রায়পুরায় এক রাতে দেড়শ ভিটেবাড়ি মেঘনায়

প্রকাশ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৭:৩৯

নরসিংদী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস

নরসিংদীর রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চলের চানপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে আবারো ভাঙন শুরু হয়েছে।

সোমবার রাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেড় শতাধিক ভিটেবাড়ি মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সাথে সাথে অথৈই পানিতে তলিয়ে গেছে ঘর-বাড়ি, তৈজসপত্র, আসবাবপত্রসহ ৪৬টি পরিবারের সহায় সম্পদ।

মাস দুয়েক পূর্বে একইভাবে ভাঙনের শিকার হয় কমবেশি ২শ পরিবার। ভাঙনের শিকার এইসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। চালা নেই, চুলা নেই, আশ্রয়হীন অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে কয়েকশ নারী পুরুষ ও শিশু।

৩ মাস ধরে সেখানকার মানুষ ভয়াবহ ভাঙনের শিকার হলেও সরকারিভাবে এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে কোন ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে না। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাৎক্ষণিক কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।  ফলে দিনের পর দিন মেঘনার করাল গ্রাসে পতিত হয়ে চানপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামটি মানচিত্র থেকে মুছে যাবার উপক্রম হয়েছে।

একইভাবে ভাঙন চলছে পাশের মির্জাপুর, চরমধুয়া ইউনিয়নে।  ইতোমধ্যেই এ দুটি ইউনিয়নের কয়েকশ বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ মাঠ, গোরস্থান  মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী শিকস্তি এই জনপদের অসহায় মানুষের সাহায্যে কেউই এগিয়ে আসছে না।

এ ব্যাপারে নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হোসেন জানান, তিনি নিজে চানপুর ইউনিয়ন, চরমধুয়া ইউনিয়ন ও মির্জাচর ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু তাদের রিসোর্স না থাকায় প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তবে নরসিংদী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ভূইয়া জানান, যে জেলা  পরিষদের পক্ষ থেকে গত ২২ আগস্ট ও ৩০ আগস্ট চানপুর, চরমধুয়া,  মির্জাচর ও নরসিংদীর করিমপুর শুটকিকান্দা এলাকায় দুদফা ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে যারা ভাঙনের শিকার হয়েছে তাদেরও শিগগির জেলা পরিষদের সাহায্যের আওতায় আনা হবে।

এ ব্যাপারে চানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোমেন সরকার জানান, নদী ভাঙন রোদে বেড়িবাঁধ  নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছে। এ পর্যন্ত কোন সুফল পাওয়া যায়নি।

(ঢাকাটাইমস/২০সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)