‘পাকিস্তান বলির পাঠা হতে চায় না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:২৩ | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:১১

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি বলেছেন, আফগানিস্তানে চলমান রক্তক্ষয়ী সহিংসতা এবং অন্যদের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তান ‘বলির পাঠা’ হয়ে থাকতে চায় না। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেছেন।

আফগানিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কৌশলের স্পষ্টভাবে সমালোচনা করেননি। তবে তিনি পাকিস্তানের ওপর চাপানো দায় নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

আব্বাসি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় পাকিস্তানকে প্রচুর ত্যাগ স্বীকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। আফগানিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক সংকটের জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করা হচ্ছে। এটা খুবই পীড়াদায়ক।’

‘আমরা কারো ‘বলির পাঠা’ হয়ে বেঁচে থাকতে প্রস্তুত নই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আফগানিস্তানের যুদ্ধ আমরা পাকিস্তানের মাটিতে হতে দিতে চাই না। তাছাড়া আমরা আফগানিস্তান ও পাকিস্তান এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলির জনগণের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত এবং ত্বরান্বিত হয় এমন কোনো ব্যর্থ কৌশল সমর্থন করতে পারি না।’

যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে ২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর মার্কি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার পাকিস্তানি চরমপন্থীদের হামলায় মারা গেছে বলে আব্বাসি জানান।

ইসলামিক স্টেট(আইএস), আল কায়েদাসহ সব জঙ্গি সংগঠনকে নির্মূল করতে আব্বাসি আহ্বান জানান। পাশাপাশি তালেবানের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় আসারও আহ্বান জানান তিনি।

জম্মু ও কাশ্মিরে ভারতীয় সরকারের চালানো মারাত্মক দমন-পীড়নের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতের সামরিক উসকানির বিষয়ে হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।

পাকিস্তানের বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টির জন্য সন্ত্রাসবাদীদের প্রকাশ্য ও পরোক্ষভাবে অস্ত্র ও অর্থ যোগানো যদি নয়াদিল্লি বন্ধ রাখে তাহলেই কেবল সংলাপ হতে পারে।

জাতিসংঘে দেয়া প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ব্যবস্থাসহ সব অমীমাংসিত বিষয়ে বিশেষ করে কাশ্মির নিয়ে সংলাপ শুরুর জন্য পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে।

কাশ্মির নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইশতেহার দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়ার আহ্বানও জানান তিনি। কাশ্মিরিদের দমনের জন্য ব্যাপক এবং নির্বিচারে ভারত বল প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কাশ্মিরে তরুণ, নারী এবং শিশুদের প্রতি নির্বিচারে গুলি চালানোয় শত শত কাশ্মিরি নিহত এবং আহত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কাশ্মিরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ছররা গুলি ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ধর্ষণ বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কাশ্মিরের আটক সব নেতার মুক্তিও দাবি করেন তিনি।

পাকিস্তান-ভারত পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে মোড় নেয়ার আগেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বানও জানান তিনি। কাশ্মির সীমান্তে ভারতের ঘন ঘন যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাশ্মিরে চালানো বর্বরতা থেকে বিশ্বের নজর ফেরানোর জন্য এমনটা করা হয়।

পাশাপাশি তিনি বলেন, কাশ্মির সীমান্তে ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘সীমিত যুদ্ধের’ নীতি বজায় রাখে তবে তার কঠোর ও যথাযথ জবাব দেয়া হবে।

সূত্র: ডন নিউজ ও পার্স টুডে

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত