দুর্গা পূজায় খুলনার ৮৮৫ মণ্ডপে তিন স্তরের নিরাপত্তা

সোহাগ দেওয়ান, খুলনা
 | প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২০:৫৫

নগরীতে দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। মূর্তি তৈরি ও সাজ-সজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছে পূজা সংশ্লিষ্ট সকলে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই বড় উৎসবকে ঘিরে তিন স্তরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্টের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।

এবছর খুলনা নগরীতে ১২২টি ও জেলায় ৭৭৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর দেবীর বোধনের মাধ্যমে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠি পূজা আর ৩০ সেপ্টেম্বর বিসর্জন। কেন্দ্রীয় পূজা পরিষদের ঘোষণা অনুযায়ী নগরীতে রাত ১০টার মধ্যে দেবীর বিসর্জনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ রাত ৮টা।

এদিকে শারদীয় উৎসব পালনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। দুর্গা দেবীর আগমনে প্রতিবারের ন্যায় এবছরও প্রতিটি মন্দিরে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এবছর দুর্গার আগমন নৌকায় আর গমন ঘোটকে (ঘোড়ায়)।

রূপসা মহাশ্মশান ও শ্মশান কালী মন্দিরের পুরোহিত সুরেশ চক্রবর্ত্রী বলেন, মায়ের আগমন নৌকায় হলে ‘শষ্য বৃদ্ধি তথা স্তথা জলম’ অর্থাৎ এবছর দেশে ফলন বৃদ্ধি পাবে ও বন্যা হবে। আর মায়ের গমন ঘোটকে হলে ‘ছত্রভঙ্গ স্তরঙ্গমে’ অর্থাৎ সবকিছুতে ভাঙন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে মোট ১২২টি পূজা মণ্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হবে, যা গত বছরের চেয়ে ৬টি বেশি। এর মধ্যে খুলনা সদর থানায় ২৩টি, সোনাডাঙ্গা থানায় ১১টি, খালিশপুর ৮টি, দৌলতপুরে ১৮টি, খানজাহান আলীতে ৬টি, হরিণটানায় ৫টি, লবনচরায় ৯টি আড়ংঘাটায় ৪২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবছর নগরীতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোন পূজা উদযাপনের খবর পাওয়া যায়নি।

খুলনা মেট্রপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র সূত্রে জানা যায়, পূজায় নগরীতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্দির, সড়ক ও বিশেষ বিশেষ স্থানে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে ৮জন, ৬ জন ও ৪ জন করে পুলিশ ও ১২ জন আনসার সদস্য পৃথক ভাবে নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত থাকবে। দুটি মণ্ডপের জন্য একটি টহল টিম ছাড়াও সাদা পোশাকে পৃথক টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। বর্তমান রোহিঙ্গা সমস্যকে ইস্যু করে যাতে কেউ নাশকতা ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারেও গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুণ্ডু জানান, পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করবে। প্রতিটি মণ্ডপে ১৫-২০ জন করে এবং ১২২টি মণ্ডপে প্রায় ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। বর্তমান রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আমাদের বড় উৎসব। এই উৎসব পালনে রোহিঙ্গাদের ইস্যু করে কেউ যাতে নাশকতা না করতে সে ব্যাপারে প্রশাসনের কঠর নজরদারি করা দরকার। সার্বজনীন উৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে অংশগ্রহণ করার জন্য তিনি নিমন্ত্রণ জানান।

খুলনা জেলার পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা ঢাকাটাইমসকে জানান, জেলার ৭৭৩টি মণ্ডপের মধ্যে ১৬৫টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আমরা বিবেচনা করছি। গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট পূজা পরিচালনা কমিটিকে অবহিত করেছি। পুলিশ আনসার ও পিডিপি সদস্যদের সমন্বয়ে প্রতিটি মন্ডপে ১০-১২ জন করে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এছাড়াও টহল টিম ও সাদা পোশাকের পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাকে ইস্যু করে যাতে কোন নাশকতা না ঘটে সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর ঢাকাটাইমসকে জানান, ইতোমধ্যে মণ্ডপগুলোতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে আমাদের সব ধরনে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চলছে। রোহিঙ্গা ইস্যুসহ সবধরণের বিষয় বিবেচনায় আমাদের গোয়েন্দারা তৎপর রয়েছে। এখন পর্যন্ত তেমন কোন খবর পাওয়া যায়নি।

(ঢাকাটাইমস/২৩সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত