‘ট্রাম্পের বক্তব্য মূর্খতাপূর্ণ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:৪৮ | প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:৪৪

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্পের মূর্খতাপূর্ণ ঘৃণ্য বক্তব্য মধ্যযুগীয় চিন্তাধারা থেকে উৎসারিত এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানো অর্থহীন।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ইরানের প্রতি নকল সহানুভূতি কাউকে বোকা বানাতে পারবে না।’

গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো দেয়া ভাষণে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তিকে বিপজ্জনক সমঝোতা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন এটি তার প্রশাসনের জন্য ‘বিব্রতকর পরিস্থিতি’ তৈরি করেছে। ইরানকে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী’ অভিহিত করে তিনি দাবি করেন, দেশটি সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান বিরোধী মূর্খতাপূর্ণ বক্তব্যকে দু'দিক থেকে মূল্যায়ন করেছেন।

প্রথমত, ট্রাম্পের কথাবার্তা থেকে তার অজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া যায়। অবশ্য ইরানের ব্যাপারে তিনি যে অযাচিত বক্তব্য দিয়েছেন তা অপ্রত্যাশিতও নয়। এর আগেও মার্কিন সরকারের আচরণে প্রমাণিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সমাজের সিদ্ধান্ত ও দাবির প্রতি তারা কোনো শ্রদ্ধা পোষণ করে না এবং কোনো প্রতিশ্রুতিও তারা রক্ষা করে না। যুক্তরাষ্ট্র যখনই দেখে কোনো পরিবর্তন বা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত তাদের বলদর্পী শাসন ও অন্যায় আবদারের বিরুদ্ধে যাচ্ছে তখনই তারা আন্তর্জাতিক সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে কুণ্ঠাবোধ করে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে একের পর এক বক্তব্য দিয়ে চলেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান বিরোধী বক্তব্যের দ্বিতীয় দিকটি হচ্ছে, তিনি বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। মার্কিন সরকার কখনই এ বাস্তবতা মেনে নিতে চায় না যে, আন্তর্জাতিক যেকোনো সমস্যা সমাধানে তারা ব্যর্থ। বাস্তবতা হচ্ছে, বিশ্বে বিরাজমান যুদ্ধ-বিগ্রহসহ নানা সংকট সৃষ্টির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফ বলেছেন, ‘যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের মতো জঘন্য অপরাধী অবৈধ সরকারকে সমর্থন করে, মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরশাসকদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয় এবং উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করে সেই দেশের প্রেসিডেন্টের এ ধরনের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রকে আগের চেয়ে আরো বেশি একঘরে ও কোণঠাসা করে ফেলবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্র তার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন সরকার তার আচরণে প্রমাণ করেছে, পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে তারা আন্তরিক নয়। এমনকি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও মিথ্যাচার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতাকে সবচেয়ে খারাপ চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছেন। অথচ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওই চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একঘরে অবস্থা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বাস্তবতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি নিউইয়র্কে সেদেশের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ বিষয়ক কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে বলেছেন, ‘কোনো একটি পক্ষ যদি আন্তর্জাতিক যে কোনো সমঝোতাকে পদদলিত করে তাহলে তার অর্থ হবে বিশ্বকে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়া।’

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে ইরানও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত এবং এ ব্যাপারে আমাদের কোনো ভয় নেই।’

সূত্র: পার্স টুডে

(ঢাকাটাইমস/২০সেপ্টেম্বর/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত