হাতির গোবর দিয়ে কোটিপতি!

তাজরিন জাহান তারিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:০২ | প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:০২

প্রকৃতি তার সৃষ্টির সুবিধার জন্য অঢেল সম্পদ দিয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু সম্পদ এমন জায়গায় লুকানো আছে যেগুলো আমরা ভাবতেও পারি না। মনে করি ফেলনা আবর্জনা। এসব ফেলনা আবর্জনাই ঠিকঠাক হাতে পড়লে হয়ে ওঠে মহামূল্যবান সম্পদ। তবে চিনে নেয়াটা কঠিন, ওটা যার তার কাজ না। ভারতের উদ্যোক্তা মহিমা মেহেরা এবং ভিজেন্দ্র সাখাওয়াত এরকমই একটা ফেলনা জিনিসের মাঝে লুকোনো সম্ভাবনাকে খুঁজে পেয়েছিলেন। আর সেই ফেলনা জিনিসটা হলো হাতির গোবর।

তারা ব্যবসা শুরু করেছিলেন ১৫০০০ রুপি ধার নিয়ে। আর তাদের ব্যবসার প্রধান কাঁচামাল ছিলো হাতির গোবর। এটিই এখন তাদের কোটি টাকার ব্যবসার মালিক বানিয়ে দিয়েছে। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়ছেন। হাতির গোবরকে পূঁজি করে কোটি টাকার ব্যবসা করছেন এই দুই ব্যবসায়ী।

তাদের শুরুটা জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০০৩ সালে। জয়পুর অ্যাম্বার দূর্গের কাছে হাটতে হাটতে পথে পড়ে থাকা হাতির টাটকা গোবরে হোঁচট খেয়েছিলেন মহিমা। ইউরেকা ইউরেকা বলে চিৎকার না করলেও দারুন একটা ভাবনা খেলে গিয়েছিল তার মাথায়। এই গোবর দিয়েই কাগজ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রায় এক দশক ধরে এই দম্পতি মানুষের ছি ছি শুনে গেছেন। কিন্তু তারা মনবল হারাননি। হাতির গোবরের নোংরাটুকু পেরিয়ে আরো অনেক বড় সম্ভাবনার দেখা পেয়েছিলেন তারা।

এরপর আর তাদেরকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তাদের তৈরি কাগজ এখন রীতিমতো বিখ্যাত। তাদের কোম্পানিও খ্যাতনামা ব্র্যান্ড। নোটবুক থেকে শুরু করে ছবির অ্যালবাম, ফ্রেম, ব্যাগ, গিফট ব্যাগ সবই তৈরি করছেন হাতির গোবর দিয়ে বানানো কাগজ দিয়ে। দামও রয়েছে হাতের নাগালের মধ্যেই। ১০-৫০০ রুপিতেই পাওয়া যায় এসব পণ্য।

যদিও তাদের ব্যবসা ভারতে গড়ে উঠেছে তবে শুরুতেই তারা তাদের পণ্য রপ্তানি করে আসছিলেন দেশের বাইরে। এমনকি পণ্য ভারতের বাজারে আসার চার বছর আগে থেকেই তারা এগুলো জার্মানিতে রপ্তানি করতেন। আর বর্তমানে ‘হাতি ছাপ’ দেয়া পণ্য যুক্তরাজ্যেও জায়গা করে নিয়েছে।

কিন্তু হাতির গোবর থেকে কাগজ হয় কি করে? এটাই ভাবছেনতো? হাতির হজমে বেশ গোলমাল রয়েছে। যা খায় তার সবটা হজম করতে পারে না। যার ফলে তাদের গোবর অনেক আঁশালো হয়। আর এই আঁশ ব্যবহার করেই অনেক ভাল মানের কাগজ তৈরি করা যায়। গোবর থেকে কাগজ তৈরির প্রথম ধাপ হচ্ছে গোবর পানিতে ফেলে পরিষ্কার করা। এবং এই গোবর পরিষ্কার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। প্রথমেই বড় একটি পানির ট্যাঙ্কে গোবরগুলো জমা করা হয়। এই গোবর ধোয়া পানিইও কিন্তু ফেলনা না, এটাকেও জৈব সার হিসেবে কৃষি জমিতে ব্যবহার হয়। আর পরবর্তী ধাপে গোবরগুলো শুকিয়ে কাগজ তিরির জন্য মন্ড প্রস্তুত করা হয়।

মহিমা ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ বান্ধব পরিবেশে বসবাস করা পছন্দ করে। তার এই চিন্তা ভাবনাই তাকে শিখিয়েছে যে হাতির গোবরের মতন একটা ফেলনা জিনিসও ব্যবহারযোগ্য সম্পদ। ‘হাতি ছাপ’ এর কর্মীদল রয়েছে যারা এই গোবর থেকে কাগজ তৈরিতে মহিমাকে সাহায্য করে।

তাদের তৈরি পণ্য একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করেছে ভারতের বাজারে। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিচার করলে একেবারেই উপেক্ষা করা যায় না। দূষিত নগরে তাদের এই রাসায়নিক মুক্ত পণ্য আমাদের সবুজ পরিবেশ রক্ষায় এক মহৎ উদ্যোগের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

ঢাকাটাইমস/২০সেপ্টেম্বর/টিজেটি/কেএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত