চালের দামের লাগাম টানবে কে?

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ ও শেখ সাইফ
| আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:২৩ | প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:৪৯

টুকরিতে করে দেশি ফল বিক্রি করেন জুলহাস। বসেন মিরপুরে। ১০ নম্বর গোলচত্বরের কাছে। দিনে এনে দিন খাওয়ার মতো। ফলের টুকরি নিয়ে বের হতে না পারলে সেদিন বাজারে যাওয়া হয় না। ঘরে স্ত্রী-সন্তান বুড়ো বাবাসহ সদস্য সংখ্যা ছয়জন। সপ্তাহে পাঁচ কেজি চাল লাগে। আগে ২৭০ টাকা নিয়ে দোকানে গেলে আটাশ (বিআর-২৮) চাল পেতেন পাঁচ কেজি। ঈদের দুদিন আগেও এই দামে চাল কিনেছেন। দিন দশ হচ্ছে এ টাকায় পাচ্ছেন সাড়ে চার কেজি চাল।

বললেন, ‘প্রতিদিন সকালে কারওয়ান বাজারের আড়ত থেকে ফল কিনি। বিক্রি করে সন্ধ্যায় বাসায় যাই। সব দিন পারি না। শরীর ভালো না। আয়-পসার বাড়ে নাই। কিন্তু চাউলের দাম বাড়ছে। আমরা গরীব মানুষ তো পেট ভইরা তিনবেলা কয়টা ভাত খাই। এইটাও যদি ঠিকমতো কিনতে না পারি তাইলে বাঁচুম কেমনে কন?’

বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভাসের একটা বড় জায়গা দখল করে আছে চাল। এদেশের নি¤œবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পরিবারের তিনবেলা খাবারেই ভাত থাকে। সামর্থ্য বুঝে কেউ চিকন আবার কেউ মোটা চাল পাতে তোলেন। এ কারণে চালের দাম বাড়লে টান পড়ে সংসার খরচে। মধ্য থেকে নিম্নবিত্ত মানুষ এই টানাপড়েন টের পান। পাই টু পাই হিসাব করে যাদের সংসার চালাতে হয় তারা পড়েন বড় বিপাকে। এমনিতেই প্রতিমাসে সংসার খরচ বাড়ে। তার ওপর চালের বাড়তি দাম বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো হয়।

ঢাকাসহ সারা দেশে দিন এনে দিন খাওয়ার মানুষের সংখ্যা কম নয়। এখনো এদেশের সিংহভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বেঁচে আছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের মিল রাখতে সব সময়ই তারা হিমশিম খান। অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে দিন পার করতে করতে সয়ে গেছে অনেকের। আবার অনেকের পিছু ছাড়ে না ধার-দেনা। এমন অবস্থায় নিত্যপণ্য বিশেষ করে খাবারের যে উপাদানটি বেশি প্রয়োজন সেই চালের দাম যদি লাগামের বাইরে চলে যায় তাহলে করার কী থাকে? ব্যয়ের সঙ্গে মিল রেখে আয় বাড়ানো একটা উপায় হতে পারে। এটাও সবার পক্ষে সম্ভব নয়। চাকরিজীবীরা চাইলেই তো আর আয় বাড়াতে পারেন না। তাহলে? তাহলে উপায় হচ্ছে খাবার কমিয়ে দেয়া। নির্দয়ের মতো শোনালেও নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে যারা বিপাকে পড়েন সেই পরিবারগুলো গোপনে এই নির্দয় কাজটিই করতে বাধ্য হচ্ছে। নয়তো কমিয়ে আনছে সংসারের প্রয়োজনীয় অন্য খরচ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিলাসিতা বা প্রসাধনী সামগ্রীর দাম বাড়লে সমাজের খুব একটা প্রভাব পড়ে না। মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজন কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তার প্রভাব সহজেই দেখা যায়। মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। যে মানুষটি মাসে দুই হাজার টাকা চাল কিনে মাস পার করতেন তার খরচের খাতায় যদি ১০-১২ শতাংশ অতিরিক্ত খরচ যোগ হয় তাহলে এটা তার জন্য কঠিন হয়েই দাঁড়ায়। কারণ এদেশের অধিকাংশ পরিবারে সারা বছরই অভাব-অনটন লেগে থাকে। বছরের পর বছর খেয়ে-পরে টিকে থাকলেও আসলে তারা অসচ্ছল জীবনযাপন করছে। তাই আর যাই হোক, চাল-ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম যতটা পারা যায় স্থিতিশীল রাখা উচিত। পারলে কমিয়ে আনা ভালো। অথচ আমাদের দেশের বাজার ব্যবস্থা এমন যে, একবার কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তা কমতে চায় না। কমলেও তা বৃদ্ধির তুলনায় খুবই কম।

ঈদের পর থেকে এখন পর্যন্ত চালের বাজারের দর উপর দিকে উঠছে। দিন ঘুরছে দামের কাটাও ঘুরছে। ঈদের আগের বাজারের চেয়ে পরের বাজারে মোটা থেকে চিকন চাল প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় কেজিতে দাম বেড়েছে দশ টাকা। চালের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সরকার ও ব্যবসায়ী দুটো পক্ষ হয়েছে। একে অপরকে দোষ দিচ্ছে। সরকার বলছে, চালের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। আমদানিও হচ্ছে। এখন দাম বাড়ার প্রশ্নই আসে না। ব্যবসায়ীরা চক্রান্ত করে এ কাজ করছে। সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের কৌশল হিসেবেও দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

আর ব্যবসায়ীরা বলছে, চালের মজুদ কম। মিল মালিকরা পর্যাপ্ত ধান কিনতে পারেনি। এতে চালের সরবরাহ কমে গেছে। চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে। আবার প্রশাসনের অভিযানে ৫০ হাজার বস্তা চাল জব্দের ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর মোকামে। রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রডাক্ট মিলে অভিযান চালিয়েছিল জেলা প্রশাসন।

ওদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর ভাষায় চালের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করেছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সংসদে তিনি বলেন, চালের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারা এই খেলা খেলছে তা খুঁজে বের করতে হবে। ১৯৭৪ সালের খাদ্যসচিব পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন। এখন থেকে সতর্ক হওয়ার ব্যাপার আছে। তিনি বলেন, ধান-চালের হিসাব নেওয়া হচ্ছে।

কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না এটি খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সরকারপ্রধান। বলেছেন, ‘ধান-চালের হিসাব নেওয়া হচ্ছে। চাল মজুদ রেখে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে কি না, তা তল্লাশি করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাজারের হালচাল

চালের বাজারের হালচাল জানার জন্য ঘোরা হয়েছে ঢাকার পাইকারি ও খুরচা বাজারে। এখানেও আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। কয়েক গজের ব্যবধানে একই চাল বিক্রি হচ্ছে দুই দামে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজারে যে চাল ৫৬ টাকা কেজি, আনুমানিক দুই শ গজ দূরে খুচরা বাজারে সেই চাল কিনতে হচ্ছে ৬০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতা বলছেন পাইকারি কেনা বেশি। বিক্রি করতে হয় বেশি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আড়তদাররা চাল দিতে পারছে না। সরবরাহ কম। আড়তদাররা আবার দেখিয়ে দিচ্ছেন মিল মালিকদের। মিল মালিকরা পর্যাপ্ত চাল দিতে পারছেন না। আর মিল মালিকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ধান কম সংগ্রহের অজুহাত দিচ্ছেন। অথচ সরকার বলছে, এ বছর ১ কোটি ৯২ লাখ টন ধান আমাদের ঘরে এসেছে। চার মাসে মানুষ ১ কোটি টন চাল খেয়েছে। আর বাকি চাল এখনো বাজারে আছে।   

কাওরান বাজারের চালের ব্যবসায়ী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘চালের দাম বাড়ছে। আমরা তো ইচ্ছা করে বাড়াচ্ছি না। বেশি দামে কিনছি তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।’ মোটা চাল কেমন দরে বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশাইল ৭০ টাকা, আটাশ ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা, মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৩ টাকা, চিনিগুঁড়া চাল ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা, সিদ্ধ কাটারী চাল ৭৫ থেকে ৭৬ টাকা, বাসমতী চাল ৭২ থেকে ৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারে ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা মিনিকেট চাল ২৮০০ থেকে ২৯০০ টাকা, নাজিরশাইল ২৮০০ থেকে ৩৪০০ টাকা, আটাশ ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা, স্বর্ণা ও ভারত থেকে আসা মোটা চালের বস্তা ২১৫০ থেকে ২২০০ টাকা, পারিজা ২৩০০ টাকা এবং পাইজাম চালের বস্তা ২২০০ টাকায় বিক্রি হয়। ঈদের আগে এই বাজারে এসব চালের দাম বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে কম ছিল বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

বাবুবাজার চালের পাইকারি আড়তে মিনিকেট চাল বস্তাপ্রতি ২৭২০ থেকে ২৮৩০ টাকা, নাজিরশাইল ২৮০০ থেকে ৩২০০ টাকা, আটাশ ২৪০০ থেকে ২৪২০ টাকা এবং স্বর্ণা ও গুটি চালের বস্তা ২১৭০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হয়।

দোকানি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতি কেজি চালে পাঁচ থেকে সাত টাকা করে বেড়ে গেছে। এখানে মোটা চালের চাহিদা বেশি থাকে। দাম বাড়ায় চাহিদা অনেকটা কমে গেছে।

চালের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মজুদদাররা লাভবান হচ্ছে। আগে কম দামে কেনা চাল এখন বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি তারা কম দামে কেনা চাল আগের দামেই বিক্রি করছেন। দাম বাড়াননি। একই বাজারের ব্যবসায়ী হাশেম বলেন, ‘চাল আমদানি না বাড়ালে চালের দাম সামনে আরও বাড়বে। আমাদের গোডাউনে যে চাল কম দামে কেনা ছিল তা আগের দাম অনুযায়ী বিক্রি করছি। আর এখন যে চাল কিনছি তা বেশি দামে বিক্রি করছি। আমরা সিন্ডিকেট করে চাল মজুদ রাখা বা সংকট তৈরি করছি না।’

ওই বাজারে ক্রেতা আলতাফ হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। বলেন, ‘সরকার বলছে চালের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। তাহলে বাজার এমন অস্থিতিশীল হচ্ছে কেন? সরকার খোলাবাজারে চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু করলে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু সরকার তো তা করছে না।’

মিরপুরের কাজীপাড়ায় লিমা স্টোরে চাল কিনতে এসেছেন রেহানা বেগম। বললেন, স্বামী রিকশা চালায়। ঘরে ছোট দুই সন্তান। রেহানা মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করেন। অভাবের সংসার। চালের দাম বাড়ায় তার খরচ বেড়েছে। এটা তার জন্য কষ্টের হয়েছে।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলী বলেন, ঈদের কারণে প্রত্যেকটা মিলই ১০ থেকে ১২ দিন ধরে বন্ধ ছিল। এতে বাজারে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া ধানের মৌসুম শেষ, ধানও শেষের দিকে। আগামী মৌসুমের আগে চালের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

আমদানি শুল্ক কমেছে, সুফল মিলছে না

পাইকারি, খুচরা ও মিল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংকট মেটাতে চালের আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে দুই ধাপে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও তার সুফল তেমন পাওয়া যায়নি। কেননা ভারতের ব্যবসায়ীরা সুযোগমতো রপ্তানি মূল্য বাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য মতে, এখন সেটা টনপ্রতি ৫৮০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আবার দেশে প্রতি মণ ধানের দাম এক হাজার টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ৪০০ টাকায় উঠেছে।

ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা হলে ছাড় নয়

ভারত চাল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে এমন তথ্য ছড়িয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে একশ্রেণির অসাধু চক্র। এদের ব্যাপারে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘ভারত চাল রপ্তানি বন্ধ করেনি। রপ্তানি করার জন্য ১ কোটি টনেরও বেশি চাল আছে ভারতের। অথচ একদল অসাধু ব্যবসায়ী টাকা খরচ করে চালের বাজার অস্থিতিশীল করতে ভুয়া চিঠি বানিয়ে বলেছে যে, ভারত বাংলাদেশের কাছে চাল রপ্তানি করবে না। স্বাক্ষরবিহীন এই ভুয়া চিঠির ওপর ভিত্তি করে কিছু পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল প্রতিবেদনও তৈরি করেছে।’

চালের অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে যারা এসব কাজ করছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

পর্যাপ্ত মজুদ, তারপরও দাম কেন বাড়ছে?

দেশে পর্যাপ্ত চালের মজুদ আছে। তার পরও দাম বৃদ্ধির কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামও। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে ১ কোটি টন চাল আছে এবং দেশে চালের কোনো সংকট নেই। দামও এত বাড়ার কথা নয়। তিনি চালের দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকে দায়ী করে বলেন, ‘চাল নিয়ে রাজনীতি চলছে, চাল নিয়ে সারা দেশকে একটা বিভ্রাটের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাল নিয়ে চালবাজি হচ্ছে, চাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।’

চাল আমদানির জন্য মিয়ানমার সফরে যাওয়ার বিষয় উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। তিনি একটি ইংরেজি দৈনিকের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘ওই পত্রিকা লিখেছে, মিয়ানমারের চাল আমরা আনতে পারব না। কিন্তু সত্য হলো, চাল রপ্তানির ব্যাপারে চুক্তি করতে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসছে। তাদের সঙ্গে দাম নিয়ে আলোচনার পর ২ লাখ টন চালের জন্য চুক্তি হবে। মিয়ানমারের চাল গুণগত মানে ভালো, দাম কম এবং তাড়াতাড়ি দেশে আনা যাবে।’

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মজুদদার, আড়তদার, মিল মালিকসহ সবার প্রতি আহ্বান জানাব, এখনই ভালো হয়ে যান, সময় আছে। আপনারা যেভাবে চালের দাম বাড়াচ্ছেন, যেভাবে সিন্ডিকেট ও চালবাজি শুরু করেছেন, রাজনীতি শুরু করেছেন, একটা বিভ্রাট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। এখনই শেষ সুযোগ আপনাদের, ভালো হয়ে যান।’

এবার ঘরে উঠেছে কোটি ৯২ লাখ টন ধান

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যা ও রোগবালাইয়ে দেশে ২০ লাখ টন ফসল নষ্ট হয়েছে। ফসলহানির পরও ১ কোটি ৯২ লাখ টন ধান আমাদের ঘরে এসেছে। চার মাসে মানুষ ১ কোটি টন চাল খেয়েছে আর বাকি চাল এখনো বাজারে আছে। হয় মিল মালিক, আড়তদার, না হয় ছোট-বড় ব্যবসায়ী কারও না কারও বাড়িতে এসব চাল আছে। এরপরও চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

শুল্ক কমানোর পর বেসরকারিভাবে ভারত থেকে ৬ লাখ টন চাল এসেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চাল নিয়ে চালবাজি ও রাজনীতি হচ্ছে, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে, সংকট সৃষ্টি এবং সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। বেসরকারিভাবে ১৭ লাখ টন চাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ৩৪ টাকা দরে সাড়ে ১২ লাখ টন বোরো চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও মাত্র আড়াই লাখ টন সংগ্রহ হওয়ায় চাল আমদানি করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভিয়েতনামের ১ লাখ ৫৪ হাজার টন চাল গুদামে ঢুকেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর ভাষায় চালের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করেছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সংসদে তিনি বলেন, চালের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারা এই খেলা খেলছে তা খুঁজে বের করতে হবে। ১৯৭৪ সালের খাদ্যসচিব পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন। এখন থেকে সতর্ক হওয়ার ব্যাপার আছে। তিনি বলেন, ধান-চালের হিসাব নেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না এটি খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সরকারপ্রধান। বলেছেন, ধান-চালের হিসাব নেওয়া হচ্ছে। চাল মজুদ রেখে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে কি না, তা তল্লাশি করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২০সেপ্টেম্বর/এইচএফ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত