নির্বাচনকালীন সরকাপ্রধান হতে পারেন শেখ হাসিনা: গণফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:২৭

সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হতে পারে বলে মত দিয়েছে গণফ্রন্ট। দলটি মনে করে বর্তমান সরকারকে সংবিধান সংশোধন করে হলেও একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। স্বাধীনতার পর থেকে যেসব নিবন্ধিত দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল তাদের সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করা যেতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে দলটি এই মতের কথা জানিয়েছে। আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে বুধবার বেলা ১১টায় শুরু হয় এই সংলাপ। চলে প্রায় দুই ঘণ্টা।

সংলাপে গণফ্রন্টের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা এতে সভাপতিত্ব করেন।

সংলাপ শেষে জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে সংবিধান সংশোধন করে হলেও (তত্ত্বাবধায়ক নয়, অরাজনৈতিক সরকার নয়) একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। স্বাধীনতার পরে যেসব নিবন্ধিত দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল (বিতর্কিত নির্বাচন যেমন ৮৮,  ৯৬ এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ব্যতীত) তাদের  সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সমঝোতার মাধ্যমে সে সরকারের প্রধান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের কেউ জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।’

এছাড়া নির্বাচনে ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে সেনা সদস্য মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান জাকির হোসেন। গণফ্রন্টের চেয়ারম্যান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়, নির্বাচন ভীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

এছাড়া দলটির অন্যান্য প্রস্তাবগুলো হলো, দলের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নামসর্বস্ব, প্যাডসর্বস্ব, অফিসবিহীন রাতারাতি গড়ে উঠা অনিবন্ধিত দলগুলো যাতে নিবন্ধিত দলের সাথে জোট করতে না পারে এজন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন; নির্বাচনের অন্তত ছয় মাস আগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রধানের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ; জাতীয় সংসদের সীমানা পুনর্বিন্যাস করার জন্য আইনি কাঠামো সংস্কার করা, পাশাপাশি বাস্তবতার নিরিখে আসন সংখ্যারও বৃদ্ধি করা। সংসদের আসন ন্যূনতম সংখ্যা ৩৫০/৪৫০টি করা; প্রবাসীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদেরকে সহজে ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা; একই পোস্টারে সব প্রার্থীর পরিচয় ও প্রতীক এবং নির্বাচনী জনসভা একই মঞ্চে সব প্রার্থীর বক্তব্যের ব্যবস্থা করা; দেশ, জনগণ, গণতন্ত্রের স্বার্থে বিতর্কিত নির্বাচন নয়, সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান, নারী আসন বৃদ্ধি, প্রতি জেলায় একজন নারী সংসদ সংরক্ষিত আসনে নিয়োগ, ধর্মবিরোধী দলের নিবন্ধন বাতিল; নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

বিকাল তিনটায় গণফোরামের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ঘোষিত পথনকশা অনুযায়ী নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ করছে ইসি। গত ২৪ আগস্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে ইসি। এ পর্যন্ত ১৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে সংস্থাটি।

(ঢাকাটাইমস/১৩সেপ্টেম্বর/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত