নদীর কাছেই ফিরে যেতে হবে

ইসরাফিল হোসাইন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৭:২৩

‘দখল-দূষণমুক্ত প্রবহমান নদী, বাঁচবে প্রাণ ও প্রকৃতি’ স্লোগান সামনে রেখে চতুর্থবারের মতো পালিত হলো নদীর জন্য পদযাত্রা। নদী রক্ষার শপথ নিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

শনিবার সকাল দশটায় পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে প্রায় ৫০টি সংগঠনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথমে আলোচনা সভা ও পরে সদরঘাট পর্যন্ত পদযাত্রা হয়। পদযাত্রাটি উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

আমরা ক্রমান্বয়ে নদী থেকে দূরে সরে গেছি উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আবার নদীর কাছে ফিরে যেতে হবে। একা একা নয়, সবাই মিলে ফিরতে হবে নদীর কাছে। পদযাত্রার মধ্য দিয়ে শাণিত হবে নদী রক্ষার শপথ। একমাত্র নদী রক্ষার কাজে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়েই সতেজ নদী নিশ্চিত হতে পারে।’

নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো নানা ধরনের সংকটের মুখে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এর কারণ হিসেবে তিনি দখল, দূষণ, ভাঙন ও প্রবাহস্বল্পতার কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘নদীদূষণের কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, তেমনি আমাদের নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ছে। আমাদের আরো বেশি পরিমাণে জনগণের মাঝে নদীদূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

নদী দখল রোধে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নদী দখলকারীদের সংখ্যা খুবই কম। আমরা জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কাজ করি, তাহলে তাদের হাত থেকে নদী রক্ষা করা সম্ভব।’

ঢাকারবাসীর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে হলে সবার আগে ঢাকাবাসীকে সতর্ক হতে হবে। ঢাকাবাসী যদি তাদের গৃহস্থালি বর্জ নদীতে না ফেলে তাহলে বুড়িগঙ্গা দূষণ থেকে রক্ষা পাবে। অন্যথায় একসময় বুড়িগঙ্গাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে পদযাত্রায় আরো বক্তব্য দেন জাতীয় নদী কমিশনের সদস্য শারমীন মুরশিদ, রিভার কিপার অ্যালায়েন্সের শরীফ জামিল, রিভাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন, হাওয়া আন্দোলন নেত্রী জাকিয়া শিশির প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে নদী রক্ষার শপথবাক্য পাঠ করান আব্দুল মতিন।

রিভার কিপার অ্যালায়েন্সের শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন রিভাইন পিপল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ, হাওর অঞ্চলবাসী, জল পরিবেশ ইনস্টিটিউট, ওয়াটার কমনস, গ্রিন সেভারস, পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম, নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনসহ প্রায় পঞ্চাশটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

নদীকর্মী মার্ক অ্যাঞ্জেলোর উদ্যোগে কানাডায় ১৯৮০ সালে প্রথম দিবসটি পালিত হয়। ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ দিবসটি পালিত হতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে এতে অনুসমর্থন করে জাতিসংঘ। বাংলাদেশে ২০১০সালে দিবসটি প্রথম পালিত হয় রিভারাইন পিপলের উদ্যোগে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার এবং পরবর্তিতে অন্যান্য সংগঠন এ দিবসটি পালনে যোগ দেয়।

(ঢাকাটাইমস/২৩সেপ্টেম্বর/আইএইচ/মোআ)  

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত