‘টাঙ্গাইলের কোথাও কি সাপের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়?’

রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল
| আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:৫২ | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:৪৫

সাপের কামড়ে জীবন যখন বিপন্ন তখন সবার সাহায্য চেয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী আয়েশা আক্তার শিমু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন- ‘টাঙ্গাইলের কোথাও কি সাপের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।’ একটু দেরিতে হলেও কেউ কেউ তার স্ট্যাটাস দেখে কমেন্টে দিয়েছিলেন ভ্যাকসিনের সন্ধ্যান। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! স্ট্যাটাস দিয়ে বিষের যন্ত্রণায় তিনি ফেসবুক থেকে বের হয়ে যান। ভ্যাকসিন তাই আর পাওয়া হয়নি তার। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে সবাইকে কাঁদিয়ে শিমু চলে যান না ফেরার দেশে। তার এমন অকাল মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহপাঠী ও পরিবার।

শিমুর স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। স্বপ্নও পূরণের পথে। আর কদিন পরই হয়তো নতুন কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতেন। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তে তার চলে যাওয়া। এ বিদায় পরিবারের জন্য কতটা কষ্টের। প্রতিষ্ঠিত না হয়ে, পরিবারের গর্ব করার মতন কিছু না হয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন না এমনই সংকল্প ছিলো তার। সেটুকুও করা হলো না তার।

শিমু নিজ এলাকাতেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। বাচ্চাদের সাথে মিশতেন মন খুলে। ওরাও তাকে ভালোবাসতো ভীষণ। তাদের প্রিয় শিমু মিস আর নেই, শিশুরা এটা মেনে নিতেই পারছে না।

আয়েশা আক্তার শিমু বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের নুরু মিয়ার মেয়ে।

জানা গেছে, শিমুকে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। শিমুর বাড়ির চারদিকে বর্ষার পানি থাকায় তাকে নৌকায় করে বাড়ি থেকে বের করে রাস্তার ধারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গাড়িতে করে মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তাদের কাছে সাপে কাটার ভ্যাকসিন নেই। কোথায় এ ভ্যাকসিন পাওয়া যায়- সেটাও তিনি জানেন না। শিমুর কাছের মানুষরাও খোঁজ নিয়ে দেখে টাঙ্গাইলের কোথাও সাপে কাটা ভ্যাকসিন পাওয়া যায় কি না, এ তথ্য চেনা জানা কারো কাছেই পাওয়া যায়নি।

তারপর রাত একটায় ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে আদরের মেয়েটি আর নেই। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় শিমুকে বাড়িতে আনা হয়। শিমুর এমন অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না তার পরিবার। সাপে কাটা মানুষ নাকি কয়েকদিন বেঁচে থাকে, এমন খবরে ওই দিনই বৃহস্পতিবার আবার শিমুকে রাত দুইটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। কিন্তু সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। শিমুর বাবা নুরু মিয়া কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না তার মেয়েটি আর নেই।

মেলা খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালেই ছিল সাপ কাটার ভ্যাকসিন। সেখানকার তত্ত্বাবধায়ক ডা. পুতুল রায় বলেন, সাপের কাটা ভ্যাকসিন সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে থাকে। চাহিদা দেয়া মাত্রই ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে হয়তো সাপে কাটা রোগীকে বাঁচানো যেতো।

সামান্য এটুকু তথ্যের জন্য এরকম একটি তরতাজা প্রাণ ঝরে গেলো, এটা এখনো মেনে নিতে পারছে না শিমুর পরিবার এবং বন্ধুরা। তারা এখনো বারবার ঘুরে ফিরে দেখছেন শিমুর শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসটি। সেখানে আকুতি ভরে তার শেষ স্ট্যাটাসটি এখনো আকুতি ভরে জিজ্ঞেস করছে “টাঙ্গাইলের কোথাও কি সাপের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়?

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/কেএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত