নরসিংদীতে ১০ বছরে ১ হাজার ধর্ষণ

এম. লুৎফর রহমান, নরসিংদী
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:১৬

নরসিংদীতে নারী ও শিশু ধর্ষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিন দিন ধর্ষণের ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে চলছে। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকায় ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। গত ৮ মাসে নরসিংদীতে শতাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে ৭৫টি ধর্ষণ ঘটনার অভিযোগ রেকর্ড করা হয়েছে।

গত ১০ বছরে ধর্ষণ ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৮টি। এর মধ্যে ২০০৮ সালে ২৪টি, ২০০৯ সালে ৪৬টি, ২০১০ সালে ৭৫টি, ২০১১ সালে ৭৬টি, ২০১২ সালে ১০৯টি, ২০১৩ সালে ১২০টি, ২০১৪ সালে ১৭৬টি, ২০১৫ সালে ১৮০টি, ২০১৬ সালে ১২৭টি ধর্ষণের অভিযোগ রেকর্ড হয়েছে।

চলতি বছর আগস্ট মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত নরসিংদীতে ৭৫টি ধর্ষণ ঘটনার অভিযোগ রেকর্ড হয়েছে। এ রেকর্ড দেশের যেকোন জেলার চেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

গত রবিবার এক দিনেই রেকর্ড হয়েছে তিনটি ধর্ষণ ঘটনার অভিযোগ। ধর্ষণের সর্বশেষ শিকার হয়েছে রায়পুরার বেগমাবাদ গ্রামের এক স্কুলছাত্রী। গত শনিবার সকালে উদয় নামে এক ধর্ষক তাকে স্কুলের রাস্তা থেকে অপহরণ করে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। রাত ৯টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

ধর্ষিতার পিতা জানান, তার কন্যা স্থানীয় একটি গার্লস স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। সেই সুবাদে সে প্রতিদিন বাড়ি থেকে সকাল ৯ টা সাড়ে ৯টার মধ্যে স্কুলে যাতায়াত করে। এই সুযোগ নিয়ে রায়পুরা উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামের সাফি উদ্দিনের পুত্র উদয় তাকে প্রায়ই রাস্তায় উত্যক্ত করত। এসব কথা মেয়েটি প্রায়ই বাড়ি গিয়ে তার পিতামাতাকে জানাতো।

গত শুক্রবার বাড়ি থেকে স্কুলে যাবার পথে সকাল ৯টায় একটি সিএনজি নিয়ে এসে উদয় তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি জঙ্গলে নিয়ে সারাদিন ধর্ষণ করে। পরে এ ঘটনা থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ তাকে রাত ৯টায় উদ্ধার করে।

একইভাবে সদর উপজেলার ফজুরকান্দী গ্রামে জয়নাল উদ্দিন নামে এক রিকশাচালকের ১১ বছর বয়সী কন্যাকে ধর্ষণ করেছে গাফফার নামে একজন। তার ২টি স্ত্রী রয়েছে। রয়েছে সন্তান সন্তুতি। অভিযুক্তের বাড়ি কাঠালিয়া ইউনিয়নের মৈষাদি গ্রামে।

মেয়েটির মা জানান, তার বাড়ি আড়াইহাজার উপজেলায়। সে ফজুরকান্দী গ্রামের হোসেন আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকে। তার স্বামী জয়নাল উদ্দিন রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। ঘটনার দিন মাজেদা বেগম তার কন্যাকে বাড়িওয়ালা হোসেন আলীর কন্যা আরজুদার নিকট রেখে ডাক্তারের কাছে যায়। এই সুযোগে আরজুদা বেগম গাফ্ফারের হাতে তুলে দেয়। গাফ্ফার তাকে জঙ্গলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনা তার মাকে জানায়।

একই তারিখে শিবপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে কয়েকজন। এছাড়া গত ৫ আগস্ট রায়পুরার দিঘলিয়া কান্দীতে ২৫ বছর বয়সী এক যুবতীকে ধর্ষণ করেছে এলাকার একটি বখাটে চক্র।

এভাবে চলতি বছরের ৮ মাসের মধ্যে জানুয়ারিতে ধর্ষণ হয়েছে ৯ জন নারী ও শিশু, ফেব্রুয়ারিতে ধর্ষণ হয়েছে ১০ জন নারী ও শিশু, মার্চ মাসেও ১০ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, এপ্রিল মাসে ১৩ জন, মে মাসে ৭ জন এবং জুলাই মাসে ১৫ জন নারী শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মামলা করা হলেও তদন্তে তেমন অগ্রগতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত