পাবেন, তেমনই রক্তসঞ্চালন ভালো হয়ে টাকের ঔজ্জ্বল্যও বাড়বে।

(ঢাকাটাইমস/১৮সেপ্টেম্বর/টিএ/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত