জনগণকে নতুন স্বপ্ন দেখাতে পারছি না

বোরহান উদ্দিন
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৮:২২

এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (বাংলাদেশ ন্যাপ) মহাসচিব। ১৯৯৩ সালে ছাত্ররাজনীতি শেষে জাতীয় রাজনীতিতে নাম লেখান। ২০০২ সালে মওলানা ভাসানীর আদর্শের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে জাতীয় গণমুক্তি আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৬ সালে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ছেলে সাবেক মন্ত্রী শফিকুল গণি স্বপনের নেতৃত্বে মাওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত ন্যাপকে পুনর্গঠন কাজে অংশ নেন। এখন এই দলের মহাসচিব। সম্প্রতি ঢাকাটাইমসের সঙ্গে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক বোরহান উদ্দিন।

 

ঢাকাটাইমস: দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনার দলের ভাবনা বলুন..

গোলাম মোস্তফা: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সুখকর নয়। চারদিকে সমস্যা। তা বাড়ছে ক্রমান্বয়ে। সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার কোনো প্রচেষ্টা নেই। রাজনীতিটা শুধু মনে হচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়া আর ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। সরকার গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে দেশে এখন নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র চলছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির কাঁধে চেপে বসেছে শাসকগোষ্ঠী। রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

সরকার আর সরকারি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দেশটাকে লুট করছে আর আমরা রাজনৈতিকভাবে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত বলে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছি না। জনগণের মনে নতুন স্বপ্ন দেখাতে পারছি বলে আমার মনে হয় না।

এই সরকারের শাসনামলে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ, পানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায়ও আমরা খুব বেশি জনগণের পক্ষে অবস্থান নিতে পারছি না। বর্তমানে চালের বাজারে আগুন লেগেছে অথচ আমরা নীরব। বিষয়টা খুবই হতাশাজনক।

সার্বিকভাবে দেশ ক্রমান্বয়ে অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমাদের উচিত দ্রুততম সময়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের ব্যবস্থা করা। গণতন্ত্রকে মুক্ত করা। সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং জয়-পরাজয় যাই হোক মেনে নেবার মানসিকতা ধারণ করা।

ঢাকাটাইমস: সামনে নির্বাচন। আপনাদের দল নির্বাচনের জন্য কতটা প্রস্তুত?

গোলাম মোস্তফা: একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে অবশ্যই আমরা নির্বাচনমুখী দল। আর গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতি তো চলছে। ২০ দলীয় জোটের একটি শরিক হিসেবে অবশ্যই জোটগতভাবেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার  আশা রাখি। তবে, একটি স্বাধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণেরও প্রস্তুতি রাখছি।

ঢাকাটাইমস: জোটগতভাবে নির্বাচন হলে বাংলাদেশ ন্যাপ কয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়?

গোলাম মোস্তফা: জোটগতভাবে নির্বাচন হলে অবস্থা ও পরিবেশ অনুযায়ী আসন চাইতে পারি। এককভাবে শতাধিক আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি যেমন আছে, অন্যদিকে জোটগতভাবে পাঁচটি আসন দাবি করতে পারি। তবে, এসব ক্ষেত্রে জোটের ও গণতন্ত্রের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়া হবে।

ঢাকাটাইমস: গত নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল নির্বাচনে যায়নি। আগামী নির্বাচনে যদি এমন সিদ্ধান্ত হয় তাহলে বাংলাদেশ ন্যাপ কি নির্বাচন বর্জন করবে, নাকি আলাদা নির্বাচন করবে?

গোলাম মোস্তফা: ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন জোট বর্জন করেছিল গণতন্ত্রের স্বার্থে। আমরা আশা করি, এবার সরকার সেই উপলব্ধি থেকে সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করবে। সব দলের সঙ্গে একটি সংলাপের মাধ্যমে চলমান সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করবে।

আমরা এখনো আশাবাদী জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেব। অংশগ্রহণ কিংবা বর্জন- সেই সিদ্ধান্ত জোটগতভাবে নেয়া  হবে বলে আশা রাখি।

ঢাকাটাইমস: বিভিন্ন সময় জোটে ভাঙনের গুঞ্জন শোনা যায়। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে। সামনে নির্বাচন ঘিরে এমন কোনো আশঙ্কা করছেন কি না?

গোলাম মোস্তফা: এই ধরনের গুঞ্জন সব সময়ই শোনা যায়। আর সরকারের পক্ষ থেকে জোট ভাঙার প্রচেষ্টা সব সময়ই করা হয়। শাসকগোষ্ঠীর এই চরিত্র নতুন কিছু নয়। তবে, এ ব্যাপারে আমাদের সবারই সজাগ থাকা উচিত। বিশেষ করে জোটের প্রধান দলকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। আপাতত জোট ভাঙার কোনো আলামত নেই।

ঢাকাটাইমস: রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে ২০ দলের ভাবনা কি?

গোলাম মোস্তফা: রোহিঙ্গা সমস্যা একটি জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যা কোনো দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। এটি পুরো বাংলাদেশের সমস্যা। প্রতিবেশী মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠর নির্মম গণহত্যা সমগ্র মানবতা ও মানবাধিকারকে পদদলিত করেছে। মিয়ানমারের নোবেল বিজয়ী অং সাং সু চির ভূমিকাও আজ প্রশ্নবিদ্ধ। রোহিঙ্গাদের শুধু আশ্রয় দেয়ার মধ্যেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হলে চলবে না। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ সমস্যা নিয়ে কোনো রাজনীতি নয়। এই সমস্যা সমাধানে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আমরা।

ঢাকাটাইমস: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারের জন্য আপনাদের কোনো পরামর্শ আছে?

গোলাম মোস্তফা: রোহিঙ্গা সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে সরকারের উচিত সব রাজনৈতিক দলের জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। আমরা আশা করি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের নাগরিকত্ব প্রদান ও মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। বিশ্বের সব দেশকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আহ্বান জানাবেন। মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসিকেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বাধ্য করবেন।

ঢাকাটাইমস: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

গোলাম মোস্তফা: ঢাকাটাইমসকেও ধন্যবাদ।

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত