কলেজছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ চারজন আসামি

শেরপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২২:২৫ | প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২১:৩৩

শেরপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- সদর উপজেলার সূর্যদী গ্রামের শামীম মিয়া, বারঘরিয়া গ্রামের কামারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বারি, সূর্যদী গ্রামের মতি ও জিয়া।

ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটির বাড়ি শেরপুরের নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী গ্রামে। তিনি নকলার একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ছাত্রীটির মা বুধবার বিকালে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করেন।

আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন মামলাটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি শামীম মিয়া কলেজে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই ছাত্রীটিকে উত্যক্ত করতেন। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে সূর্যদী চারআনীপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর বেশ কিছুদিন বিভিন্নস্থানে নিয়ে শামীম ছাত্রীটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এরপর ছাত্রীটি শামীমকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রবিবার তিনি মোবাইলফোনে ছাত্রীটিকে তার সূর্যদী চারআনীপাড়া গ্রামের বাড়িতে ডেকে আনেন এবং ওইদিন সকাল দশটা থেকে বিকাল দুইটা পর্যন্ত তিনবার ধর্ষণ করেন। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকালে আসামি আব্দুল বারি ওই ছাত্রীটিকে কুপ্রস্তাব দেন এবং এক পর্যায়ে ছাত্রীটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় ছাত্রীটির চিৎকারে প্রধান আসামি শামীম, মতি ও জিয়া ছাত্রীটির গলায় থাকা ওড়না দিয়ে পেচিয়ে তাকে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে শামীম ছাত্রীটিকে ঘুমের ওষুধ মেশানো কোমল পানীয় পান করান এবং অন্য আসামিদের সহযোগিতায় অলিখিত সাদা স্ট্যাম্প ও কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও টিপসই নেন।

পরে সংবাদ পেয়ে রবিবার গভীর রাতে সদর পুলিশ ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার আসামি কামারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারি বলেন, শামীমের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তার ইউনিয়ন পরিষদে উভয়পক্ষকে ডেকেছিলাম। কিন্তু মেয়ে পক্ষ না আসায় রবিবার রাত দুইটার দিকে সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে মেয়েটিকে হস্তান্তর করি। মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা তো দূরের কথা, তার গায়েও স্পর্শ করিনি।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল মামুন বলেন, আদালতে মামলার বিষয়টি শুনেছি। আদালতের নির্দেশনা হাতে পেলে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২০সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত