যমুনার সার উত্তোলনে তিন এজেন্সির কলকাঠি

জামালপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৬:২১
ফাইল ছবি

দেশের সর্ববৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনার সার কারখানা। দৈনিক সাড়ে ১৭শ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষম এই কারখানা থেকে ডিলারদের মাধ্যমে জামালপুর শেরপুর ও উত্তরবঙ্গসহ ১৯ জেলায় সার সরবরাহ করা হয়। এই সার নিতে ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিকে ডিলারদের বছরে গুনতে হয় দুই কোটি টাকা। 

অভিযোগ রয়েছে, এই সার কারখানাকে ঘিরে তারাকান্দি এলাকায় গড়ে উঠে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে কারখানা এলাকায় রয়েছে তিনটি সমিতি। এসব সমিতিগুলো হলো- তারাকান্দি ট্রাক ও ট্যাঙ্কলরি মালিক সমিতি, তরল এ্যামুনিয়া গ্যাস সমবায় সমিতি ও ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি সমিতি। এই ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি সমিতির মাধ্যমে ১৯ জেলার ডিলারদের সার উত্তোলন করতে হয় বস্তা প্রতি দুই থেকে আড়াই টাকা খরচ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার তালিকাভুক্ত বিসিআইসির একাধিক সার ডিলার বলেন, ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি সমিতির মাধ্যমে সার উত্তোলন করতে হয় তাদের। এজন্য জামালপুর জেলার ডিলারদের বস্তা প্রতি ২ টাকা এবং জেলার বাইরে অন্য জেলার ডিলারদের বস্তা প্রতি আড়াই টাকা হিসাবে সমিতিতে জমা দিতে হয়। এই টাকা থেকে অর্ধেক নেন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মালিক, বাকি অর্ধেক টাকার ভাগ দিতে হয় তারাকান্দি ট্রাক ও ট্যাঙ্কলরি মালিক সমিতির কোষাগারে।

যমুনার সার কারখানার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যমুনা সার কারখানা থেকে ১৯ জেলায় ৪ লাখ ৫ হাজার ৮৮২ মেট্রিক টন সার সরবরাহ করা হয়েছে। অর্থাৎ ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪০ বস্তা। এতে দুই কোটি টাকার উপরে ডিলারদের জমা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি সমিতিতে।

তারাকান্দি ট্রাক ও ট্যাঙ্কলরি মালিক সমিতির সভাপতিই ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি সমিতি সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। 

ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সভাপতি মো. বেলাল হোসেনের কাছে ডিলারদের সার উত্তোলনের জন্য বস্তা প্রতি আড়াই টাকা জমা নেয়া হয়। এই টাকার অর্ধেক মালিক সমিতিতে জমা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে টাকা জমা নেয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, এই টাকা কর্মচারীর বেতনসহ নানা খাতে খরচ করা হয়ে থাকে।

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত