মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জেহাদ ফরজ: ইসলামী ঐক্যজোট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৬:২২

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর যে গণহত্যা চালানো হচ্ছে তাতে দেশটির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা ফরজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ। নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী মানবতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন জানিয়ে ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা দিন। দেশের কোটি আলেম ওলামা আপনার পাশে থাকবে।’

শুক্রবার বাদজুমা বায়তুল মোকারমের উত্তরগেটে ইসলামী ঐক্যজোট আয়োজিত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন আরাকানের স্বাধীনতা। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা দিন। দেশের কোটি আলেম যুবক বাঁশের লাঠি নিয়ে লংমার্চ করে বার্মায় ইসলামি পতাকা উড্ডীয়ন করবে ইনশাআল্লাহ।’

আরাকান আগে স্বাধীন ছিল জানিয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের এই নেতা বলেন, ‘১৯৪৮ সালে বার্মা আরাকানের স্বাধীনতা কেরে নেয়। এরপর অসংখ্য আরাকানের মুসলমান বার্মার সংসদ সদস্য ছিলেন। আজ সু চি তার হাত মুসলমানের রক্তে রঞ্জিত করেছেন, আরাকান রক্তাক্ত করেছেন। আরাকানে এখন রোহিঙ্গাদের লাশ আর লাশের মিছিল।’

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শুধু বিবৃতির মাধ্যই আছে। মুসলমান না হলে কি তাদের এই ভূমিকা থাকত? না কি মুসলমাদের মানবতা নেই।’ মুসলমানের স্বার্থ রক্ষায় মুসলিম জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

আরাকানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেখানে জাতিসংঘের শান্তিবাহিনী মোতায়েনের দাবি করে ইসলামী ঐক্যজোটের এই নেতা বলেন, ‘সেখানে আন্তর্জাতিক শান্তিবাহিনী মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোন ঘোষণা করা হোক। অন্যথায় মুসলমানদের অন্তর মোমের মতো নরম, কিন্তু প্রয়োজন হলে তরবারির ওপর দিয়ে হাঁটতে জানি।’ অনেক প্রতিবাদ হয়েছে, এবার প্রয়োজনে প্রত্যাঘাত করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, ‘মিয়ানমারে আরাকানে এভাবে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন চলতে থাকলে তাদের অস্ত্র হাতে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তার আগেই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করুন, রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করুন।’

ইসলামী ঐকজোটের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, ‘মিয়ানমারে সেনাবাহিনী আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন করেছে তা সন্ত্রাসী বাহিনীকেও হার মানিয়েছে। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর গডফাদার সু চির আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যাকারী হিসেবে বিচার করতে হবে।’

ইসলামী ঐক্যজোটের ঢাকা মহানগরীর মহাসচিব শেখ লোকমান হোসেন বলেন, ‘আরাকান মুসলমানদের রাজত্ব, বার্মা জবর দখল করে এখন গণহত্যা চালাচ্ছে। অবিলম্বে ওই এলকাকে নিরাপত্তা জোন ঘোষণা করা হোক। অন্যথায় জেহাদ ঘোষণা করে আরাকানকে স্বাধীন করা হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/জিএম/জেবি) 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত