রোহিঙ্গা কূটনীতিতে সরকার ব্যর্থ: জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:০৪

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় সরকার কূটনৈতিক তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘সব দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে।’

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিচার বিভাগ-সরকার বাহাস: বাংলাদেশে আইনের শাসনের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণভাবে কূটনৈতিক তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছে। এখন সময় এসেছে সরকারের সব বিভেদ ভুলে গিয়ে সব দলকে সঙ্গে নিয়ে বেইজিং যাওয়া, মস্কো যাওয়া, ভারতে যাওয়া। একা নয়, তাদের দেখানো সত্যিকার অর্থে আমরা একত্রিত হয়েছি। দেশের অর্ধেক লোককে বাদ দিয়ে এ কাজ করা যাবে না।’

নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘গত পরশু কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সমস্যা দেখে আমি আসছিলাম। কক্সবাজার এলাকার শহিদুল নামের একজন বললেন, তার নামে ৭১টি মামলা আছে, কিন্তু তিনি থাকেন ঢাকায়। কক্সবাজারে এক মাসের মধ্যেই ৭১টি মামলা হয়েছে তার নামে।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এ কথা শুনে আমি চিন্তা করছিলাম আমাদের আপিল বিভাগের বিবেকসম্পন্ন বিচারকরা কি দিনকানা। তারা ভালো খান, তাই রাতকানাতো হতে পারেন না, তারা দিনকানা। ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে তারা তাদের কিছুটা অপরাধ অবলোপন করেছেন, কিন্তু এই শহিদুলের মতো আরও ১২ থেকে ১৩ হাজার রাজনৈতিক দলের কর্মী এখন জেলে আছেন। সে সম্পর্কে তারা ‍দিনকানা না হলে তাদের কি কোনোক্রমে মনে হয়নি এই সম্পর্কে সংবিধানের ভিত্তিতে তারা একটা কিছু করতে পারতেন।’

বিচারকদের সংবিধানের রক্ষক, সংবিধানের ধারক আখ্যা দিয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘তাদের দিনকানা বলছি কারণ সংবিধানে আছে, যে দেশেই জনগণের মুক্তির আন্দোলন হবে তাকে সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সমর্থন করবে। এটিই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা ছিল। ৭২ এর সংবিধানে ছিল, এখনো আছে।’

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘কাশ্মিরে গণহত্যা চলছে, আমাদের সরকার বা বিচার বিভাগ একবারও শব্দ করেনি আমরা সংবিধান ভঙ্গ করছি। রাখাইনের আরাকানে সেটাতো আমরা দেখতেই পাচ্ছি কী হচ্ছে।’

সুশীল সমাজের এই সদস্য বলেন, ‘এখন যখন ফেসবুকে সিনহা সাহেবকে নিয়ে (প্রধান বিচারপতি) বাজে কথা হচ্ছে জজ সাহেবরা চুপ করে আছেন। একজনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়নি। কিন্তু আমি কী বলেছিলাম! আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আপনারা রাজাকারের খাতায় রাখতে পারেন না, সেটাই ছিল আমার আদালত অবমাননা।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘এখন দিনকানা জজ সাহেবদের প্রমাণ করার সময় এসেছে তারা জনগণের পক্ষে। আজকে আমাদের আশেপাশের দেশের বিচার বিভাগ দেখলে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায়। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ মনিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে যে ১৫০০ জন মারা যায় এর তালিকা প্রকাশ করার কথা বলেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাদের ৩০ লাখ শহীদের তালিকা প্রকাশ করেনি সরকার। ৩০ লাখের কথাই বলে যাচ্ছে। কিন্তু একবারও বলেনি যে সাত লাখ লোক ভারতের ক্যাম্পগুলোতে, ভারতের মাটিতে মারা গিয়েছে তাদের কথা। আজ পর্যন্ত ভারত তাদের তালিকা হস্তান্তর করেনি।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘ভারত জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কেবল কাশ্মিরে নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতে নয়, মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও। ভারত মায়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে এবং তারা নির্দেশ দিয়েছে কোনো রকম শরণার্থী ভারতে যেন না ঢুকতে পারে।’

পাকিস্তানের আদালতের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের হাইকোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে পদচ্যুত করেছে। আমাদের বিচারকদেরও আমরা এমনই চাই। বাংলাদেশেও এই জাতীয় সাহস দরকার, তারাও জনগণের পক্ষে দাঁড়াক। এক ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে এখন তাদের স্বার্থ জড়িত তাই কথা বলছে। এটা ন্যায়সঙ্গত। অন্য ক্ষেত্রেও তারা জনগণের পক্ষে দাঁড়াক। তা না হলে দিনকানা বিচারকরা জনগণের রোষানল থেকে রেহাই পাবে না।’  

(ঢাকাটাইমস/২৩সেপ্টেম্বর/জেআর/জেবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত